হলদিয়া: এক দিকে মহিষাদলে শুভেন্দু অধিকারীর অরাজনৈতিক ব্যানারের সভা। অন্যদিকে হলদিয়ায় তৃণমূলের মিছিল। রাজ্যে শীত বাড়লেও রবিবারসীয় রাজনীতি যথেষ্ট গরম পূর্ব মেদিনীপুরের এই দুই কর্মসূচি ঘিরে।

গত শুক্রবার রাজ্য মন্ত্রিসভা থেকে ইস্তফা দেওয়ার পর শুভেন্দু অধিকারীর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে জল্পনা আরও বাড়ে। যদিও এখনও তিনি দলের বিধায়ক এবং প্রাথমিক সদস্যপদ ছাড়েননি। কিন্তু এরই মধ্যে তাঁকে ছাড়াই এ দিন তৃণমূলের মিছিল হল হলদিয়ায়। দীর্ঘ ২০ বছরে তৃণমূলের এমন একটি বড়ো মিছিল হল, যেখানে শুভেন্দু নেই।

হলদিয়ায় সুজিত বসু এবং রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে মিছিলের আয়োজন করা হয়। হলদিয়া শুভেন্দুর গড় হিসেবে পরিচিত। তবে এ দিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পোস্টার নিয়ে এই মিছিল হয়। কার্যত কোনো ‘চিহ্ন’ নেই শুভেন্দুর। মিছিলে অংশ নেওয়া এক তৃণমূলকর্মী বলেন, “এখানে ‘দাদার অনুগামী’দের কোনো জায়গা নেই। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই শেষ কথা। দাদারা অনুগামীরা কাঁথিতে থাকবেন”।

ও দিকে ১০ কিমি ব্যবধানে সভা করলেন শুভেন্দু। রবিবার মহিষাদলের ছোলাবাড়িতে প্রয়াত স্বাধীনতা সংগ্রামী রণজিৎ বয়ালের স্মরণসভা। অরাজনৈতিক ব্যানারের এই সভার আয়োজক তাম্রলিপ্ত জনকল্যাণ সমিতি। এই সমিতির সভাপতি স্বয়ং শুভেন্দু। আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল সমস্ত রাজনৈতিক দলকেই। এই সভা থেকে শুভেন্দু অবশ্য নিজের পরবর্তী রাজনৈতিক পদক্ষেপ সম্পর্কে কোনো ইঙ্গিত দিলেন না।

এ দিন তিনি স্বাধীনতা সংগ্রামীদের উদ্দেশে শ্রদ্ধা নিবেদন করে আগামী দিনের সংগ্রাম এবং এ ধরনের প্রতিষ্ঠানগুলিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করেন। পূর্ব মেদিনীপুরে একগুচ্ছ অরাজনৈতিক কর্মসূচির ঘোষণা করে শুভেন্দু বলেন, “আমি বাংলা এবং বাঙালির জন্য কাজ করে যাব”। তাঁর বক্তব্যের অধিকাংশ জুড়েই ছিল স্বাধীনতা সংগ্রামে পূর্ব মেদিনীপুরের অবদানের উল্লেখ।

অন্য দিকে হলদিয়ায় মিছিল শেষে সুজিত বসু বলেন, “আক্রমণ হচ্ছে, ভয় দেখানো হচ্ছে। কেউ কেউ বলছেন সোনার বাংলা তৈরি করব। আমি বলব, উত্তরপ্রদেশে, গুজরাতে গিয়ে সোনার বাংলা তৈরি করুন”।

আরও পড়তে পারেন: সাতগাছিয়া থেকে ‘ভাইপো-লিফট-প্যারাশুট’ কটাক্ষের কড়া জবাব অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন