বাংলাকে ধমকালে মুখে লিউকোপ্লাস্ট দিয়ে আটকে দেব: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

0

খবর অনলাইন ডেস্ক: পুরুলিয়া ২ ব্লকের হুটমুড়া ফুটবল মাঠে মঙ্গলবার সভা করলেন তৃণমূলনেত্রী এবং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)।

এ দিনের সভা থেকে বিজেপিকে নিশানা করতে ফের বহিরাগত ইস্যুতে তোপ দাগেন মুখ্যমন্ত্রী। বলেন, “কখনও বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভাঙে, কখনও রবীন্দ্রনাথের মূর্তি ভাঙে। ভোটের সময় বাংলার কথা মনে পড়ে। বাংলাটাও ঠিক করে বলতে পারে না। বাংলাকে বলে বঙ্গাল। মুখে বঙ্গাল, বিজেপি কাঙ্গাল। বাংলা সম্পর্কে কিস্যু জানে না। মিথ্যে কথা বলে ভোট নিয়ে পালায়। বহিরাগতদের কাছে মাথা নোয়াবেন না”।

Loading videos...

একই সঙ্গে বলেন, “ভয় দেখিয়ে সংবাদ মাধ্যমকে কাজে লাগাচ্ছে। সায়নী বলে একজন মেয়ে। ধমকাচ্ছে বিজেপি, এত বড়ো ক্ষমতা? ক্ষমতা থাকলে সায়নীর গায়ে হাত দিয়ে দেখাক। টলিউডের গায়ে হাত দিয়ে দেখাক। নাতনির বয়সি মেয়ে তাঁকে প্রতিদিন হুমকি দিচ্ছে। স্বাধীন ভাবে কথা বলার অধিকার নেই ওর? বাংলায় ধমকালে মুখে লিউকোপ্লাস্ট দিয়ে আটকে দেব”।

পুরুলিয়ায় রাজ্য সরকারের একগুচ্ছ উন্নয়নমূলক কাজের খতিয়ান তুলে ধরেন মমতা। বলেন, “লালগড়ে সেতু তৈরি করেছি। ওটা রঘুনাথ মাহতোর নামে করা হল। তাঁর জন্মদিনটিও ছুটি ঘোষণা করা হল। বিরসা মুন্ডার জন্মদিনের ছুটি দিয়েছি। আদিবাসীদের পরিচিতি দেওয়া হচ্ছে”।

পুরুলিয়ার রুক্ষ মাটিকে চাসবাসের উপযুক্ত করে তুলতে রাজ্য সরকার ১২ হাজার একর জমির জন্য বিশেষ পদক্ষেপ নিচ্ছে বলে জানিয়ে মমতা বলেন, “এখানকার জমিতে ফসল ফলবে। কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হবে। পাশাপাশি এই জেলায় শিল্পও হবে। লকডাউনের সময় জেলায় ফিরে আসা ২০ হাজার অভিবাসী শ্রমিককে কাজ দিয়েছে রাজ্য সরকার। ডানকুনি-অমৃতসর প্রকল্পের বিস্তার হবে। প্রচুর কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হবে”।

পুরুলিয়ায় পানীয় জলের সমস্যা এখনও তীব্র। এ বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “পুরুলিয়ায় বাড়ি বাড়ি জল পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করব। আমরা পরিকল্পনা করেছি। কোটি কোটি টাকা খরচ হবে”।

জেলার ১২ হাজার উচ্চ মাধ্যমিক পড়ুয়ার অ্যাকাউন্টে খু শীঘ্রই অনলাইন পড়াশোনার সুবিধায় ট্যাবলেট অথবা স্মার্টফোন কেনার জন ১০ হাজার টাকা পৌঁছে যাবে জানিয়ে মমতা বলেন, “আমার কাছে যতটা টাকা আছে, ততটাই করতে পারি আমি। তার বেশি পারি না। বিনা পয়সায় রেশন দিতে কত কোটি টাকা খরচ হয় জানেন? আজ রেশন, স্বাস্থ্য, পড়াশোনা, জল, ৭৫ ইউনিট পর্যন্ত বিনা পয়সায় দিচ্ছি”।

বিতর্কিত কৃষি আইন সম্পর্কে এ দিনের সভা থেকে তিনি বলেন, “কৃষিদিল্লিতে কৃষকরা এক মাস ধরে রাস্তায় পড়ে আছেন। কৃষকরা আমাদের গর্ব। আগের বিল ছিল জমি অধিগ্রহণের, আর এখনকার ফসল কেড়ে নিয়ে যাওয়ার। আপনি ফসল তৈরি করবেন, আর জোতদাররা জোর করে লুঠ করে নিয়ে যাবে। আপনারা কি তা দিতে চাইবেন। তাই আমরা এই আইন বাতিল করার দাবি তুলেছি”।

আরও পড়তে পারেন: অভাবনীয় প্রতিজ্ঞা, অদম্য জেদ-সংকল্প’, রাহানেদের ‘নয়া ভারত’-র জয়ে উচ্ছ্বাস মোদীর

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.