রামনবমী, হনুমানজয়ন্তীর পর এ বার পশ্চিমবঙ্গে হিন্দুত্ববাদীদের টার্গেট রথযাত্রা

0
1716
শৈবাল বিশ্বাস

ফের পশ্চিমবঙ্গকে টার্গেট করে ঘুঁটি সাজাচ্ছে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘ, বিশ্ব হিন্দু পরিষদের মতো হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলি। গত ৩১ মে থেকে ২ জুন হরিদ্বারে বিশ্ব হিন্দু পরিষদের মার্গদর্শক মণ্ডলের যে বৈঠকে হয়ে গেল তাতে স্থির হয়েছে, পশ্চিমবঙ্গে পর পর কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে। উদ্দেশ্য, পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক পরিস্থিতির নিরিখে নতুন করে হিন্দু ভাবাবেগকে উসকে দেওয়া। গোহত্যা বন্ধকে কেন্দ্র করে গোটা দেশ জুড়ে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে তার কোনো উল্লেখযোগ্য প্রভাব এ রাজ্যে পড়েনি। যে কারণে নতুন কৌশলে এ রাজ্যে এগোতে হবে বলে স্থির হয়েছে। আরএসএস ও বিশ্ব হিন্দু পরিষদের শীর্ষ নেতৃত্ব বলেছে, প্রতিটি হিন্দু অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে এ রাজ্যে উদ্দীপনা তৈরি করতে হবে। উল্লেখ্য, এর আগে হনুমানজয়ন্তী এবং রামনবমীকে কেন্দ্র করে রাজ্যের প্রায় সর্বত্র হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলি ধর্মীয় মিছিল বের করে। কোথাও বিশ্ব হিন্দু পরিষদ, কোথাও হিন্দুসেনা আবার কোথাও বা বজরঙ্গ দল মিছিলের আয়োজন করেছিল। বহু জায়গাতেই এই মিছিলকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা তৈরি হয়। বিশ্ব হিন্দু পরিষদের মার্গদর্শক মণ্ডল মনে করে, এর ফায়দা পেয়েছে হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলি। প্রশাসন যত ধর্মীয় মিছিলের অনুমোদন দেওয়া নিয়ে টালবাহানা করেছে, ততই মানুষের মধ্যে উলটো প্রতিক্রিয়া লক্ষ করা গিয়েছে। যার জেরে প্রশাসন ব্যাকফুটে যেতে বাধ্য হয়। প্রশাসনের গোপন সূত্রের খবর উদ্ধৃত করে আরএসএস নেতৃত্ব বলেছে, মিছিল আটাকানো নিয়ে জোরজবরদস্তি করলে রাজ্যে বহু জায়গাতেই আগুন জ্বলে যেতে পারত।

রামনবমীর মতো করেই হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলি রথযাত্রায় রাস্তায় নামবে। আরএসএস রাজ্যের বহু জায়গায় রথযাত্রায় বড় শোভাযাত্রা বের করবে। সেই মিছিলে প্রচারমূলক পোস্টার রাখা হবে। আর্থিক ও সামাজিক দিক দিয়ে পিছিয়ে পড়া হিন্দু জনতাকে এই মিছিলে টেনে আনার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এই অবস্থা বজায় রাখতে হলে পরপর ধর্মীয় কর্মসূচি নেওয়া প্রয়োজন। আপাতত স্থির হয়েছে,রামনবমীর মতো করেই হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলি রথযাত্রায় রাস্তায় নামবে। আরএসএস রাজ্যের বহু জায়গায় রথযাত্রায় বড় শোভাযাত্রা বের করবে। সেই মিছিলে প্রচারমূলক পোস্টার রাখা হবে। আর্থিক ও সামাজিক দিক দিয়ে পিছিয়ে পড়া হিন্দু জনতাকে এই মিছিলে টেনে আনার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সোমবার দিল্লিতে সাংবাদিক সম্মেলন করে বিশ্ব হিন্দু পরিষদের আন্তর্জাতিক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সুরেন্দ্র জৈন বলেন, প্রশাসন যদি অনুমতি না দেয় তবুও শোভাযাত্রা বের হবে। স্থানীয় নামকরা রথগুলির শোভাযাত্রাতেও বিশ্ব হিন্দু পরিষদের কর্মীরা অংশগ্রহণ করবেন। রথযাত্রা উপলক্ষে বিশেষ প্রচার কর্মসূচির ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রচার কর্মসূচি চলবে উলটোরথ পর্যন্ত। ফের উলটোরথেও শোভাযাত্রা বের করা হবে। এর জন্য প্রশাসনের আগাম অনুমোদন চাওয়া হবে বলেও শ্রীজৈন জানিয়েছেন। তবে অনুমোদন না পেলে কর্মসূচি স্থগিত থাকবে এমনটা নয়। বরং এ ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হলে প্রচার অভিযানের অভিমুখটাই পালটে যাবে।

এক ক্লিকে মনের মানুষ,খবর অনলাইন পাত্রপাত্রীর খোঁজ

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here