৬ দিনে প্রাথমিক শিক্ষকদের আমরণ অনশন!

0

ওয়েবডেস্ক: টানা পাঁচ দিন পার হয়ে ছ’দিনে পড়ল সল্টলেকের উন্নয়ন ভবনের সামনে প্রাথমিক শিক্ষকদের অনশন। পিআরটি স্কেল অনুয়ায়ী বেতন কাঠামো চালু, অনৈতিক ভাবে বদলি করা শিক্ষকদরে পুরনো স্কুলে ফিরিয়ে নিয়ে আসা-সহ একাধিক দাবি চলছে ওই অনশন।

ধরনা এবং অনশন মঞ্চ থেকে আন্দোলনরত শিক্ষকেরা দাবি করেছেন, “পিআর‌টি স্কেল আমাদের দাবি নয়, আমাদের অধিকার। ১৮ জন প্রাথমিক শিক্ষকের ওই আমরণ অনশন যে দাবি না পূরণ হওয়া পর্যন্ত জারি থাকবে, সেটাও স্পষ্ট করে দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা। তাঁদের যুক্তি, ভারতের বেশ কয়েকটি রাজ্যের তুলনায় এ রাজ্যের প্রাথমিক শিক্ষকদের বেতন প্রায় অর্ধেক। এই বৈষম্য ঘোটাতেই তাঁরা আন্দোলন জারি রাখবেন”।

প্রাথমিক শিক্ষকদের এই আন্দোলন কি রাজনৈতিক প্রভাবিত? এমন প্রশ্নের উত্তরে এক শিক্ষক জানান, “সেটা কারও কারও মনে হতেই পারে। তবে আমাদের আন্দোলন এই ব্যবস্থার বিরুদ্ধে। এটা মোটেই কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দল অথবা সরকারের বিরুদ্ধে। আমরা বলেছি, পিআরটি স্কেলে বেতন দিতে হবে। অনৈতিক ভাবে যে সমস্ত শিক্ষককে বদলি করা হয়েছিল, তাঁদের পুরনো স্কুলে ফেরাতে হবে। আন্দোলন করার ‘অপরাধে’ ১৪ জন শিক্ষককে কয়েকশো কিমি দূরের স্কুলে বদলি করা হয়েছে, তাঁদের ফেরাতে হবে নিজের স্কুলে। এগুলোর মধ্যে যাঁরা রাজনৈতিক স্লোগান খুঁজে বেড়াচ্ছেন, খুঁজুন”!

অন্য আর এক শিক্ষক জানান, “অনেকেই ভুল করে ভাবছেন আমরা হয়তো বেতন বাড়ানোর দাবিতে আন্দোলনে শামিল হয়েছি। কিন্তু আদতে তা নয়। আমরা বেতন বৈষম্য ঘোচানোর দাবি তুলেছি”।

তবে তাঁরা না চাইলেও এই আন্দোলনে সরাসরি সরকার বিরোধিতার তকমা লেগে গিয়েছে। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, অনশন-ধরনায় অংশগ্রহণকারীদের বিপাকে ফেলতে জলের লাইন কেটে দেওয়া হয়েছে। এমনকী শৌচালয়েরও কোনো বন্দোবস্ত নেই। অন্য দিকে আন্দোলনকারীদের পাশে দাঁড়াচ্ছেন সমাজের বিভিন্ন স্তরের বিশিষ্টরাও। গত বুধবারই নিজের বাড়িতে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে দেখা করে তাঁদের পাশে থাকার লিখিত বার্তা দেন কবি শঙ্খ ঘোষ।

আরও পড়ুন: পার্থর হুঁশিয়ারি, আরও বেশ জেদি অনশনরত প্রাথমিক শিক্ষকেরা

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.