মুখ্যমন্ত্রীর ‘আমার পাহাড়’ বিতরণ বুঝিয়ে দিল পাহাড় নিয়ে কতটা চাপে শাসকদল

0
803

নিজস্ব সংবাদদাতা, জলপাইগুড়ি: যত দিন যাচ্ছে,পাহাড় পরিস্থিতি ঘোরালো হয়ে উঠছে। উদ্বেগ বাড়ছে রাজ্যের শাসকদলেরও। সুর যতই চড়া করুন শাসকদলের নেতারা, পাহাড়ের আন্দোলন-অশান্তি যে উৎকন্ঠায় রেখেছে, তা শাসকদলের কথাবার্তায় বেরিয়ে পড়ছে। এমনকি সমতলের সরকারি অনুষ্ঠানেও উঠে আসছে পাহাড়-প্রসঙ্গ।

বিতরণ করা হয় এই বই।

যেমন, মঙ্গলবার জলপাইগুড়ির সরোজেন্দ্র দেব রায়কত কলাকেন্দ্রে কৃতি ছাত্রছাত্রী ও গুণীজনদের সংবর্ধনার আয়োজন করেছিল শিলিগুড়ি জলপাইগুড়ি ডেভেলপমেন্ট অথরিটি। সেখানেও অনিবার্যভাবে এসে পড়ল পাহাড় প্রসঙ্গ। এই অনুষ্ঠানে ছাত্রছাত্রীদের হাতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখা বেশ কিছু বই তুলে দেওয়া হয়। তার মধ্যে একটি বই ‘আমার পাহাড়’। বাকি বইগুলির মধ্য থেকে এই বইটি তুলে নিয়ে এসজেডিএ-এর চেয়ারম্যান তথা আলিপুরদুয়ারের বিধায়ক সৌরভ চক্রবর্তী বলেন, “কৃতী ছাত্রছাত্রীদের হাতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখা সবচেয়ে প্রয়োজনীয় ‘আমার পাহাড়’ বইটি তুলে দেওয়া হবে। যে পাহাড় আমাদের বুক দিয়ে, হৃদয় দিয়ে রক্ষা করব সেই পাহাড়কে।” এই ঘটনাই প্রমাণ করে, নতুন করে শুরু হওয়া গোর্খাল্যান্ড আন্দোলন কতটা চাপে রেখেছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তাঁর সরকারকে।

পোড়ানো হল জিটিএ চুক্তিপত্র

পাহাড়ে পোড়ানো হয় জিটিএ চুক্তিপত্র।

এ দিকে মঙ্গলবারও বেশ উত্তপ্ত ছিল পাহাড়। পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী কেন্দ্র ও রাজ্যের সঙ্গে হওয়া জিটিএ চুক্তিপত্র আগুনে ফেলে পুড়িয়ে দেয় মোর্চা। দার্জিলিং, কালিম্পং, পিনটেল ভিলেজ-সহ ৪৫টি জায়গায় এই কর্মসূচি পালন করা হয়। বেশ কয়েকটি জায়গায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কুশপুতুলও পোড়ানো হয়। চকবাজারে পিঠে টিউবলাইট ভেঙে প্রতিবাদ জানান যুব মোর্চার সমর্থকরা। গোর্খাল্যান্ডের দাবিতে আত্মাহুতি দেওয়ারও হুমকি দেওয়া হয়। মোর্চা নেতা বিনয় তামাং জানিয়েছেন, “জিটিএ-এর অস্তিত্ব শেষ। আন্দোলন আরও তীব্র হবে। গোর্খাল্যান্ড আদায় করবই।” এর মাঝে লোহাপুলে একটি সরকারি বাস ভাঙচুর এবং তাকদায় বিডিও অফিস পুড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে মোর্চা সমর্থকরা।

এই উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে দিশা খুঁজতে আগামী ২৯ জুন পাহাড়ের রাজনৈতিক দলগুলিকে নিয়ে সর্বদল বৈঠকে বসছে মোর্চা। সেখানেই আন্দোলনের পরবর্তী কর্মসূচি ঠিক হবে। তবে অন্দরের খবর, পাহাড়ে বন্‌ধ নিয়ে চাপে রয়েছে মোর্চা নেতৃত্ব। সর্বদল বৈঠকে অন্য দলগুলি বনধের বিরোধিতা করলে,অন্য কী পথ বেছে নেওয়া হবে তা-ই নিয়ে নিজেদের অভ্যন্তরে আলোচনা চালাচ্ছেন বিমল গুরুং, রোশন গিরি, বিনয় তামাংরা। কারণ রাজ্য এবং কেন্দ্রের বিরুদ্ধে একযোগে লড়তে গেলে পাহাড়ের অন্য দলগুলি ছাড়া তা সম্ভব নয়। আন্দোলনের বিরুদ্ধে রাজ্য সরকার কড়া অবস্থান নিচ্ছে এবং কেন্দ্র চুপ করে থেকে যে তাতে সায় দিচ্ছে মোর্চা তা হাড়েহাড়ে টের পেয়েছে। বুঝতে পারছে, একা লড়া সম্ভব নয়। বিশেষ করে বিগত কয়েক দিনের ঘটনায় যে মোর্চা বেশ কিছুটা কোনঠাসা তা স্পষ্ট।

এক ক্লিকে মনের মানুষ,খবর অনলাইন পাত্রপাত্রীর খোঁজ

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here