প্রায় দশ দিন হয়ে গেল শেষ বার জোর বৃষ্টি দেখেছিল দক্ষিণবঙ্গ। তার পর থেকে আর সে ভাবে উল্লেখযোগ্য বৃষ্টির দেখা নেই। মাঝে এক দিন অবশ্য কলকাতার কিছু অংশে ভারী বৃষ্টি হয়েছিল। বৃষ্টি না হওয়ার ফলে এক দিকে দক্ষিণবঙ্গের বন্যা পরিস্থিতি যেমন ক্রমশ উন্নতি হচ্ছে, তেমনি উল্টো দিকে পারদ এখন ঊর্ধ্বমুখী।  

প্রায় এক সপ্তাহ হল, বাড়ছে কলকাতার তাপমাত্রা। লোকমুখে ফিরে এসেছে সেই ‘ভাদ্রের গরম’-এর কথা। অনেকে হয়তো ভেবে নিয়েছেন যে বর্ষা-বিদায়ের সময় চলে এসেছে। কিন্তু   বর্ষার মধ্যে এমন বৃষ্টিহীন দিন স্বাভাবিক। আবহাওয়ার ভাষায় একে বলে, ‘ব্রেক ইন মনসুন’, যখন টানা জোর বৃষ্টি হওয়ার পর কয়েক দিনের জন্য শুকনো হয়ে যায় আবহাওয়া। বাড়তে থাকে তাপমাত্রা। গত ২২ আগস্ট শেষ বার, একটি নিম্নচাপ দক্ষিণবঙ্গকে ভাসিয়ে দিয়ে বিদায় নিয়েছিল। তার পর আর পশ্চিমবঙ্গ উপকূলে কোনও নিম্নচাপের দেখা নেই। তাই জোর বৃষ্টি হচ্ছে না, যেটুকু হচ্ছে তা বর্ষার বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি।

ফের বৃষ্টি বাড়তে চলেছে দক্ষিণবঙ্গে। আগামী শনিবার নাগাদ উত্তর ওড়িশা উপকূলে একটি নিম্নচাপের দানা বাধার সম্ভাবনা আছে। এর ফলেই বৃষ্টি বাড়বে কলকাতা ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে। তবে বৃষ্টির পরিমাণ কতটা হবে, ভারী বৃষ্টি হওয়ার কোনও সম্ভাবনা আছে কি না সেটা এখনই বলা সম্ভব নয়। অন্য দিকে মাসখানেক ঝিমিয়ে থাকার পর, উত্তরবঙ্গে ফের বেড়েছে বৃষ্টি।

তবে বর্ষা বিদায়ের এখনই কোনও সম্ভাবনা নেই। আবহাওয়া দফতরের তথ্য বলে, পয়লা সেপ্টেম্বর পশ্চিম রাজস্থান থেকে বিদায় নিতে শুরু করে বর্ষা। সেই সূচি মেনে দক্ষিণবঙ্গ থেকে বর্ষা বিদায় নেয় ৮ অক্টোবর। এই বর্ষা সেই সূচি মানলে সপ্তমীর দিনই বর্ষার পাততাড়ি গুটিয়ে বিদায় নেওয়া উচিত। কিন্তু গত বেশ কয়েক বছর ধরে দেখা যাচ্ছে ক্রমাগত পিছিয়ে যাচ্ছে বর্ষা। বিদায় নিতে নিতে অক্টোবরের শেষ সপ্তাহ এমনকি নভেম্বরও করে ফেলছে সে।  এ বছর কিন্তু পশ্চিম রাজস্থান থেকে এখনই বর্ষা বিদায়ের কোনও সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না। তা ছাড়া উত্তর ভারতে যে পরিমাণে বৃষ্টি হয়ে চলেছে, তাতে আগামী অন্তত দু’সপ্তাহের মধ্যে বর্ষা বিদায়ের পর্ব শুরু হওয়ার আশা না করাই ভালো। এ বার জুনে একদম বৃষ্টি হয়নি দক্ষিণবঙ্গে। প্রকৃত বর্ষা যাকে বলে, সেটা শুরু হয়েছে জুলাই থেকে। এই অবস্থায় পুজোর আগে বর্ষা বিদায়ের সম্ভাবনা কম, তা ধরেই নেওয়া যায়।   

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here