পাথরের গায়ে স্থানীয়দের লেখা

শুভদীপ চৌধুরী, পুরুলিয়া: জেলা চতুর্দিকে ঘেরা পাহাড় দিয়ে । পুরুলিয়ার কোথাও রয়েছে অযোধ্যা, কোথাও জয়চণ্ডী আবার কোথাও রয়েছে বেড়োর মতো বড়ো বড়ো পাহাড় । তারই মধ্যে শীত পড়লেই জয়চণ্ডী ও বেড়োতে চলে খাড়া পাহাড়ে চড়ার প্রশিক্ষণ । কিন্তু গত বছর ২০১৭ সাল থেকেই পুরুলিয়া জেলার বেড়ো পাহাড়ে শুরু হয়েছে পাহাড় কেটে গ্রানাইট হাব তৈরির কাজ । ইতিমধ্যে কেটেও ফেলা হয়েছে এই পাহাড়ের কিছুটা অংশ ।

চলছে পাহাড় কাটার কাজ

জেলায় এই পাহাড়কে ঘিরে রয়েছে অনেক ইতিহাস । ডিসেম্বর মাসে এই পাহাড়ে অবস্থিত চণ্ডীমন্দিরকে ঘিরে বসে মেলা । জেলার বিভিন্ন প্রান্ত তথা বাইরের অনেক জেলার লোকেই দেখতে আসেন এই বেড়ো মেলা । কিন্তু পাহাড় কেটে ফেলার জন্য মেলা আর না বসার সম্ভাবনাই রয়েছে বলে ভয়ে রয়েছেন অনেকেই বলে জানান স্থানীয়রা । পাশাপাশি এই পাহাড়ে বাইরের জেলার অনেকেই নভেম্বর ও ডিসেম্বরে আসেন পাহাড়ে চড়াইয়ের প্রশিক্ষণ নিতে, কিন্তু তাও আর হবে না ভেবে ভীত অনেকেই । যদিও এই পাহাড় যাতে না কাটা হয় সেই বিষয়ে প্রতিবাদ করেছেন স্থানীয় অনেকেই, বিভিন্ন পাথরের গায়ে লেখে রেখেছেন,”পাহাড় ও গাছ কাটা চলবে না, প্রকৃতি রক্ষা করো “।  কিন্তু সংশ্লিষ্ট সংস্থা কোনোমতেই তা শুনতে নারাজ বলে দাবি স্থানীয় বাসিন্দাদের ।

এই মন্দিরকে বেষ্টন করে বসে মেলা

অন্যদিকে, যে সংস্থার তরফে পাহাড় কেটে গ্রানাইট হাব তৈরির কাজ চলছে তারা জানিয়েছে, পাহাড়ের পিছন দিকের অংশ কাটা হচ্ছে গত বছর থেকেই, যেখানে প্রশিক্ষণের দলের সদস্যরা আরোহণ করেন না ও বছরের মেলার ক্ষেত্রেও অসুবিধে হবে না । এতে স্থানীয়দের ও প্রশিক্ষণ দলের অসুবিধের কোনো প্রশ্নই ওঠে না । সবার কথা মাথায় রেখেই এই পাহাড় কাটা হচ্ছে ।

আরও পড়ুন: বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে বউদির সঙ্গে সহবাস করে গারদে যুবক

তাদের দাবি, ইতিমধ্যে অনেকখানি কেটেও ফেলা হয়েছে, কিন্তু কাজ সম্পূর্ণ করার জন্য চাই স্থানীয়দের সহযোগিতা, তবেই পুরুলিয়া পাবে জেলায় এক গ্রানাইট হাব ।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here