পুরুলিয়া: পঞ্চায়েত ভোটের আগে শাসকদলে ধাক্কা! ঝালদা পুরসভা হাতছাড়া তৃণমূলের। সোমবারের আস্থা ভোটে তৃণমূলকে টেক্কা দিল কংগ্রেস।

কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে পুরুলিয়ার ঝালদা পুরসভায় আস্থা ভোট হয় এ দিন। ঠিক হয়ে গেল, কার হাতে থাকবে ঝালদা পুরসভা। তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে, এ দিন পুরসভার আস্থাভোটে হাজির ছিলেন না শাসকদলের কোনো কাউন্সিলর। পুরসভা দখলের পর ঝালদা শহরে বিজয় মিছিল করে কংগ্রেস।

ঝালদা পুরসভার মোট আসন ১২। গত পুরভোটে তৃণমূল কংগ্রেস পায় ৫ আসন। কংগ্রেসের ঝুলিতেও পাঁচ, বাকি দুই আসনে জেতে নির্দল প্রার্থী। বোর্ড গঠনের জন্য ম্যাজিক ফিগার সাত। সেই সময় নির্দল হিসেবে জয়ী শীলা চট্টোপাধ্যায় যোগ দেন তৃণমূলে। ৬ আসন পেয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠ হয়ে বোর্ড দখল করে নেয় তৃণমূল। কিন্তু সেই শীলা চট্টোপাধ্যায়ই অনুন্নয়নের অভিযোগে তৃণমূলের থেকে সমর্থন তুলে নেন।

এর পরই গত ১৩ অক্টোবর, তৃণমূল চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব দেন বিরোধী কাউন্সিলররা। বিরোধীদের তলবি সভা ডাকা নিয়ে শুরু হয় চাপানউতোর, মামলা গড়ায় হাইকোর্টে। কয়েক সপ্তাহের লড়াইয়ের পর, হাইকোর্টের নির্দেশে আজ ঝালদা পুরসভায় আস্থা ভোট। কংগ্রেসের দাবি, তাঁদের সঙ্গে রয়েছেন দুই নির্দল প্রার্থী। ফলে বোর্ড দখলে যথেষ্ট আত্মবিশ্বাসী ছিল হাত শিবির।

তলবি সভায় অনাস্থা আনা কংগ্রেসের পাঁচ কাউন্সিলর ও নির্দলের এক কাউন্সিলর তথা তৃণমূল থেকে সাসপেন্ড হওয়া সোমনাথ কর্মকার ছাড়াও তৃণমূলের সঙ্গ ত্যাগ করা নির্দল প্রতীকে জিতে আসা শীলা চট্টোপাধ্যায়ও হাজির ছিলেন। কিন্তু ছিলেন না তৃণমূল পাঁচ কাউন্সিলরই। যার পরিণতিতে ঝালদা পুরসভা হাতছাড়া হল শাসক শিবিরের।

এ দিনের আস্থা ভোটকে সামনে রেখে ঝালদা শহর জুড়ে জারি হয়েছে ১৪৪ ধারা। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে মোতায়েন রয়েছে বিশাল পুলিশ বাহিনী। ঝালদা পুরসভার ২০০ মিটারের মধ্যে জমায়েতে নিষেধাজ্ঞা জারি করাও হয়েছে।

আরও পড়ুন: আবারও ঊর্ধ্বমুখী পারদ, তবে ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই আবহাওয়া বদলাবে কলকাতায়

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন