গত কয়েক দিনের বৃষ্টিতে কিছুটা কমল ঘাটতি, এখনও অনেক পথ চলা বাকি

0
kolkata thunderstorm
ঝড়বৃষ্টির কলকাতা

ওয়েবডেস্ক: জুন মাসের শেষে আশঙ্কাজনক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল দক্ষিণবঙ্গে। বৃষ্টির ঘাটতি কোথাও কোথাও ৭০ শতাংশেরও বেশি ছিল। সামগ্রিক ভাবে দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টির ঘাটতি ৬০ শতাংশের আশেপাশে চলে গিয়েছিল। জুলাই মাসের প্রথম তিন দিনের বৃষ্টি সেই পরিস্থিতি কিছুটা উন্নত করেছে ঠিকই, কিন্তু এখনও অনেক পথ চলা বাকি।

আলিপুরের আঞ্চলিক আবহাওয়া কেন্দ্রের তরফ থেকে বুধবার যে রিপোর্ট প্রকাশ করা হয়েছে সেখানে দেখা যাচ্ছে, দক্ষিণবঙ্গে সামগ্রিক ভাবে কিছুটা কমেছে ঘাটতি। ঘাটতির নিরিখে এই মুহূর্তে সব থেকে আশংকার জেলাগুলি হল, হাওড়া (৬৯ শতাংশ), মুর্শিদাবাদ (৬৮ শতাংশ), বীরভূম (৬৭ শতাংশ), কলকাতা (৬২ শতাংশ) এবং নদিয়া (৬০ শতাংশ)। উত্তর ২৪ পরগণা (৫৮ শতাংশ), দুই বর্ধমান (৫৭ শতাংশ) এবং বাঁকুড়ার (৫২ শতাংশ) ছবিটাও ভালো নয়। তুলনায় ছবিটা কিছুটা ভালো পুরুলিয়া (৪৮ শতাংশ), পশ্চিম মেদিনীপুর (৪০ শতাংশ), দক্ষিণ ২৪ পরগণা (৩৮ শতাংশ) এবং পূর্ব মেদিনীপুরে (৩২ শতাংশ)।

জুন মাসের শেষে এই ছবিটা আরও খারাপ ছিল। ঘাটতির অঙ্ক বিভিন্ন জেলায় ৬০ থেকে ৭০ শতাংশের আশেপাশে ঘোরাফেরা করেছে। তবে গত কয়েক দিন মোটামুটি বৃষ্টি হওয়ায় সেটা কিছুটা কমেছে। একটি নিম্নচাপের প্রভাবে এই বৃষ্টি হয়েছে দক্ষিণবঙ্গে। নিম্নচাপটি গত দু’দিন পশ্চিমবঙ্গের উপকূলীয় অঞ্চলে থাকার ফলে এই বৃষ্টি হয়।

গত ২৪ ঘণ্টায়ও দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জায়গা ভালো বৃষ্টি পেয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ব্যাপক বৃষ্টি পেয়েছে দক্ষিণবঙ্গের তিন জায়গা, হলদিয়া (৯ সেমি), হরিণখোলা (৯ সেমি) এবং ডায়মন্ড হারবার (৭ সেমি)। এ ছাড়াও দক্ষিণবঙ্গের একাধিক অঞ্চলে, বিশেষত পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলিতে গত দু’দিনে গড়ে ৫০ থেকে ৮০ মিমি বৃষ্টি হয়েছে। এর ফলে আবহাওয়া পরিভাষায় এই মরশুমে এই প্রথম দক্ষিণবঙ্গে ‘সক্রিয়’ থেকেছে বর্ষা। এর পুরো কৃতিত্বই নিম্নচাপটির।

আরও পড়ুন লহোর বিমানবন্দরের লাউঞ্জে এলোপাথাড়ি গুলি, নিহত দুই

কিন্তু নিম্নচাপটি মধ্য ভারতে বিদায় নেওয়ায় বুধবার থেকে আবার বৃষ্টি কমে গিয়েছে দক্ষিণবঙ্গে। এ দিন সকালের দিকে কয়েক পশলা বৃষ্টি হলেও, বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সে ভাবে আর বৃষ্টি নেই। যদিও বিক্ষিপ্ত ভাবে বৃষ্টির সম্ভাবনা এখনও রয়েছে দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জায়গায়।

নিম্নচাপ বিদায় নিয়েছে বলে এখনই খুব হতাশ হওয়ার কোনো কারণ নেই। কারণ, আগামী দু’দিন হয়তো কিছুটা নিষ্ক্রিয় থাকতে পারে বর্ষা। কিন্তু শুক্রবার থেকেই আবার জোর বৃষ্টির সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে আবহাওয়া দফতর। রবিবার রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় ভারী বৃষ্টির সতর্কতাও জারি করা হয়েছে। ফলে বৃষ্টির ঘাটতি যেটা কিছুটা কমেছে, আগামী দশ দিনে আরও কিছুটা কমবে বলেই মনে করা হচ্ছে। আর এমনিতেও জুলাইয়ে স্বাভাবিক বৃষ্টিরই পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। ফলে অনাবৃষ্টির দুর্ভোগ এ বার কাটতে শুরু করবে বলেই মনে করা হচ্ছে।

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন