ফের রাতভর বৃষ্টিতে নাজেহাল দক্ষিণবঙ্গ, জল ছাড়া শুরু ডিভিসির

0
832

কলকাতা: পর পর তিন দিন, রাতভর প্রবল বৃষ্টিতে নাজেহাল অবস্থা কলকাতা-সহ সমগ্র দক্ষিণবঙ্গের। কলকাতার বিভিন্ন অংশ জলমগ্ন হয়ে যাওয়ার পাশাপাশি জলমগ্ন হয়ে পড়েছে দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলা। প্রবল বৃষ্টিতে নদীগুলির জলস্তর বাড়ার ফলে জল ছাড়া শুরু করেছে ডিভিসির বিভিন্ন জলাধার।

সোমবার সকাল সাড়ে আটটা পর্যন্ত সব থেকে বেশি বৃষ্টি হয়েছে বাঁকুড়ায়। সেখানে বৃষ্টির পরিমাণ ১১০ মিমি। গত তিন দিনে বাঁকুড়ায় মোট বৃষ্টি হল ৪৬০ মিমি। প্রসঙ্গত গোটা জুলাইয়ে বাঁকুড়ায় বৃষ্টি হয় ৩৮৪ মিমি। ক্যানিং-এ বৃষ্টি হয়েছে ১০১ মিমি, বসিরহাটে ৯১ মিমি। কলকাতায় বৃষ্টি হয়েছে ৭৩ মিমি। ৭৫ মিমি বৃষ্টি রেকর্ড হয়েছে মেদিনীপুরে। এ ছাড়া গড়ে ৪০ থেকে ৬০ মিমি বৃষ্টি হয়েছে দক্ষিণবঙ্গের বেশির ভাগ জায়গায়েই। প্রবল বৃষ্টি হচ্ছে ঝাড়খণ্ডেও। সোমবার সকাল পর্যন্ত জামশেদপুরে ২২৭ মিমি বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে।

রবিবার পর্যন্ত ছিল শুধু বৃষ্টি। সোমবার সকাল থেকে তার সঙ্গে দোসর হয়ে জুড়েছে ঝোড়ো হাওয়া। এর মূল কারণ দক্ষিণবঙ্গের ওপরে সৃষ্ট হওয়া নিম্নচাপ। রবিবার সন্ধ্যায় দক্ষিণবঙ্গের ওপরে থাকা ঘূর্ণাবর্তটি শক্তি বাড়িয়ে নিম্নচাপে পরিণত হয়। এই মুহূর্তে নিম্নচাপটি গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ এবং ঝাড়খণ্ড অঞ্চলে অবস্থান করছে। এর ফলে এই প্রবল বৃষ্টি।

প্রবল বৃষ্টির ফলে জলস্তর বাড়তে শুরু করেছে বিভিন্ন নদীতে। সব থেকে খারাপ অবস্থা বাঁকুড়ার। সেখানে বিপদসীমার ওপর দিয়ে বইছে কংসাবতী এবং শীলাবতী। বিপদসীমার কাছাকাছি বইছে গন্ধেশ্বরী, বিড়াই এবং দ্বারকেশ্বর। শালী নদীর জল ঢুকে প্লাবিত হয়েছে সোনামুখীর বিস্তীর্ণ অংশ। অন্য দিকে হুগলি জেলার আরামবাগ-গোঘাট অঞ্চলে অধিকাংশ এলাকা জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। পূর্ব বর্ধমানে বর্ধমান-কাটোয়া সংযোগকারী সড়কের ওপর দিয়ে জল বইছে।

প্রবল বৃষ্টিতে নদীগুলির জলস্তর বেড়ে যাওয়ায় জল ছাড়তে শুরু করেছে ডিভিসির জলাধারগুলি। এখনও পর্যন্ত গালুডি ব্যারেজ থেকে ১৭ হাজার, মাইথন থেকে দু’ হাজার, পাঞ্চেত থেকে ১৭ হাজার, দুর্গাপুর থেকে ৩৩ হাজার কিউসেক হারে জল ছাড়তে শুরু করেছে ডিভিসি। মূলত জলের চাপ কমানোর জন্যই আগেভাগে জল ছাড়া শুরু করেছে তারা। এখনই চরম সতর্কতা জারি করার কোনো পরিস্থিতি আসেনি বলে জানানো হয়েছে ডিভিসির তরফ থেকে।

মঙ্গলবার বিকেল পর্যন্ত কলকাতায় ভারী বৃষ্টির সতর্কতা জারি করেছে আবহাওয়া দফতর। মঙ্গলবার বিকেলের পর থেকে নিম্নচাপ ক্রমে দূরে সরতে শুরু করবে, এর ফলে কলকাতায় বৃষ্টির পরিমাণ কমবে। তবে পশ্চিমাঞ্চলের জেলা এবং ঝাড়খণ্ডের জন্য এখনই কোনো সুখবর নেই। কারণ নিম্নচাপ যত পশ্চিমে সরবে তত বৃষ্টি বাড়বে ওই সব অঞ্চলে। এর ফলে বন্যা পরিস্থিতি আরও ঘোরালো হতে পারে বলে ধারণা বিশেষজ্ঞ মহলের।

ছবি: রাজীব বসু

এক ক্লিকে মনের মানুষ,খবর অনলাইন পাত্রপাত্রীর খোঁজ

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here