Purulia

শুভদীপ চৌধুরী,পুরুলিয়া: নিজের রেল আবাসনেই এক বড়োসড়ো উদ্যান বানিয়ে রেলশহর আদ্রার বুকে নজির সৃষ্টি করলেন  বৃক্ষপ্রেমী রেল গার্ড শুদ্ধসত্ত্ব মণ্ডল ।

নিজের কর্মজীবনে হাজার ব্যাস্ততার মধ্যেও পরিবেশ রক্ষার্থে পুরুলিয়া জেলার রেলশহর আদ্রার মেডিক্যালপাড়ায় অবস্থিত নিজের রেল আবাসনেই তার এমন উদ্যোগ দেখে একের পর এক সাধুবাদ জানিয়েছে রেল আধিকারিক থেকে শুরু করে রেলকর্মী ও সাধারণ মানুষ সকলেই । একাধিক ফুলের গাছ থেকে শুরু করে ফলের গাছ, দিনের পর দিন নিজের হাতেই রোপণ করে আজ এক অসাধারণ মনোরম পরিবেশে রেল আবাসনের চারিদিক সবুজে ভরিয়ে সাজিয়ে তুলেছেন শুদ্ধসত্ত্ববাবু । নাম দিয়েছেন -‘শিবানন্দ পার্ক’, যার ভিতরে ‘পাগলিপ্রেমী’ নামে উদ্যান গড়েছেন তিনি নিজের হাতে । যেখানে বৃক্ষ নিধন বন্ধ করে সবুজায়নের আহ্বান জানানো হয়েছে ।

“বৃক্ষ নিধন আর নয়, দেশকে কর বৃক্ষময়”, “উদ্যানের মাঝে স্রষ্টার নৈকট্য যত, ধরণীর মাঝে আর কোথা নেই তত”, “গাছ লাগাও, জীবন বাঁচাও”, “গাছ মানুষের পরম বন্ধু “- ঠিক এই ভাবেই একের পর এক ব্যানার লাগিয়ে নিজের হাতে গড়া পার্ককে সাজিয়ে তুলেছেন শুদ্ধসত্ত্ববাবু। পাশাপাশি পার্কের সৌন্দর্যায়নে কোনও রকম খামতি না রাখার জন্য পার্কের ভিতরে লাগানো হয়েছে দোলনাও । গড়ে তোলা হয়েছে রাধাকৃষ্ণ ও শিবের দু’টি মন্দিরও ।

শুদ্ধসত্ত্ববাবু জানান, তিনি ছোট থেকেই বৃক্ষপ্রেমীর সঙ্গে সঙ্গে হয়ে উঠেছেন পরিবেশপ্রেমী আর তাই বৃক্ষরোপণের মধ্য দিয়ে পরিবেশ সাজাতে বেশি পছন্দ করেন  । কিন্তু কর্মজীবনে রেল আবাসনে আসার পর সেটা সম্ভব হয়ে উঠছিল না, একদিকে ব্যস্ততা অপরদিকে জায়গার অভাব, বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল দু’টিই । তবে পিছু ছাড়েনি সবুজায়নের টান। আবাসনে যেটুকু যায়গা ছিল তার মধ্যেই দিনের পর দিন বৃক্ষরোপণ করে এসেছিলেন । আর তা থেকেই আজ এক বৃহৎ উদ্যানের রূপ নিয়েছে তাঁর আবাসন । এক সময় এখানে আবর্জনা ফেলার স্তূপ ছিল । শুদ্ধসত্ত্ববাবু আরও জানান, এই পার্ককে নিয়ে তার আগামী দিনে আরও একাধিক পরিকল্পনা রয়েছে ।

আরও পড়ুন: চোলাই মদ উদ্ধারের ঘটনায় সাফল্য পেল বাঁকুড়া পুলিশ, গ্রেফতার ২

শুদ্ধসত্ত্ববাবুর এই পার্ক গড়ে তোলার পেছনে প্রথম থেকেই সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন তার স্ত্রী শুভ্রা মণ্ডল । তিনি বলেন, “পরিবেশ রক্ষার্থে সকলকেই আজ বৃক্ষরোপণে এগিয়ে আসার প্রয়োজন, বন্ধ হোক গাছ কাটা । কারণ বৃক্ষরোপণের মধ্য দিয়েই পরিবেশ হয়ে উঠবে সুন্দর থেকে আরও সুন্দরময় “।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here