লোকাল ট্রেনের কামরায় পোস্টার সাঁটলেই এ বার শাস্তির খাঁড়া!

0

কলকাতা: পূর্ব হোক বা দক্ষিণপূর্ব রেল। হাওড়া হোক বা শিয়ালদহ। লোকাল ট্রেনের কামরায় চেপে বসলেই আপনার দৃষ্টি আকর্ষণ করবে বিভিন্ন পোস্টার। কোথাও জ্যোতিষীর সন্ধান, তো কোথাও শারীরিক ক্ষমতা বাড়ানো। এ ছাড়াও নিরাপত্তাকর্মীর চাকরি বা পুজো প্যাকেজ, বিভিন্ন রকম পোস্টারে ছেয়ে থাকে কামরা। অনেক ক্ষেত্রেই অসহনীয় হয়ে ওঠে বিজ্ঞাপনে লেখনীর রুচিবোধ। এই পোস্টার লাগানো আটকাতে এ বার ব্যবস্থা নিতে চলেছে রেল।

এই বদভ্যাস বন্ধ করতে নতুন করে অভিযান শুরু করতে চলেছে। পূর্ব রেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক নিখিল চক্রবর্তী বলেন, আগের মতো অভিযান আবার শুরু করা হবে। কামরা নোংরা করা চলবে না। জরিমানা, এমনকি হাজতবাসের কথাও ভাবে হচ্ছে। আরপিএফকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, এই ধরনের পোস্টার পড়লে, তার ঠিকানা ধরে মালিকের সন্ধান করা হবে।

উল্লেখ্য, এই পোস্টার লাগানোর সংস্কৃতি নতুন নয়। বহু যুগ আগে থেকে এই রেওয়াজ চলে আসছে। নয়ের দশকের মাঝামাঝি পূর্ব রেল এই সব বিজ্ঞাপনদাতার কাছে ঠিকানা ধরে আইনি নোটিস পাঠায় ও রেলের কামরায় প্রচারের জন্য নির্ধারিত ভাড়া দাবি করে মোটা অঙ্কের টাকা চায়। এর পর দীর্ঘ সময় ধরে লোকাল ট্রেনের কামরায় পোস্টার সাঁটাতে ভয় পেয়ে যান প্রচারকরা।

আরও পড়ুন কোচবিহারে নয়, রাজধানী থেকেই ‘রথ’-বক্তব্য পেশ করবেন অমিত শাহ!

এর পর আবার শুরু হয়ে যায় পোস্টারের বন্যা। দীর্ঘ দিন ধরে চলা এমন পদ্ধতিতে নোংরা হতে থাকে কামরার পরিবেশ ও দেওয়াল। চলতি বছরে রেল পরিচ্ছন্নতার দিকে একাধিক পদক্ষেপ করে। লক্ষ করে এই পোস্টারেই নোংরা হচ্ছে কামরা। পোস্টার সাঁটার রেওয়াজ বন্ধ করতে রেল হাওড়া, শিয়ালদহে প্রচার চালায়। ধরা পড়লে হাজতবাস। সঙ্গে প্রচারমূলক পোস্টারের থেকে নাম ঠিকানা নিয়ে আরপিএফদের নামানো হয় মাঠে। সংস্থার মালিক বা ব্যক্তিকে ধরে জরিমানা ও হুঁশিয়ারির পালা শুরু হয়। এর পরই কিছু দিন এই পোস্টার সাঁটানোর পালা বন্ধ থাকে। কিন্তু ক’ দিন। তার পর আবার জোরকদমে শুরু হয়ে যায় পোস্টার লাগানোর পালা।

তবে এ বার আরও জোরদার পদক্ষেপ করতে চলেছে রেল। লোকাল ট্রেনের নতুন নতুন কামরাও আসছে। এই কামরা কোনো ভাবেই নোংরা করতে দেওয়া হবে না বলে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ রেল।