biswanath bhowmick

নিজস্ব সংবাদদাতা, জলপাইগুড়ি: নিষ্ঠা ও দৃঢ়তার সঙ্গে নিজের দায়িত্ব পালন করেছিলেন। তার উপহারস্বরূপ গুলি করে প্রাণনাশের চেষ্টা হয়েছে, অভিযোগ ময়নাগুড়ির অবর বিদ্যালয় পরিদর্শক বিশ্বনাথ ভৌমিকের। শুধু তা-ই নয়, তাঁর চাকরিও চলে যেতে পারে এমন আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি। মঙ্গলবার জলপাইগুড়ি জেলার ময়নাগুড়িতে নিজের সরকারি দফতরে বসে এক সাংবাদিক সন্মেলন করে ‘প্রশ্নফাঁস কাণ্ডে’ মধ্যশিক্ষা পর্ষদের কর্তাদের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ আনেন তিনি।

রবিবার সন্ধ্যায় স্ত্রীকে নিয়ে মোটরবাইকে করে লাটাগুড়ি থেকে ময়নাগুড়ি ফিরছিলেন বিশ্বনাথবাবু। সেই সময় মাঝপথে একটি অল্টো গাড়ি থেকে তাঁদের লক্ষ করে গুলি চালানো হয় বলে অভিযোগ। রবিবার রাতেই মৌখিক ভাবে তিনি পুলিশের কাছে বিষয়টি জানান। সোমবার রাতে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন ময়নাগুড়ি থানায়। অভিযোগ দায়ের করার পর রাতেই বিশ্বনাথ ভৌমিক এবং তাঁর স্ত্রীকে নিয়ে ঘটনাস্থলে যান ময়নাগুড়ি থানার আইসি নন্দদুলাল দত্ত। আইসি জানিয়েছেন, অভিযোগের তদন্ত শুরু হয়েছে। বিশ্বনাথবাবুর নিরাপত্তার ব্যবস্থাও করা হচ্ছে।

এই বছর মাধ্যমিক পরীক্ষা চলাকালীন অঙ্কের প্রশ্নপত্রের প্যাকেট সময়ের আগে খোলা নিয়ে প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগ ওঠে ময়নাগুড়ির সুভাষনগর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হরিদয়াল রায়ের বিরুদ্ধে। সেই ঘটনায় জড়িয়ে যায় স্কুলের আরও কয়েক জন শিক্ষকের নামও।

এই ঘটনা নিজেই হাতেনাতে ধরেছিলেন বিদ্যালয় পরিদর্শক বিশ্বনাথ ভৌমিক। তিনিই মাধ্যমিক শিক্ষা পর্ষদের কাছে অভিযোগ জানিয়েছিলেন প্রধান শিক্ষক ও অন্য শিক্ষকদের নামে। এই ঘটনা রাজ্য জুড়ে তোলপাড় ফেলেছিল। সেই ঘটনার তদন্ত এখনও চলছে পর্ষদের তরফে।

বিশ্বনাথবাবুর বক্তব্য, ওই ঘটনার সঙ্গে তাঁর ওপর হামলার ঘটনার যোগসূত্র থাকতে পারে। ‘বদলা’ নেওয়ার জন্য তাঁর ওপর হামলা চালানো হতে পারে বলে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন তিনি। তবে থানায় জানানো অভিযোগে নির্দিষ্ট কারও নাম দেননি। বিশ্বনাথবাবুর স্ত্রী নমিতা ভৌমিক জানিয়েছেন, বেশ কয়েক দিন ধরেই বিভিন্ন জায়গায় তাঁদের ‘ফলো’ করা হচ্ছে। রবিবারের ঘটনার পর থেকে তাঁরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

মঙ্গলবার ময়নাগুড়িতে নিজের সরকারি দফতরে একটি সাংবাদিক সন্মেলন করেন বিশ্বনাথ ভৌমিক। তিনি পরিষ্কার জানিয়েছেন, পর্ষদের তদন্তে তিনি সন্তুষ্ট নন। ঘটনার তদন্তে দু’ বার তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে পর্ষদ।

তাঁর অভিযোগ, পর্ষদকর্তারা তদন্তকে বিপথে চালিয়ে ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছেন। যাঁরা অভিযুক্ত তাঁদের প্রত্যেককে এখনও জেরা করা হয়নি। পর্ষদের পক্ষে এই তদন্ত সম্ভব নয় এই মত প্রকাশ করে প্রশ্নফাঁস কাণ্ডে সিআইডি তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তিনি।

বিশ্বনাথবাবু জানিয়েছেন, প্রশ্নফাঁসের বিষয় নিয়ে পদাধিকার বলে তিনি কড়া ব্যবস্থা নেওয়ায় একটা মহল তার ওপর রুষ্ট। “তা”র চাকরি চলে যেতে পারে”, এই রকম বার্তা সেই মহল থেকে তাঁর কাছে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ জানিয়েছেন তিনি। তাঁর দাবি, যাঁরা এই প্রশ্নফাঁসের বিষয়ে সরব হয়েছিলেন তাঁদের বিরুদ্ধেই পালটা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

বস্তুত সুভাষনগর উচ্চ বিদ্যালয়ের ইংরেজির শিক্ষক বিশ্বজিৎ রায়ও প্রশ্নফাঁসের বিরুদ্ধে মুখ খুলেছিলেন। প্রধানশিক্ষক হরিদয়াল রায়কে অভিযুক্ত করে থানায় অভিযোগও দায়ের করেছিলেন। এর পর থেকেই বিভিন্ন ভাবে তাঁকে হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ। তিনি ইতিমধ্যেই নিরাপত্তার দাবি নিয়ে জেলা পুলিশ সুপারের দ্বারস্থ হয়েছেন।

গত ৩০ মে  বিশ্বজিৎবাবুকে শোকজ করে স্কুলের পরিচালন সমিতি। তাঁর ‘অপরাধ’, তিনি প্রশ্নফাঁস সহ স্কুলের একাধিক বিতর্কিত বিষয় নিয়ে সংবাদমাধ্যম এবং সোশ্যাল সাইটে মুখ খুলেছেন।

বিদ্যালয় পরিদর্শক বিশ্বনাথবাবুর অভিযোগ, যাঁরাই এই ঘটনায় বিরুদ্ধে গিয়েছে তাদের বিভিন্নভাবে হেনস্থা করা হচ্ছে।এমনকি তিনিও সস্ত্রীক প্রাণঘাতী হামলা শিকার হলেন।চাকরি হারানোর আশংকাও তৈরি হয়েছে।যদিও তিনি পরিস্কার জানিয়েছেন, যে লড়াই তিনি শুরু করেছেন তা থেকে কোনো অবস্থাতেই সরবেন না।তার কথায় ময়নাগুড়ির ঘটনা রাজ্যের শিক্ষাক্ষেত্রে সব থেকে বড় “স্ক্যাম”।এই স্ক্যামের পর্দা ফাঁস কবে হবে তার অপেক্ষাতেই রয়েছেন তিনি।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here