নয়াদিল্লি: উত্তর, পশ্চিম এবং দক্ষিণ ভারতের সর্বনাশ। কিন্তু পূর্ব ভারত বিশেষ করে দক্ষিণবঙ্গের পৌষ মাস। এ ভাবেই ব্যক্ত করা যায় ভারতের বেসরকারি আবহাওয়া সংস্থার করা এ বছরের সামগ্রিক বর্ষার পূর্বাভাসকে।

গত বছর ভালো বৃষ্টি হয়েছিল সারা দেশ জুড়ে। এর ফলে খরা এবং জলকষ্টে ভুগতে থাকা দেশের সুখা অঞ্চলগুলি তাদের জলভাণ্ডার ভর্তি করে নিয়েছিল। কিন্তু বছর ঘুরতেই ফের খরার ভ্রূকুটি। সৌজন্যে ‘এল নিনো’। ভারতে বর্ষার ওপর ব্যাপক প্রভাব পড়ে ‘এল নিনো’-এর জন্য। এর ফলে প্রশান্ত মহাসাগরে জলের তাপমাত্রা মাত্রাছাড়া হারে বেড়ে যায়। প্রশান্ত মহাসাগরের তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়ার ফলে ভারত মহাসাগরে জলের তাপমাত্রা সে ভাবে বাড়তে পারে না। যার সরাসরি প্রভাব এসে পড়ে ভারতের বর্ষার ওপর। ২০১৫-তে শেষ বার হানা দিয়েছিল ‘এল নিনো’। ডুবিয়ে দিয়েছিল বর্ষাকে। এ বার তার ফের হানা দেওয়ার সতর্কতা আগে থেকেই জারি করে রেখেছে বিভিন্ন বিদেশি আবহাওয়া সংস্থা।

বর্ষা কি তা হলে স্বাভাবিকের থেকে কম হবে? এই চিন্তাকে সত্যি করে, বর্ষার পূর্বাভাস দিল ভারতের বেসরকারি আবহাওয়া সংস্থা স্কাইমেট। তাদের মতে, এ বার বর্ষার চার মাস, জুন থেকে সেপ্টেম্বরে, দেশ জুড়ে মোট বৃষ্টি হবে স্বাভাবিকের থেকে পাঁচ শতাংশ কম। অবশ্য জুনে শুরুটা ভালোই করবে বর্ষা। প্রথম মাসে স্বাভাবিকের থেকে দুই শতাংশ বেশি বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা। অন্য দিকে জুলাই, আগস্ট এবং সেপ্টেম্বরে যথাক্রমে স্বাভাবিকের থেকে ছয়, সাত এবং চার শতাংশ কম বৃষ্টির সম্ভাবনা। বর্ষার অঞ্চলভিত্তিক পূর্বাভাসও দিয়েছে স্কাইমেট। সেখানে দেখা গিয়েছে বর্ষায় সব থেকে খারাপ অবস্থা হবে সমগ্র পশ্চিম উপকূল, মহারাষ্ট্রের মরাঠাওয়াড় এবং গুজরাতের কিছু অংশে। সেখানে স্বাভাবিকের দশ থেকে পনেরো শতাংশ কম বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। এর পরে রয়েছে গোটা উত্তর ভারত এবং দক্ষিণ ভারত। স্কাইমেটের মতে সেখানে বৃষ্টি হবে স্বাভাবিকের পাঁচ থেকে দশ শতাংশ কম।

তবে গোটা বর্ষার মরশুমই পশ্চিমবঙ্গের জন্য সুখবর নিয়ে আসতে চলছে। আবহাওয়া সংস্থাটির মতে বর্ষার চার মাস সম্পূর্ণ স্বাভাবিক বৃষ্টি হবে উত্তরবঙ্গে। অন্য দিকে কলকাতা দক্ষিণ ২৪ পরগণা, দুই মেদিনীপুর, বাঁকুড়া, পুরুলিয়ায় স্বাভাবিকের দশ শতাংশ থেকে পনেরো শতাংশ বেশি বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। দক্ষিণবঙ্গের বাকি জেলাগুলি বৃষ্টি হবে স্বাভাবিকের পাঁচ থেকে দশ শতাংশ বেশি।

মাসব্যাপী হিসেবে বলা হয়েছে, জুনে গোটা রাজ্যেই বৃষ্টির মাত্রা থাকবে স্বাভাবিক। জুলাইয়ে গোটা দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টি হবে স্বাভাবিকের দশ থেকে পনেরো শতাংশ বেশি। উত্তরবঙ্গে বৃষ্টি হবে স্বাভাবিকের পাঁচ থেকে দশ শতাংশ বেশি। আগস্টে কলকাতা, দুই ২৪ পরগণা, দুই মেদিনীপুর, হাওড়া, হুগলিতে স্বাভাবিকের দশ থেকে পনেরো শতাংশ বেশি বৃষ্টি হবে। বাকি রাজ্যে হবে স্বাভাবিকের পাঁচ থেকে দশ শতাংশ বেশি বৃষ্টি। সেপ্টেম্বরে আরও ভালো বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি, কোচবিহার এবং আলিপুরদুয়ার জেলায় স্বাভাবিকের পাঁচ থেকে দশ শতাংশ বেশি বৃষ্টি হতে পারে। বাকি রাজ্য হতে পারে স্বাভাবিকের দশ থেকে পনেরো শতাংশ বেশি বৃষ্টি।

এ বার পুজো সেপ্টেম্বরের শেষে। বৃষ্টির যা পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে, তাতে পুজো ভেসে যাওয়ার একটা আশঙ্কা অবশ্য থেকে গেল।

উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন