ওয়েবডেস্ক: অন্যবার পুজো শেষ হয়ে গেলেই বৃষ্টি বিদায় নিতে শুরু করে, কিন্তু এবারের ছবিটা সম্পূর্ণ ভিন্ন। বরং পুজো শেষ হওয়ার পর বৃষ্টির দাপট যেন আরও কিছুটা বেড়ে গিয়েছে। রবিবার দফায় দফায় বৃষ্টি হয়েছে রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায়। সোমবার দক্ষিণবঙ্গের বৃষ্টির পরিমাণ কমলেও, উত্তরবঙ্গের কিছু অংশে বেশ জোর বৃষ্টি চলছে। তবে আপাতত গোটা বৃষ্টির কমার ইঙ্গিত পাওয়া গিয়েছত।

গোটা রাজ্যের কাছেই অদ্ভুত চরিত্র পেশ করল এবারের বর্ষা। একদিকে দক্ষিণবঙ্গে জুন এবং জুলাইয়ে মাত্রাতিরিক্ত বৃষ্টির ফলে বৃষ্টির বাড়তি দেখা দিলেও, আগস্ট এবং সেপ্টেম্বরে উল্লেখযোগ্য বৃষ্টির অভাবে সেটা ঘাটতির পর্যায়ে চলে যায়। অন্যদিকে উত্তরের ছবিটা সম্পূর্ণ ভিন্ন। সেখানে ঘাটতি দিয়ে শুরু করেও ৩০ সেপ্টেম্বরের পর বৃষ্টির হার বাড়তি। পুজোর কয়েকদিন এই বৃষ্টিটায় বেশ উপকার হয়েছে দক্ষিণবঙ্গের। কারণ আগস্ট এবং সেপ্টেম্বরে উল্লেখযোগ্য বৃষ্টি না হওয়ায় জল কমছিল নদীগুলির। এই আবহে ওই বৃষ্টিটা প্রয়োজনীয় হয়ে পড়েছিল।

তবে আপাতত অন্তত দিন চার-পাঁচের জন্য বৃষ্টি কমবে দক্ষিণবঙ্গে। এর কারণ, যে ঘূর্ণাবর্তের ফলে বৃষ্টি হচ্ছিল, সেই ঘূর্ণাবর্তটির দুর্বল হয়ে পড়া। সোমবারই রাজ্যের মধ্যাংশে দুর্বল হয়ে পড়েছে সেটি। বেসরকারি আবহাওয়া সংস্থা ওয়েদার আল্টিমার কর্ণধার রবীন্দ্র গোয়েঙ্কার মতে, বুধবার থেকে শুক্রবার পর্যন্ত আবার বাড়তে শুরু করবে দক্ষিণবঙ্গের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা। সেই সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়বে আর্দ্রতা। তবে শনিবার থেকে ফের পরিবর্তন হতে আবহাওয়ার।

রবীন্দ্রবাবুর কথায়, “এই মুহূর্তে উত্তর আন্দামান সাগরে একটি ঘূর্ণাবর্ত রয়েছে। এই ঘূর্ণাবর্তটি শক্তিবৃদ্ধি করে নিম্নচাপে পরিণত হয়ে ওড়িশা এবং অন্ধ্র প্রদেশের উপকূলের দিকে এগিয়ে আসবে। এর ফলে শনিবার থেকে ফের কমবে তাপমাত্রা, সেই সঙ্গে দফায় দফায় হাল্কা বৃষ্টি হবে।” তবে ঘূর্ণাবর্তটির প্রভাবে উপকূল অংশে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকলেও, কলকাতায় ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা নেই বলেই জানিয়েছেন তিনি।

পাশাপাশি উত্তরবঙ্গে এখন ক্রমশ আবহাওয়ার উন্নতির হবে বলে জানিয়েছেন রবীন্দ্রবাবু। আগামী ৩৬ ঘণ্টায় জোর বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও, বুধবার থেকেই ক্রমশ পরিষ্কার হতে শুরু করবে আকাশ। ডুয়ার্সের বিভিন্ন জায়গা থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘাকেও দেখা যাবে বলে জানিয়েছেন তিনি। উত্তরবঙ্গে আপাতত আর ভারী বৃষ্টির কোনো সম্ভাবনা দেখছেন না এই আবহাওয়া বিশেষজ্ঞ।

তবে বৃষ্টি কমলেও, বর্ষার বিদায় নিতে নিতে এই মাসের তৃতীয় সপ্তাহ হয়ে যাবে বলে জানিয়েছেন রবীন্দ্রবাবু। উল্লেখ্য, গোটা রাজ্য থেকে বর্ষা বিদায় নেওয়ার তারিখ ৮ অক্টোবর। কিন্তু এ বছর উত্তর ভারত থেকে বর্ষা অনেক দেরিতে বিদায় নেওয়া শুরু করেছে, তাই পশ্চিমবঙ্গ থেকেও বিদায় নিতে বেশ কিছুটা দেরী হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here