ভুয়ো চিকিৎসক স্নেহাশিস চক্রবর্তী

নিজস্ব সংবাদদাতা, জলপাইগুড়ি: সকলের সন্দেহের চোখে এখন  চিকিৎসকমহলের দিকে। শুধু সাধারণ মানুষ নয়, জেলা স্বাস্থ্য দফতরের আতসকাচের তলায় তাঁদের ডিগ্রি-সার্টিফিকেট।

জলপাইগুড়ির মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক জগন্নাথ সরকার বৃহস্পতিবার জানিয়েছেন, জেলায় যত সরকারি এবং বেসরকারি চিকিৎসক রয়েছেন তাঁদের প্রত্যেকের ডিগ্রি-সার্টিফিকেট এবং রেজিস্ট্রেশন নম্বর নতুন করে ভেরিফিকেশন করা হবে। উত্তরবঙ্গ থেকে একের পর এক ভুয়ো চিকিৎসক গ্রেফতার হওয়ায় এই সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে জেলা স্বাস্থ্য দফতরকে। সর্বশেষ যে ভুয়ো চিকিৎসক গ্রেফতার হয়েছেন তিনি হলেন নাগরাকাটা ব্লকের ধূমপাড়া প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রের চিকিৎসক স্নেহাশিস চক্রবর্তী। তিনি বুধবার ধরা পড়েছেন।

এখনও পর্যন্ত উত্তরবঙ্গ থেকে যে তিন জন ভুয়ো চিকিৎসক গ্রেফতার হয়েছেন তাঁরা প্রত্যেকেই কোনো না কোনো সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রের চিকিৎসক ছিলেন। স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন উঠেছে স্বাস্থ্য দফতরের নিয়োগপ্রক্রিয়া নিয়েও। এই অবস্থায় নিজেদের পিঠ বাঁচাতেই ডিগ্রি-সার্টিফিকেট ভেরিফিকেশনের এই সিদ্ধান্ত বলে মনে করছে চিকিৎসকমহলের একটা বড়ো অংশ। তাঁরা প্রশ্ন তুলেছেন, যাঁরা সরকারি নিয়োগপ্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিযুক্ত হয়েছেন তাঁদের ক্ষেত্রে এই সিদ্ধান্ত অযৌক্তিক। নিয়োগপ্রক্রিয়া নিয়ে নিজেদের দুর্বলতা ঢাকতেই জেলা স্বাস্থ্য দফতর এই ধরনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানাচ্ছেন তাঁরা। বস্তুত, এই ভুয়ো চিকিৎসক ধরা পড়ার ঘটনায় নিয়োগপ্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠছেই। সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসক এর মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগের সময় কেন সঠিক ভেরিফিকেশন হল না তা নিয়ে কোনো সদুত্তর দিতে পারেনি স্বাস্থ্য দফতর।

ধৃত ভুয়ো চিকিৎসক স্নেহাশিস চক্রবর্তী গত ডিসেম্বর মাসে চুক্তি ভিত্তিতে মেডিক্যাল অফিসার পদে নিয়োগ পান। গত সপ্তাহে চোপড়া এবং আলিপুরদুয়ার জেলা থেকে দু’জন ভুয়ো চিকিৎসককে গ্রেফতার করেছিল সিআইডি। তাঁরাও সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিযুক্ত ছিলেন। এই দু’জনকে জেরা করেই স্নেহাশিস চক্রবর্তীর নাম উঠে আসে। তিনি ১৯৯৪ সালে বিহারের ভাগলপুর থেকে এমবিবিএস-এর জাল সার্টিফিকেট এবং রেজিস্ট্রেশন নম্বর জোগাড় করেছিলেন বলে খবর। বৃহস্পতিবার তাঁকে জলপাইগুড়ি আদালতে তুলে পাঁচ দিনের জন্য ট্রানজিট রিমাণ্ডে নেয় সিআইডি। এর পরে তাঁকে কলকাতায় বিধাননগর আদালতে তুলে নিজেদের হেফাজতে নেবেন তদন্তকারীরা। তার পর ভবানীভবনে নিয়ে গিয়ে জেরা করা হবে।

বেশ কিছুদিন ধরে উত্তরবঙ্গ-সহ গোটা রাজ্য থেকেই  ভুয়ো-চিকিৎসক চক্রের অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছিল। সেই চক্র-জাল ভাঙতে তৎপর রাজ্য স্বাস্থ্য দফতর। সেই মোতাবেক তদন্তভার তুলে দেওয়া হয়েছে সিআইডির হাতে। এ বার ধৃতদের জেরা করে এই জাল কত দূর ছড়িয়েছে তার কিনারা করতে চান তদন্তকারীরা।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here