দক্ষিণবঙ্গে ঘাটতি ৫২%, এখনই টানা বৃষ্টি না হলে ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা

0

ওয়েবডেস্ক: ২০১০-এ দক্ষিণবঙ্গের শেষ বার খরা ঘোষণা করতে হয়েছিল রাজ্য সরকারকে। কিন্তু এ বার এই অঞ্চলের বৃষ্টির পরিস্থিতি ২০১০-এর থেকেও খারাপ। দক্ষিণবঙ্গের বৃষ্টির ঘাটতি বাড়তে বাড়তে ৫২ শতাংশে পৌঁছে গিয়েছে। আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই যদি জোর বৃষ্টি শুরু না হয়, তা হলে মারাত্মক পরিস্থিতি তৈরি হবে। চাষাবাদে সাংঘাতিক প্রভাব তো পড়বেই, সেই সঙ্গে জলের অভাব দেখা দিতে পারে।

দক্ষিণবঙ্গের কাছে এ বার বর্ষার মরশুমটাক যে অত্যন্ত খারাপ হতে চলেছে সেটা আগেই জানিয়েছিল খবর অনলাইন। তার মূল কারণ ‘এল নিনো‘র তৈরি হওয়া। এর প্রভাবে এ বার বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপ তৈরি কার্যত হচ্ছেই না। দক্ষিণবঙ্গে বর্ষায় জোর বৃষ্টি নামায় মূলত নিম্নচাপ। সেই নিম্নচাপের অভাবের জন্য টানা বৃষ্টির দেখা নেই দক্ষিণবঙ্গে। পাশাপাশি মৌসুমী অক্ষরেখাও থিতু হতে পাচ্ছে না দক্ষিণবঙ্গে। ফলে স্থানীয় বজ্রগর্ভ মেঘের থেকে বৃষ্টি ছাড়া বিশেষ বর্ষণ পাচ্ছেই না রাজ্যের এই অংশটি।

এই পরিস্থিতিতে বৃষ্টির ঘাটতি বাড়তে বাড়তে চরম জায়গায় পৌঁছে গিয়েছে। দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলির মধ্যে সব থেকে খারাপ অবস্থা যে চার জেলার সেগুলি হল হাওড়া (ঘাটতি ৮০%), কলকাতা (ঘাটতি ৬৫%), উত্তর ২৪ পরগণা (ঘাটতি ৬২%) এবং বাঁকুড়া (ঘাটতি ৬১%)। বাকি কোন জেলায় কত ঘাটতি তা জানার জন্য নীচের এই ছবিটা দেখুন।

কলকাতায় তো এমনিতেই বৃষ্টি হচ্ছে না। কিন্তু দক্ষিণবঙ্গের অন্যান্য জেলাতে জুলাইয়ের শুরুতে কিছুটা বৃষ্টি হয়েছিল। যার জন্য জুনের তৈরি হওয়া চরম ঘাটতি অনেকটাই কমিয়ে ফেলেছিল এই জেলাগুলি। কিন্তু গত এক সপ্তাহে বৃষ্টি আর না হওয়ায় সেই ঘাটতি আবার বাড়ছে। সব মিলিয়ে সামগ্রিক ভাবে দক্ষিণবঙ্গে বর্ষার ঘাটতি এখন ৫২ শতাংশে এসে ঠেকেছে।

বৃষ্টিপাতের নিরিখে দেশের যে ৩৬টি অঞ্চল রয়েছে, তার মধ্যে সব থেকে খারাপ অবস্থা সৌরাষ্ট্রের (ঘাটতি ৬৫%)। তার পরেই রয়েছে দক্ষিণবঙ্গ। বর্ষার আচরণ আবার ভিন্ন রাজ্যের উত্তরাংশে। সেখানে এতটাই বৃষ্টি হয়েছে যে বর্ষা এখন সে ভাবে স্বাভাবিক।

আরও পড়ুনদুষ্টু ছেলেটা’ মরছে, এ বার কি বৃষ্টি বাড়বে দক্ষিণবঙ্গে?

দক্ষিণবঙ্গের এই পরিস্থিতি বুঝিয়ে দিচ্ছে এই মরশুমে বর্ষা আর হয়তো স্বাভাবিকের ঘরে ঢুকবে না। আবার স্বাভাবিকের ঘরে পৌঁছতে হলে যে প্রবল বৃষ্টি দরকার তাতে আবার হিতে বিপরীত, অর্থাৎ বন্যার আশঙ্কা দেখা দিতে পারে। কিন্তু আগামী কয়েকদিনের মধ্যে টানা বৃষ্টির মতো কিছু পরিস্থিতি তৈরি না হলে চরম হাহাকারে পড়তে পারে মানুষ।

এই প্রসঙ্গেই বলে রাখা যেতে পারে যে টানা বৃষ্টির একটি ইঙ্গিত পাওয়া গিয়েছে। জুলাইয়ের এক্কেবারে শেষ প্রান্তে এসে সম্ভবত কাঙ্ক্ষিত সেই টানা এবং প্রবল বৃষ্টি শুরু হতে পারে দক্ষিণবঙ্গে। একাধিক বিদেশি আবহাওয়া সংস্থা এই ইঙ্গিত দিচ্ছে। আপাতত আগামী কয়েকদিন এই রকম শুকনো আবহাওয়াই বজায় থাকবে দক্ষিণবঙ্গে। ২৩-২৪ জুলাই থেকে ধীরে ধীরে বর্ষা সক্রিয় হতে শুরু করবে, নামবে স্বস্তির বৃষ্টি। সেই বৃষ্টিই মাসের শেষপ্রান্তে গিয়ে প্রবল আকার ধারণ করতে পারে।

দক্ষিণবঙ্গের বর্তমান পরিস্থিতির নিরিখে সেই বৃষ্টিই এখন ভরসা সাধারণ মানুষের কাছে।

উত্তর দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here