আসছে কোটাল, ভয়ে কাঁটা ‘ইয়াস’-বিধ্বস্ত উপকূলের বাসিন্দারা

0

খবরঅনলাইন ডেস্ক: ঘূর্ণিঝড় ‘ইয়াস’-এর জেরে প্রবল জলোচ্ছ্বাসের ঘা এখনও দগদগে। দিন কয়েকের মধ্যে অমাবস্যার ভরা কটালে ফের জলোচ্ছাসে আতঙ্কে কাঁপছে পূর্ব মেদিনীপুর এবং দুই ২৪ পরগণার উপকূলবর্তী অঞ্চলের মানুষ।

ঘূর্ণিঝড় ইয়াস বহু মানুষের আশ্রয় কেড়ে নিয়েছে। তার সপ্তাহ দুয়েকের মাথায় ফের কটালে প্লাবনের আশঙ্কায় ঘুম উড়েছে সমুদ্র ও নদীর উপকূলের বালিন্দাদের। ইয়াসের পর বিভিন্ন জায়গায় কটালের কথা ভেবে যুদ্ধাকালীন তৎপরতারয় নদীবাঁধ মেরামতির নির্দেশ দেয় রাজ্য সরকার।

Loading videos...

এই নির্দেশ মতো কিছু কিছু জায়গায় কাজও শুরু হয়েছে। কিন্তু অমাবস্যার কটালে জলের চাপ কতটা আটকানো যাবে তা সংশয়ে ওই সব এলাকার বাসিন্দারাই।

মঙ্গলবার ইয়াস পরবর্তী পরিস্থিতি পরিদর্শনে এসেছিলেন কেন্দ্রীয় দলের সদস্যরা। রাজ্যের তিন জেলার পরিস্থিতি দেখে তারা নিশ্চিত হন যে পূর্ব মেদিনীপুরের অবস্থাই সব থেকে খারাপ। তবে কটালের আগে সমুদ্র বাঁধ মেরামতির কাজ শেষ হয়ে যাবে বলে প্রশাসন অবশ্য দাবি করছে।

এ ব্যাপারে সেচ দফতরের এগজিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার উত্তম কুমার হাজরা সাংবাদিকদের বলেন, ‘‘হুগলি এবং হলদি নদীর যে সব অংশে বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল সে সব জায়গায় সারানোর কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। দ্রুতগতিতে সমুদ্র বাঁধ মেরামতের কাজ চলছে।’’

আতঙ্কে সুন্দরবনও

গত বছর উম্পুনও যা ক্ষতি করেনি, এ বার তা করে দিয়ে গেছে ‘ইয়াস।’ বাঁধ ভেঙে জল ঢুকে প্লাবিত হয়েছে গ্রামের পর গ্রাম। কৃষিজমি এবং মাছের ভেরিতে নোনা জল ঢুকে ক্ষতিগ্রস্ত সব কিছু। এরই মধ্যে আবার কোটালের চিন্তা সুন্দরবনে।

এ বার কোটালের সঙ্গে জুড়বে একটি নিম্নচাপও। সেটি ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত না হলেও গভীর নিম্নচাপ পর্যন্ত শক্তি বাড়াতে পারে। এর ফলে জলোচ্ছ্বাস ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।

সেই জল আটকাতে ইতিমধ্যেই দুই ২৪ পরগণার ইয়াস-বিধ্বস্ত বাঁধগুলি মেরামতের কাজ শুরু করেছে প্রশাসন। তবে এই ক’দিনে ক্ষতিগ্রস্ত সব বাঁধ মেরামত করা যাবে কিনা, তা ভেবে আতঙ্কিত উপকূল এলাকার বাসিন্দারা। তড়িঘড়ি মেরামত হলেও, কাঁচা মাটি জোয়ারের জল ধরে রাখতে পারবে কিনা, সেই প্রশ্নও উঠছে। এর মধ্যেই আতঙ্ক বাড়িয়ে হিঙ্গলগঞ্জের একটি সদ্য মেরামত হওয়া বাঁধে ধস নেমেছে।

কাকদ্বীপ মহকুমার পাথরপ্রতিমা, নামখানা ও সাগর ব্লকে বহু নদী বাঁধ ভেঙেছে ইয়াসে। কোথাও কাজ চলছে, কোথাও এখনও কাজ শুরু হয়নি। প্রশাসনের কর্তারা বলছেন, কটালের আগেই বাঁধের কাজ শেষ করা হবে। তবে এত কম সময়ে এত বাঁধ মেরামত সম্ভব নয় বলেই মত স্থানীয়দের একাংশের। ফলে কটালে জল আটকানো নিয়ে আশঙ্কিত তাঁরা।

আরও পড়তে পাড়েন ‘আর্থ মুভার’-এ নদী পেরিয়ে লাদাখের গ্রামে পরিষেবা দিতে যাচ্ছেন কোভিড যোদ্ধারা, ভাইরাল হল ছবি

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.