অরাজনৈতিক ছাত্র সংসদও নয়, অধ্যক্ষের ফতোয়ায় রাত পর্যন্ত ঘেরাও জলপাইগুড়ি পলিটেকনিকে

0

এই নোটিশকে কেন্দ্র করে বিক্ষোভ।[/caption] বুধবার ওই নোটিশ দেওয়ার পর থেকেই ক্ষোভ জমতে শুরু করে ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে। তাঁরা কলেজের অধ্যক্ষ পূজন সরকারের সঙ্গে কথাও বলেন। কিন্তু ছাত্রদের অভিযোগ, অধ্যক্ষ ছাত্র সংসদ তুলে দেওয়ার কোনো সরকারি নির্দেশিকা দেখাতে পারেননি। এর পরেই বিকেল পাঁচটা নাগাদ কলেজের প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেন ছাত্রছাত্রীরা। গেটের সামনেই বসে পড়ে স্লোগান দিতে থাকে প্রায় সাড়ে চারশো ছাত্রছাত্রী। কলেজের বর্তমান ছাত্র সংসদের সাধারণ সম্পাদক সুমন নস্করের বক্তব্য, অধ্যক্ষ এই সিদ্ধান্তের কোনো সরকারি নির্দেশিকা দেখাতে পারেননি। তাই তাঁরা এই নির্দেশ মানবেন না। সোনু লোহিয়া নামে তৃতীয় বর্ষের এক ছাত্রী অভিযোগ জানিয়েছেন,  অধ্যক্ষ সমস্ত ক্ষমতা নিজেই কুক্ষিগত করার জন্য এই ধরনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তবে এই সিদ্ধান্ত নিয়ে মুখে কুলুপ এঁটেছেন কলেজের অধ্যক্ষ পূজন সরকার। সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে এই নিয়ে তিনি কোনো কথা বলতে চাননি। তবে সূত্রের খবর,  গত ১৬ আগস্ট কলকাতায় কারিগরি শিক্ষা দফতরের একটি বৈঠকে মৌখিক ভাবে সরকারি পলিটেকনিক কলেজগুলি থেকে ছাত্র সংসদ উঠিয়ে দেওয়ার কথা বলা হয়। কারণ হিসেবে দেখানো হয়,  বিভিন্ন সময় ছাত্রভর্তির ক্ষেত্রে ছাত্র সংসদ প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করে বলে অভিযোগ উঠেছে বিভিন্ন কলেজে। আবার সোশ্যাল,  নবীনবরণ বা অন্যান্য অনুষ্ঠানের জন্য ছাত্রদের কাছে চাঁদা তোলে সংসদ, সে ক্ষেত্রেও আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগও ওঠে। যদিও এই সব অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়ে ছাত্রদের পালটা দাবি, সমস্ত ক্ষমতা অধ্যক্ষ এবং কলেজ কর্তৃপক্ষের হাতে তুলে দেওয়ার জন্যই এই সিদ্ধান্ত। তবে অধ্যক্ষ মুখ না খোলায় এই ধরনের কোনো নির্দেশিকা আদৌ জারি হয়েছে কি না তা নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং-এর দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী ইশিতা সাহা জানিয়েছেন, কলেজে যে নির্দেশিকা দেওয়া হয়েছে তা কারিগরি শিক্ষা দফতরের নয়। এই কলেজের প্যাডে,  কলেজের অধ্যক্ষের সই করা একটি নির্দেশিকা। সাধারণ সম্পাদক সুমন নস্করের বক্তব্য, সরকারি সিদ্ধান্ত হলে তা সমস্ত পলিটেকনিক কলেজের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হবে। কিন্ত রাজ্যের অন্য কলেজগুলিতে এমন নির্দেশিকা আসেনি বলে দাবি তাঁর। [caption id="attachment_48547" align="aligncenter" width="793"] ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে কথা বলছেন পুলিশ আধিকারিক ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট।[/caption] তাই সরকারি নির্দেশিকা দেখানোর দাবিতে রাত দশটা পর্যন্ত তুমুল আন্দোলন চলে। আটকে রাখা হয় প্রধান ফটক। কলেজেই আটকে দেওয়া হয় অধ্যক্ষকে। অন্যান্য অধ্যাপক ও শিক্ষাকর্মীরাও আটকে পড়েন। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে খবর যায় কোতোয়ালি থানায়। বিশাল পুলিশবাহিনী নিয়ে আসেন আইসি বিশ্বাশ্রয় সরকার। ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে আলোচনার জন্য জেলাশাসক তাঁর প্রতিনিধি হিসেবে একজন এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটকে পাঠান। তিনি দফায় দফায় ছাত্র এবং অধ্যক্ষর সঙ্গে আলোচনা করেন। ছাত্র সংসদ তুলে দেওয়ার নির্দেশিকা সরকারি সিদ্ধান্ত কি না তা খোঁজ নিয়ে দেখার আশ্বাস দেন এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট লোদেন লেপচা। আগামীকাল শুক্রবার ফের ছাত্রদের সঙ্গে আলোচনায় বসার প্রস্তাব দেন তিনি। তার পরেই রাত দশটায় বিক্ষোভ উঠিয়ে নেন ছাত্ররা। ছেড়ে দেওয়া হয় আটকে থাকা অধ্যক্ষ-সহ সকলকে। আইসি বিশ্বাশ্রয় সরকার জানান,  তাঁদের কথা মেনে নিয়ে আন্দোলন তুলে নিয়েছেন ছাত্রছাত্রীরা।]]>

dailyhunt

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন