Connect with us

ধর্মকর্ম

কাজলার শ্রীরামকৃষ্ণ প্রেমবিহারে শ্রীরামকৃষ্ণের বিশেষ পূজা

নরনারায়ণ সেবার মধ্য দিয়ে আশ্রমের এই উদ্যোগটি সুসম্পন্ন হয়।

Published

on

নিজস্ব সংবাদদাতা: পূর্ব মেদিনীপুরের পটাশপুরের কাছে কাজলা গ্রামে শ্রীরামকৃষ্ণ প্রেমবিহার আশ্রমের শাখা স্থাপিত হয়েছে। গত রবিবার ওই কাজলা শাখায় স্বামীজির ১৫৯তম জন্মতিথি উপলক্ষ্যে ঠাকু্র শ্রীরামকৃষ্ণদেবের বিশেষ পূজা সম্পন্ন হল।

এই উপলক্ষ্যে ৪ ফেব্রুয়ারি থেকে ৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আশ্রমপ্রাঙ্গণে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনু্ষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। শিশুদের অঙ্কন প্রতিযোগিতা, স্বামীজির উপর কু্ইজ এবং শিশুদের মূল্যবোধ শিক্ষার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের শুভ সূচনা হয়।

Loading videos...

চার দিনব্যাপী এই অনুষ্ঠানের শেষ দিনে ছিল মহিরাবণবধ পালা। এই পালায় গ্রামবাসীদের স্বতঃস্ফূর্ত যোগদান সমগ্র অনুষ্ঠানে এক অনন্য মাত্রা যোগ করে।

সব শেষে নরনারায়ণ সেবার মধ্য দিয়ে আশ্রমের এই উদ্যোগটি সুসম্পন্ন হয়।

আরও পড়ুন: বরানগরের জয় মিত্র কালীবাড়িতে পশুবলি বন্ধ হয়েছিল বালানন্দ ব্রহ্মচারীর বিধানে

ধর্মকর্ম

অন্নপূর্ণাপুজো: বরানগর ও বিরাটির দুই দে বাড়িতে পুজোর আয়োজন

বর্তমানে কলকাতায় বহু বাড়িতে অন্নপূর্ণা পুজো হয়ে থাকে। তাদের পুজো বয়সে নবীন হলেও আন্তরিকতা এবং নিষ্ঠায় কোনো খামতি নেই।

Published

on

বিরাটির দে বাড়ি ও বরানগরের দে বাড়ির অন্নপূর্ণা পূজা।

শুভদীপ রায় চৌধুরী

জগৎসংসারে সমস্ত কিছুরই উৎপত্তির মূলে রয়েছেন সেই আদি শক্তি মহামায়াই। তাঁর বিভিন্ন লীলায় এবং বিভিন্ন রূপের মাধ্যমে জগতকে উদ্ধার করেছেন। তাঁর সমস্ত রূপের মধ্যে দেবী অন্নপূর্ণার রূপ, যা বিশ্বসংসারকে অন্ন প্রদান করে এবং কেউ যেন অভুক্ত না থাকে সেই বার্তাই প্রদান করে। তিনি স্বয়ং দেবাদিদেব মহাদেবকে ভিক্ষাপ্রদান করছেন। পাশে কোথাও রয়েছে নন্দী মহারাজ, আবার কোথাও তাঁর সহচরী জয়া।

Loading videos...

বর্তমানে কলকাতায় বহু বাড়িতে অন্নপূর্ণা পুজো হয়ে থাকে। তাদের পুজো বয়সে নবীন হলেও আন্তরিকতা এবং নিষ্ঠায় কোনো খামতি নেই। বেলঘরিয়ার তিয়াস ও বরানগরের আকাশজ্যোতি দু’ জনেই ব্যস্ত বাড়ির পুজোর প্রস্তুতি নিয়ে।

বরানগরের দে বাড়ির অন্নপূর্ণা।

বরানগর থানার কাছে দে বাড়ির অন্নপূর্ণাপুজো এ বার ৩২ বছরে পদার্পণ করল। প্রথমে দেবীর চিত্রপটে পুজো হলেও পরবর্তী কালে বিগ্রহ প্রতিষ্ঠিত হয় দে বাড়িতে। এই বাড়ির পুজো তন্ত্রমতে হয় এবং পুজোর দিন দেবীকে রাজবেশে সাজানো হয়।

বহু ব্যস্ততার মধ্যেও আকাশজ্যোতি জানালেন, পুজোর দিন দেবীকে মুকুট, লহড়ীকান, চৌদানি, পাঁচকল্কা, নথ, টিকলি ইত্যাদি নানা গহনা পরানো হয়। পুজোর দিন দেবী চণ্ডীর পুজো হয় এবং চণ্ডীপাঠ হয়।

অন্নপূর্ণাপুজোয় দেবীকে অন্নভোগই নিবেদন করা হয়ে থাকে। ভোগে থাকে সাদা ভাত, পাঁচ রকমের সিদ্ধ, ৯ রকমের ভাজা, শুক্তানি, পনীর, পোলাও, তিন রকমের মাছ, চাটনি, পায়েস ইত্যাদি। এ ছাড়াও দেবীকে সেই দিন ১০৮টি দীপ নিবেদন করা হয় এবং পুজোর পরের দিন শ্রীধর জিউকে কেন্দ্র করে রামনবমীর পুজো হয় দে বাড়িতে। তবে এ বছর করোনা ভাইরাসের কারণে বিভিন্ন বিধিনিষেধ রয়েছে পুজোয়। নিমন্ত্রিত অতিথিদের জন্য স্যনিটাইজার এবং থার্মাল স্ক্রিনিংএর ব্যবস্থা করা হয়েছে। সকল ভক্তকে সামাজিক দূরত্ববিধি মেনে এবং মাস্ক পরে আসতে হবে পুজোয়, এমনটিই জানালেন আকাশজ্যোতি দে।

বিরাটির দে বাড়ির অন্নপূর্ণা।

অপর দিকে বিরাটির দে বাড়িতেও চলছে অন্নপূর্ণেশ্বরীর বিশেষ আয়োজন। সেই বাড়ির পুজোর মূল উদ্যোক্তা হলেন তিয়াস দে। বরানগর দে বাড়ির অপেক্ষা এই বাড়ির পুজো নবীন হলেও পুজোর উপাচারে কোনো খামতি নেই বলেই জানালেন তিয়াস। এই বাড়ির পুজোর আগের দিন সকালে চণ্ডীপাঠ হয় এবং বিকালে দেবীর অধিবাস সম্পন্ন হয়।

পুজোর দিন সকাল সকাল দেবী অন্নপূর্ণার মূল পুজো শুরু হয়ে যায়। এই বাড়িতে প্রতীকী বলিদানের প্রথাও রয়েছে। পুজোর দিন চালকুমড়ো, কলা ইত্যাদি বলি দেওয়া হয়। এই বাড়িতেও দেবীকে অন্নভোগ নিবেদন করা হয়। ভোগে থাকে সাদাভাত, পোলাও, খিচুড়ি, আট রকমের ভাজা, তিন রকমের ডাল, কাঁচকলার কোপ্তা, শুক্তানি, আলুপোস্ত, ফুলকপির তরকারি, ধোঁকার তরকারি, চাটনি, পায়েস ইত্যাদি। সন্ধ্যাবেলায় দেবীকে লুচিভোগ দেওয়া হয়, সঙ্গে থাকে ছোলার ডাল, ছানার কোফতা, মালপোয়া, লাড্ডু ইত্যাদি।

দে বাড়ির বিশেষ রীতি হল ভিক্ষাদান, অর্থাৎ পুজোর শেষে বহু ভক্ত মহাদেবকে ভিক্ষাপ্রদান করেন চাল, পাঁচ রকমের ফল, পৈতে ইত্যাদি নানান উপকরণ দিয়ে। পুজোর পরের দিন দেবীকে পান্তাভাত, কচুশাক ইত্যাদি নিবেদন করা হয়। সন্ধ্যায় বিসর্জনের আগে কনকাঞ্জলিপ্রথা রয়েছে বিরাটির দে বাড়িতে। তবে এ বছর করোনা ভাইরাসের কারণে নানান বিধিনিষেধ এই বাড়িতেও রয়েছে। সামাজিক দূরত্ববিধি মেনে অল্পসংখ্যক নিমন্ত্রিত অতিথিদের নিয়েই এ বার পালিত হবে পুজো, এমনটাই জানালেন তিয়াস।

আরও পড়ুন: অন্নপূর্ণাপুজো: উত্তর কলকাতার পালবাড়ি ও বালিগঞ্জের ঘোষবাড়িতে চলছে জোর প্রস্তুতি

Continue Reading

ধর্মকর্ম

অন্নপূর্ণাপুজো: উত্তর কলকাতার পালবাড়ি ও বালিগঞ্জের ঘোষবাড়িতে চলছে জোর প্রস্তুতি

Published

on

উত্তর শহরতলির পালবাড়ি ও বালিগঞ্জের ঘোষবাড়ির অন্নপূর্ণাপূজা।

শুভদীপ রায় চৌধুরী

যে শুক্লপক্ষের অষ্টমীতিথিতে অন্নপূর্ণাপুজো হয়, পঞ্জিকার গণনা অনুযায়ী এ বার সেই তিথি চৈত্র মাসে না পড়ে, পড়েছে বৈশাখ মাসে। গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার অনুযায়ী সেই তারিখ হল ২০ এপ্রিল। সুতরাং হাতে আরও কয়েকটা দিন সময় রয়েছে। তবে বাংলার বিভিন্ন প্রান্তে মন্দির ও গৃহস্থবাড়িতে ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে পুজোর প্রস্তুতি। কলকাতা শহরতলির দুই বাড়িতেও এর অন্যথা হচ্ছে না।  

Loading videos...

বহু প্রাচীন কাহিনিতেই দেবী অন্নপূর্ণাকে পাওয়া যায়। তাঁর একটি হাতে থাকে অন্নপাত্র এবং অন্য হাতে থাকে হাতা বা চামচ, যা দিয়ে তিনি মহাদেবকে অন্ন প্রদান করেন। পুরাণে বর্ণিত কাহিনি অনুযায়ী কৈলাসে এক সময় অন্নের অভাব দেখা দিলে মহাদেব ভিক্ষা করতে বের হন। শেষ পর্যন্ত কোথাও ভিক্ষা না পেয়ে তিনি কৈলাসে ফিরে এলে দেবী পার্বতী অন্নপূর্ণার রূপ ধরে শিবকে ভিক্ষা দেন। সেই থেকেই দেবীর এই রূপ জগৎসংসারে প্রচলিত।

পালবাড়িতে মায়ের ভোগ।

কলকাতার উত্তর শহরতলির ডানলপের কাছে পালবাড়ির অন্নপূর্ণাপুজো এ বারে ৩৫তম বছরে পড়ল। পুজো শুরু হল কী ভাবে? ওই পরিবারের সূত্রে জানা যায়, পরিবারের এক সদস্য স্বপ্নাদিষ্ট হন এবং তার পর থেকেই এই বাড়িতে অন্নপূর্ণাপুজো শুরু হয়।

কথা হচ্ছিল এই বাড়ির জ্যেষ্ঠপুত্র রতন পালের সঙ্গে। তিনি জানালেন, এ বছর করোনা ভাইরাসের কারণে বিভিন্ন বিধিনিষেধ থাকছে। অতিথি এবং দর্শকদের জন্য স্যনিটাইজারের ব্যবস্থা থাকছে। এ ছাড়া শারীরিক দূরত্ববিধি মেনেই এ বছর পুজো হবে বলে জানান তিনি।

অষ্টমীর দিন সকাল থেকেই পুজো শুরু হয়ে হবে। ওই দিন দেবীকে অন্নভোগ দেওয়া হবে। ভোগে থাকবে খিচুড়ি, পোলাও, সাদাভাত, নানা রকমের ভাজা, তরকারি, চাটনি, পায়েস, মিষ্টি ইত্যাদি। প্রতি বছরই বিপুল পরিমাণে ভোগরান্না হয় চলে সকাল থেকে। তবে এ বছর সব কিছুই পালিত হবে সমস্ত রকমের নিয়মবিধি মেনে।

এই বাড়ির দেবীবিগ্রহ তৈরি করেন খ্যাতনামা শিল্পী সনাতন রুদ্র পাল। এ ছাড়াও পুজোর সময় দেবীকে ১০৮টি দীপ ও ১০৮টি পদ্ম নিবেদন করা হয়।

এ বার চলে আসা যাক দক্ষিণ কলকাতার দিকে। বালিগঞ্জের ডোভার রোডে ঘোষবাড়িতেও চলছে পুজোর প্রস্তুতি। এই বাড়ির পুজো তুলনামূলক নবীন হলেও নিষ্ঠায় কোনো খামতি নেই। কথা হচ্ছিল অস্মিত ঘোষের সঙ্গে। তিনিই শুরু করেন এ বাড়ির পুজো। করোনা ভাইরাসের কারণে বসিয়ে প্রসাদ খাওয়ানোর ব্যবস্থা বন্ধ রাখা হয়েছে। তার পরিবর্তে এ বার ফুড প্যকেটের ব্যবস্থা হয়েছে। এ ছাড়া পুজোর জায়গায় স্যানিটাইজারেরও ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

ঘোষবাড়ির অন্নপূর্ণা বিগ্রহ।

এই বাড়ির পুজো সম্পূর্ণ তন্ত্রমতে হয়ে থাকে। এই বাড়িতে দেবীর গায়ের রঙ লাল এবং এখানে দেবীর সঙ্গে থাকেন মহাদেব এবং দেবীর মুখ্য সহচরী জয়া। যে হেতু পরিবারের সদস্যরা শ্রীরামকৃষ্ণ সংঘের অনুগামী তাই পুজোর সংকল্প শ্রীশ্রীমা সারদার নামেই করা হয়।

এখানে দেবী এবং ভৈরবের ষোড়শোপচারে পুজো হয়। এই বাড়িতে দেবীকে আমিষভোগ নিবেদন করা হয়। ভোগে থাকে খিচুড়ি, সাদাভাত, পোলাও, নানান রকমের ভাজা, তিন রকমের মাছ, তরকারি, চাটনি, পায়েস ইত্যাদি। তবে দেবীর আমিষভোগ হলেও ভৈরবের নিরামিষভোগ হয়।

সন্ধ্যায় আরতি ও শীতলভোগ নিবেদন করা হয়। পরের দিন সকালে দর্পণে বিসর্জন হওয়ার পর বিকালে নিরঞ্জন হয় দেবী অন্নপূর্ণার।

আরও পড়ুন: কোনো রকম ভক্তসমাগম ছাড়াই পালিত হচ্ছে স্বামী যোগানন্দের জন্মতিথি উৎসব

Continue Reading

ধর্মকর্ম

কোনো রকম ভক্তসমাগম ছাড়াই পালিত হচ্ছে স্বামী যোগানন্দের জন্মতিথি উৎসব

Published

on

শুভদীপ রায় চৌধুরী

ভারতের অধ্যাত্মচেতনা ও ধর্মীয় নবজাগরণের অন্যতম পথিকৃৎ ছিলেন শ্রীরামকৃষ্ণ পরমহংসদেব। তাঁর বাণী এবং আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে গোটা বিশ্ব আজ ধর্মীয় মহোৎসবে আপ্লুত। ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণের পার্ষদদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন স্বামী যোগানন্দ ওরফে যোগীন মহারাজ, যাঁকে স্বয়ং শ্রীরামকৃষ্ণ ‘ঈশ্বরকোটী’ বলে উল্লেখ করেছিলেন। আজ বৃহস্পতিবার স্বামী যোগানন্দের ১৬১তম জন্মতিথি পালিত হচ্ছে দক্ষিণেশ্বরের কেদারনাথ ব্যানার্জি লেনের বাড়িতে। তবে এ বছর করোনা ভাইরাসের কারণে কোনো রকম ভক্তসমাগম ছাড়াই পালিত হচ্ছে উৎসব।

Loading videos...
স্বামী যোগানন্দ।

দক্ষিণেশ্বরের সাবর্ণ চৌধুরীদের বংশে জন্মগ্রহণ করেছিলেন যোগীন্দ্রনাথ, পরবর্তীকালে তিনিই হয়ে উঠলেন স্বামী যোগানন্দ। ১৮৬১ সালের মার্চ মাসে (১২৬৭ বঙ্গাব্দের ১৮ চৈত্র) ফাল্গুন-কৃষ্ণা চতুর্থী তিথিতে জন্মেছিলেন তিনি। বাল্যকাল থেকেই যোগীন ধর্মীয় পুস্তকা পাঠ করতে শুরু করেন এবং বাড়িতেও সেই সময় ভাগবত পাঠ, ধর্মসভা, ধর্মীয় আলোচনা চলত। পূজা ও কীর্তনে বাড়ি সর্বদা মুখরিত থাকত। যোগীনের বাবা নবীনচন্দ্র রায় চৌধুরী তাঁকে আগরপাড়া মিশনারি বিদ্যালয়ে ভর্তি করে দেন এবং তিনিও মন দিয়ে পড়াশোনা করতেন।

ছোটোবেলা থেকেই যোগীন ধীরস্থির, বিনয়ী ও মধুরস্বভাবের মানুষ ছিলেন। ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণের পার্ষদরা তথা তাঁর ঠাকুরভক্ত বন্ধুরা তাঁকে কখনও রাগতে দেখেননি। স্বামী বিবেকানন্দ বলতেন, “আমাদিগের ভিতর যদি কেহ সর্বতোভাবে কামজিৎ থাকে তো সে যোগীন।”

কেশবচন্দ্রের প্রবন্ধাদি পড়ে যোগীন ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণের দর্শনে উৎসুক হয়েছিলেন। ঠাকুরের সঙ্গে তাঁর প্রথম সাক্ষাৎ হয় দক্ষিণেশ্বর কালীবাড়ির ফুলবাগানে। যোগীন তাঁকে ফুলবাগানের মালী মনে করেছিলেন। বাগানের একটি ফুল চাইলে সেই ‘মালী’ তৎক্ষণাৎ সেই ফুলটি তুলে দেন যোগীনের হাতে। পরে তিনি বুঝতে পারলেন যে তিনি কোনো মালী নন, তিনি হলেন যুগাবতার শ্রীরামকৃষ্ণ পরমহংসদেব।

যোগীনের পরিচয় পেয়ে ঠাকুর বলেছিলেন, “তবে তো তুমি আমাদের চেনা ঘর গো। তোমাদের বাড়িতে আমি তখন কত যেতুম, ভাগবত, পুরাণ প্রভৃতি শুনতাম – তোমাদের বাড়ির কর্তাদের ভেতর কেউ কেউ আমাকে বড় যত্ন করতেন।” তার পর সবার সামনে যোগীনের পরিচয় দিয়ে তিনি বলেন, “এঁরা দক্ষিণেশ্বরের সাবর্ণ চৌধুরী। এঁদের প্রতাপে সেকালে বাঘে-গরুতে একসঙ্গে জল খেত। এঁরা লোকের জাত দিতে নিতে পারতেন। ভক্তিমানও সব খুব ছিলেন – বাড়িতে কত ভাগবত-পুরাণাদি হতো। জানা শোনা হল, বেশ হল – এখানে যাওয়া-আসা করো। মহদ্বংশে জন্ম – তোমার লক্ষণ বেশ সব আছে। বেশ আধার। খুব (ভগবদ্ভক্তি) হবে।”

কেদারনাথ ব্যানার্জি লেনের বাড়িতে

যোগীন্দ্রনাথ তথা স্বামী যোগানন্দ সম্পর্কে স্বামী সারদানন্দ ‘শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ লীলাপ্রসঙ্গ’-এ লিখেছেন, “প্রথম আগমন-দিবসে ঠাকুর ইঁহাকে দেখিয়া ইঁহার পরিচয় পাইয়া বিশেষ প্রীত হইয়াছিলেন এবং বুঝিয়াছিলেন তাঁহার নিকটে ধর্মলাভ করিতে আসিবে বলিয়া যে-সকল ব্যক্তিকে শ্রীশ্রীজগন্মাতা তাঁহাকে বহুপূর্বে দেখাইয়াছিলেন, যোগীন কেবলমাত্র তাঁহাদিগের অন্যতম নহেন, কিন্তু যে ছয়জন বিশেষ ব্যক্তিকে ঈশ্বরকোটী বলিয়া জগদম্বার কৃপায় তিনি পরে জানিতে পারিয়াছিলেন, ইনি তাঁহাদিগেরও অন্যতম।”

স্বামী যোগানন্দ হলেন শ্রীশ্রীমা সারদার প্রথম মন্ত্রশিষ্য। ঠাকুরের নির্দেশে মা তাঁকে মন্ত্রদীক্ষা দেন। যোগীনকে মন্ত্রদীক্ষা দেওয়ার জন্য বৃন্দাবনে থাকাকালীন ঠাকুরের আদেশ পেয়েছিলেন মা। তখনও পর্যন্ত মা কাউকে মন্ত্রদীক্ষা দেননি, এমনকি ঠাকুরের দু’-তিন জন সন্তান ছাড়া তিনি কারও সঙ্গে কথাও বলতেন না। তাই প্রথমে ওই আদেশকে নিজের মনের খেয়াল ভেবে চুপ করে থাকলেন। কিন্তু পর পর তিন দিন ওই ভাবে আদেশ পেলেন। যোগীনকেও জিজ্ঞাসা করে জানলেন যে, ঠাকুর তাঁকে একটা কিছু বলবেন বলে ভাব প্রকাশ করেছিলেন, কিন্তু বলে যাননি। শেষ পর্যন্ত একদিন নিত্য পূজাকালে ভাবাবেশে যোগীনকে এক বিশেষ ইষ্টমন্ত্রে দীক্ষা দিয়ে ঠাকুরের আদেশ পালন করলেন শ্রীশ্রীমা।

যোগীন্দ্রনাথ মাতৃগতপ্রাণ ছিলেন এবং সব সময় শ্রীশ্রীমাকে ছায়ার মতো অনুসরণ করতেন। শ্রীশ্রীমায়ের সেবাযত্নে যাতে কোনো ত্রুটি না হয় সেই দিকে সদানজর রাখতেন যোগীন। যোগানন্দের মাতৃভক্তি দেখে শ্রীশ্রীমা বলেছিলেন, “যোগীন কৃষ্ণসখা গাণ্ডীবী অর্জুন – ধর্মরাজ্যসংস্থাপনের জন্য ভগবানের নরলীলার সাথী হয়েছে।” দীর্ঘ বারো বছর শ্রীশ্রীমায়ের সেবা করেছিলেন স্বামী যোগানন্দ। মা সারদাদেবী বলতেন, “আমার ভার কি সকলে নিতে পারে? পারত যোগীন, আর পারে শরৎ।”

এ বছর স্বামী যোগানন্দের ১৬১তম জন্মতিথি উৎসব পালিত হচ্ছে মহারাজের নিজ জন্মভূমিতেই, তবে কোনো রকম ভক্তসমাগম ছাড়াই – এমনটাই জানালেন পরিবারের সদস্য শিবশঙ্কর রায় চৌধুরী। সকাল ৭টা থেকে উৎসব শুরু হয়েছে – বিশেষ পূজা, ভোগদান হচ্ছে। এ ছাড়াও থাকছে বিশেষ আলোচনাসভা। সভায় উপস্থিত থাকছেন রামকৃষ্ণ মঠের (বলরাম মন্দির) স্বামী হরিচরণানন্দজি মহারাজ এবং যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ডঃ সোমনাথ ভট্টাচার্য। সমগ্র অনুষ্ঠানটি ইউটিউবের মাধ্যমে দেখা যাবে। ইউটিউব লিঙ্ক: https://youtu.be/yaCaQ1rmx18

তথ্যসূত্র: শ্রীম-কথিত শ্রীশ্রী রামকৃষ্ণকথামৃত, স্বামী সারদানন্দের লেখা ‘শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ লীলাপ্রসঙ্গ’ এবং স্বামী গম্ভীরানন্দের লেখা ‘শ্রীরামকৃষ্ণ-ভক্তমালিকা’।

আরও পড়ুন: Sree Ramakrishna’s 186th Janmothiti: করোনা আবহে ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণের ১৮৬তম জন্মতিথি পালিত

Continue Reading
Advertisement
Advertisement
হাওড়া12 mins ago

বালিতে প্রচণ্ড শব্দে ভাঙল বাসের কাচ, পাথর না গুলি? চলছে তদন্ত

রাজ্য27 mins ago

Bengal Polls 2021: মুখে কালো মাস্ক, সঙ্গী রঙ-তুলি, গান্ধী মূর্তির পাদদেশে সাড়ে তিন ঘণ্টার ধরনা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের

দেশ33 mins ago

UP Panchayat Polls: শেষ মুহূর্তে ভোটার তালিকায় নাম বাদ! ক্ষোভ চরমে

রাজ্য57 mins ago

Bengal Polls 2021: শীতলকুচি নিয়ে মন্তব্যের জেরে এ বার দিলীপ ঘোষকে নোটিশ নির্বাচন কমিশনের

প্রযুক্তি2 hours ago

বাড়ির কাছাকাছি রেশন দোকান কোনটা, খুব সহজেই জেনে নিতে পারেন ‘মেরা রেশন’ মোবাইল অ্যাপ থেকে

রাজ্য4 hours ago

Bengal Polls 2021: প্ররোচনামূলক মন্তব্য, বিজেপি নেতা রাহুল সিন‌হার ওপরে ৪৮ ঘণ্টার নিষেধাজ্ঞা নির্বাচন কমিশনের

বাংলাদেশ5 hours ago

Covid Vaccination Programme: বিশ্বব্যাঙ্কের সঙ্গে বাংলাদেশের ৪৩৩০ কোটি টাকার ঋণচুক্তি

দেশ5 hours ago

Sputnik V: এপ্রিলের শেষে ভারতের বাজারে চলে আসবে টিকা, জানাল রাশিয়া

ধর্মকর্ম2 days ago

অন্নপূর্ণাপুজো: উত্তর কলকাতার পালবাড়ি ও বালিগঞ্জের ঘোষবাড়িতে চলছে জোর প্রস্তুতি

ভিডিও2 days ago

Bengal Polls 2021: বিধাননগরে মুখোমুখি টক্কর সুজিত বসু-সব্যসাচী দত্তর, ময়দানে জোট প্রার্থী অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়

প্রবন্ধ1 day ago

First Man In Space: ইউরি গাগারিনের মহাকাশ বিজয়ের ৬০ বছর আজ, জেনে নিন কিছু আকর্ষণীয় তথ্য

রাজ্য3 days ago

Bengal Polls 2021: কোচবিহারে ৩ দিনের জন্য রাজনীতিবিদদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করল নির্বাচন কমিশন

শিলিগুড়ি3 days ago

Bengal Polls 2021: ‘শীতলকুচির ঘটনা পূর্বপরিকল্পিত, দায়ী অমিত শাহ’, শিলিগুড়িতে বললেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

দেশ1 day ago

Kumbh Mela 2021: করোনাবিধিকে শিকেয় তুলে এক লক্ষ মানুষের সমাগম, আজ কুম্ভের প্রথম শাহি স্নান হরিদ্বারে

রাজ্য2 days ago

Bengal Corona Update: নমুনা পরীক্ষার সঙ্গেই তাল মিলিয়ে বাড়ল বাংলার দৈনিক করোনা সংক্রমণ

Rahul Gandhi at Maldah rally
রাজ্য2 days ago

Bengal Polls 2021: পঞ্চম দফার ভোটের আগে রাজ্যে আসছেন রাহুল গান্ধী

ভোটকাহন

কেনাকাটা

কেনাকাটা3 weeks ago

বাজেট কম? তা হলে ৮ হাজার টাকার নীচে এই ৫টি স্মার্টফোন দেখতে পারেন

আট হাজার টাকার মধ্যেই দেখে নিতে পারেন দুর্দান্ত কিছু ফিচারের স্মার্টফোনগুলি।

কেনাকাটা2 months ago

সরস্বতী পুজোর পোশাক, ছোটোদের জন্য কালেকশন

খবরঅনলাইন ডেস্ক: সরস্বতী পুজোয় প্রায় সব ছোটো ছেলেমেয়েই হলুদ লাল ও অন্যান্য রঙের শাড়ি, পাঞ্জাবিতে সেজে ওঠে। তাই ছোটোদের জন্য...

কেনাকাটা2 months ago

সরস্বতী পুজো স্পেশাল হলুদ শাড়ির নতুন কালেকশন

খবরঅনলাইন ডেস্ক: সামনেই সরস্বতী পুজো। এই দিন বয়স নির্বিশেষে সবাই হলুদ রঙের পোশাকের প্রতি বেশি আকর্ষিত হয়। তাই হলুদ রঙের...

কেনাকাটা3 months ago

বাসন্তী রঙের পোশাক খুঁজছেন?

খবরঅনলাইন ডেস্ক: সামনেই আসছে সরস্বতী পুজো। সেই দিন হলুদ বা বাসন্তী রঙের পোশাক পরার একটা চল রয়েছে অনেকের মধ্যেই। ওই...

কেনাকাটা3 months ago

ঘরদোরের মেকওভার করতে চান? এগুলি খুবই উপযুক্ত

খবরঅনলাইন ডেস্ক: ঘরদোর সব একঘেয়ে লাগছে? মেকওভার করুন সাধ্যের মধ্যে। নাগালের মধ্যে থাকা কয়েকটি আইটেম রইল অ্যামাজন থেকে। প্রতিবেদন লেখার...

কেনাকাটা3 months ago

সিলিকন প্রোডাক্ট রোজের ব্যবহারের জন্য খুবই সুবিধেজনক

খবরঅনলাইন ডেস্ক: নিত্যপ্রয়োজনীয় বিভিন্ন সামগ্রী এখন সিলিকনের। এগুলির ব্যবহার যেমন সুবিধের তেমনই পরিষ্কার করাও সহজ। তেমনই কয়েকটি কাজের সামগ্রীর খোঁজ...

কেনাকাটা3 months ago

আরও কয়েকটি ব্র্যান্ডেড মেকআপ সামগ্রী ৯৯ টাকার মধ্যে

খবরঅনলাইন ডেস্ক: আজ রইল আরও কয়েকটি ব্র্যান্ডেড মেকআপ সামগ্রী ৯৯ টাকার মধ্যে অ্যামাজন থেকে। প্রতিবেদন লেখার সময় যে দাম ছিল...

কেনাকাটা3 months ago

রান্নাঘরের এই সামগ্রীগুলি কি আপনার সংগ্রহে আছে?

খবরঅনলাইন ডেস্ক: রান্নাঘরে বাসনপত্রের এমন অনেক সুবিধেজনক কালেকশন আছে যেগুলি থাকলে কাজ অনেক সহজ হয়ে যেতে পারে। এমনকি দেখতেও সুন্দর।...

কেনাকাটা3 months ago

৫০% পর্যন্ত ছাড় রয়েছে এই প্যান্ট্রি আইটেমগুলিতে

খবরঅনলাইন ডেস্ক: দৈনন্দিন জীবনের নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসগুলির মধ্যে বেশ কিছু এখন পাওয়া যাচ্ছে প্রায় ৫০% বা তার বেশি ছাড়ে। তার মধ্যে...

কেনাকাটা3 months ago

ঘরের জন্য কয়েকটি খুবই প্রয়োজনীয় সামগ্রী

খবরঅনলাইন ডেস্ক: নিত্যদিনের প্রয়োজনীয় ও সুবিধাজনক বেশ কয়েকটি সামগ্রীর খোঁজ রইল অ্যামাজন থেকে। প্রতিবেদনটি লেখার সময় যে দাম ছিল তা-ই...

নজরে