কলকাতা: ডিহাইড্রেশন আর ডাইরিয়া নিয়ে গত বছরের ২৮ সেপ্টেম্বর শহরের এক বেসরকারি নার্সিং হোমে ভর্তি হয়েছিল ছোট্ট অভিগ্ন। প্রাথমিক চিকিৎসায় খানিকটা সুস্থও হয় অভিগ্ন। মা সুইটি সাহা তখন ছেলেকে নিয়ে ঘরে ফেরার অপেক্ষায়। ঠিক তখনই এক নার্স এসে ইন্ট্রাভেনাস ইঞ্জেকশন দেয়। অভিগ্নর পরিবার অভিযোগ করেছে, তারপর থেকেই মৃতপ্রায় হয়ে পড়ে রয়েছে ছোট্ট ছেলেটা। সুইটির স্বামী মনোজিতের অভিযোগ, অনভিজ্ঞ নার্স জানতেন না পটাসিয়াম সরাসরি শিরায় না দিয়ে স্যালাইনের মাধ্যমে শরীরে ঢোকাতে হয়। তাতেই শিশুটির মস্তিস্ক কোষের মৃত্যু হয়।

অভিগ্নর বাড়ির লোকের অভিযোগ, নার্সিংহোম তাদের রিপোর্টে নিজেদের ভুল স্বীকার না করে লিখেছে, মায়ের হাত থেকে খেতে গিয়ে গলায় লেগে হৃদরোগে আক্রান্ত হয় শিশুটি। পরিস্থিতি হাতের বাইরে বেরিয়ে যাওয়ার পর শিশুটিকে বদলি করা হয় অন্য আরেকটি বেসরকারি নার্সিংহোমে। নিজেরা কোনো টাকা নেয়নি, উল্টে বদলি হওয়া দ্বিতীয় নার্সিংহোমের বিলের অনেকটাই দিয়ে দেয় তারা। সেখান থেকেই খটকা লাগা শুরু। শেষমেশ মনোজিৎবাবু  অসরকারি সংস্থা পিবিটি (পিপল ফর বেটার ট্রিটমেন্ট)-এর দ্বারস্থ হন। ওদের সাহায্যে সোমবার অভিযোগ জানানো হয় শেক্সপিয়ার সরণি থানায়। অপচিকিৎসা এবং ষড়যন্ত্রের অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকেই পলাতক অভিজুক্ত নার্স পুনম দেবনাথ। পিবিটির  প্রেসিডেন্ট কুণাল সাহা বলেছেন, নার্সের পাশাপাশি চিকিৎসকেরও দোষ আছে। নার্সকে ঠিকমতো নির্দেশ দেওয়া হয়নি।

অভিগ্নর পরিবার চায়, এই অপরাধের শাস্তি হোক। কেড়ে নেওয়া হোক ওই নার্সিংহোম এবং ওই চিকিৎসকের লাইসেন্স। সুবিচার পাওয়ার আশায় ওরা খুব শিগগির দেখা করবেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here