নিজস্ব সংবাদদাতা, জলপাইগুড়ি : সারা এলাকা জুড়ে ঝাঁঝালো দুর্গন্ধ। নতুন এলে কারো মনে হতেই পারে এখানে দেশি মদের কারখানা আছে। কিন্তু সোমবার বিকেলে মোহন্ত পাড়ার এই কারখানায় ডিস্ট্রিক্ট এনফোর্সমেন্ট ব্রাঞ্চের অভিযানের পর দেখা গেল, মদ নয় নেহাতই সস, আচার, নরমপানীয় তৈরি হয় এই কারখানায়।

এবার প্রশ্ন তাহলে এত ঝাঁঝালো দুর্গন্ধ কেন? আর কেনই বা আচমকা অভিযান এনফোর্সমেন্ট ব্রাঞ্চের? 

উত্তর মিলল কারখানা চত্বরে প্রবেশ করতেই। সার সার ড্রামে ভর্তি আম, জলপাই, গাজর সহ আচার তৈরি কাঁচামাল। খোলা আকাশের নিচে রাসায়নিকে সেগুলিকে ভিজিয়ে রাখা হয়েছে। অনেকে ড্রামের জিনিস পচে প্রায় নস্ট হয়ে গিয়েছে। কারখানার কর্মীরা জানালেন, আচার তৈরির সময় ভালো ফল, সবজির সঙ্গে ওই পচা ফল সবজিও মিশিয়ে দেওয়া হয়। এখানেই শেষ নয়, ফেলে দেওয়া মদের বোতল কোনো রকমে ধুয়ে তাতেই সস ভরে লেবেল লাগিয়ে বাজারজাত কর হয়। অরেঞ্জ স্কোয়াশ বা অন্য নরম পানীয়ও তৈরি হয় একই রকম ভাবে।

soft-drink-factory-2

সবচেয়ে বড় বিষয়, কোনো রকম বৈধ নথি ছাড়াই এই কারখানা চলছে। সোমবার বিকেলে এই অভিযোগেই, কারখানায় হানা দেয় এনফোর্সমেন্ট ব্রাঞ্চ। দপ্তরের আধিকারিকরা জানান, অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে পুরোদমে চলছিল কারখানার কাজ। কোনোরকম সতর্কতা ছাড়াই খাদ্য ও পানীয় তৈরি হতে দেখে চমকে যান তাঁরা। তাঁরা জানান, কারখানা সংলগ্ন বিশাল চত্বরে সাজিয়ে রাখা কয়েকশ ড্রামে প্রায় পচে যাওয়া খাদ্যদ্রব্য। এই উপকরণ দিয়ে তৈরি খাদ্য বা পানীয় পেটে গেলে যে তা খুব একটা সুখকর হবে না তা এক প্রকার স্বীকার করে নিয়েছেন এনফোর্সমেন্ট ব্রাঞ্চের ডিএসপি ভি.সি. সোনার। অভিযান চালানোর সময় দপ্তরের আধিকারিকদের কোনো বৈধ নথি দেখাতে পারেননি কারখানার মালিক উত্তম মহেশ্বরী।

এদিকে কারখানা থেকে যে পরিবেশ দুষণ হচ্ছিল তা নিয়ে অভিযোগ জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারাও। প্রায় হাজার বাসিন্দা জলপাইগুড়ি পৌরসভায় এই ব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আবেদন জমা করেছিলেন। কিন্তু তাঁরা জানান, কোনো পদক্ষেপ হয়নি। যদিও পৌরপ্রধান মোহন বসু জানিয়েছেন, অভিযোগ পাওয়ার পরই জেলা প্রশাসনকে তা জানানো হয়েছিল।

কারখানা থেকে প্রচুর মাল বাজেয়াপ্ত করার পাশাপাশি গ্রেপ্তার করা হয়েছে মালিক উত্তম মহেশ্বরীকে। সিল করে দেওয়া হয়েছে কারখানাটি।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here