Ratha Yatra
Samir mahat
সমীর মাহাত

ঝাড়গ্রাম এলাকায় রথযাত্রা উৎসব প্রাচীন ঐতিহ্য হারাতে বসেছে। প্রায় শতবর্ষ ধরে ঝাড়গ্রাম এলাকায় সমারোহের সঙ্গেই পালিত হয়ে আসছে রথযাত্রা উৎসব। এখন তা দায়সারা মাত্র।

তথ্যমতে,ঝাড়গ্রামের চিল্কিগড়, লালগড়, ঝাড়গ্রামের রাজাদের অামলেই এই এলাকায় রথযাত্রা চালু হয়। রামগড়ের প্রাচীন রথ পুরোটাই পিতল দিয়ে তৈরি করা হয়েছিল, এখন সেখানে সাবেকি কাঠের রথ। তবে এলাকার সমস্ত উৎসবকে পিছনে ফেলে গোপীবল্লভপুরের রথযাত্রা উৎসব ঐতিহ্য ধরে রেখেছে। লোকসংস্কৃতি অধ্যুষিত এই এলাকাবাসী এই উৎসবকে “অাগলি” ও “পিছলি”রথ দু’ভাগে ভাগ করে নিয়েছে। অাগলি বলতে, রথের প্রথম দিন জগন্নাথদেবের মাসির বাড়ি যাওয়া, অার সাতদিন বাদে তাঁর ফিরে অাসাই হল পিছলি রথ।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই উৎসব পুরীর ঐতিহ্য উৎসব, তার খানিকটা প্রভাব পড়েছিল এই এলাকায়। রথের উপর সাধারণ মানুষের চড়ার অধিকার ছিল না। শুধু রথযাত্রা উৎসব বাদেও ধর্মগুরুরাও বিশেষ সময়ে রথে চড়ে ভ্রমণ করতেন। সংস্কৃতি বিশেষজ্ঞ বিমল মাহাত বলেন, এই এলাকার সিংহভাগ জনজাতিরা অাগে চাষবাষ ও জঙ্গলের উপর নির্ভরশীল ছিল। একবারই চাষ হতো, বর্ষাকালে। চাষের কাজে সবাই মেতে থাকত। তা ছাড়া এটি ছিল চাপিয়ে দেওয়া শিষ্টসংস্কৃতি। অাগে রথযাত্রার সাতদিন এলাকার প্রতিগ্রামে খোল-কীর্তনের কৃষ্ণনাম হতো, এখন ঝাড়গ্রামে তাসা-ড্রাম বাজিয়ে রথযাত্রা পালন করা হয়।

ঝাড়গ্রাম রাজ পরিবারের উত্তরসূরি তথা ঝাড়গ্রাম পুরপ্রধান শিবেন্দ্রবিজয় মল্লদেব বলেন, “অাগে অাঞ্চলিকস্তরে রথযাত্রা পালিত তেমন হতো না।তাই অামাদের রাজবাড়ির রথযাত্রা হতো জমজমাট।পনের-কুড়ি কিমি জঙ্গল পথে হেঁটে সবাই রথ দেখতে অাসতেন। সেই ঐতিহ্য এখনও ধরে রাখা সম্ভব হয়েছে”।

ছবি: ইন্টারনেট থেকে প্রাপ্ত প্রতীকী

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here