নিজস্ব সংবাদদাতা, জলপাইগুড়ি: নোট বাতিলের প্রেক্ষিতে বারবার ভোলবদলের জন্য রিজার্ভ ব্যাঙ্কের ওপর ক্ষুব্ধ? জেগে উঠেছে কোনো প্রতিশোধস্পৃহা? তা হলে দেরি করবেন না। বড়োদিনের দিন চাইলে কিনে নিতে পারেন নিলামে ওঠা রিজার্ভ ব্যাঙ্ককে। দরকারে একটু চেখেও দেখতে পারেন।

না, কোনো হেঁয়ালি নয়, এটাই বড়োদিনের চমক জলপাইগুড়ির একটি বেকারি সংস্থার। ৫৬ পাউন্ড ওজনের এক বিশালাকায় ‘রিজার্ভ ব্যাঙ্ক’রূপী কেক তৈরি করেছে শহরের ‘লর্ডস’ বেকারি। লম্বায় দুই ফুট, চওড়ায় তিন ফুট।

৬ দিনের পরিশ্রমে কেকটি তৈরি করেছেন বেকারির ৬ জন কারিগর। কেক তৈরিতে ময়দা লেগেছে ২৪ কেজি। এ ছাড়া মার্জারিন, মাখন, কাজু, কিসমিস, মোরোব্বা দিয়ে তৈরি হয়েছে কেকটি। বেকারির কারিগর অমল সরকার বলেন, “বড়োদিনে প্রচুর কেকের অর্ডার থাকে। সেই কাজ সামলে রাত জেগে এই কেক বানানো হয়েছে।”

ব্যাঙ্কের সামনে টাকা তোলার বিশাল লাইন, গাড়ির ভিড়, পাশের এটিমএমেও মানুষের ভিড়, সবই সুদক্ষ ভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে কেকটির মধ্যে। এটিএমের সামনে ডাস্টবিনে পড়ে রয়েছে বাতিল ৫০০, ১০০০ টাকার নোট। ব্যাঙ্কের মাথায় জ্বলজ্বল করছে রঙিন চকোলেট লেখা আর বি আই।

ইতিমধ্যেই এই কেকের কথা ছড়িয়ে গিয়েছে শহরে। তা দেখতে ভিড় জমাচ্ছেন শহরবাসী। কেনার জন্যও অনেকে বেকারিতে যোগাযোগ করেছেন। তবে বড়োদিনের আগে তা বিক্রি করা হবে না বলে জানিয়েছে বেকারি কর্তৃপক্ষ। তাদের মতে আগে শহরবাসী এই অনন্য কারিগরি চাক্ষুস করে নিক। বড়োদিনের সন্ধ্যায় এই কেক নিলামে উঠবে। যে বেশি দর দর দেবে সেই হবে এই রিজার্ভ ব্যাঙ্কের ‘উর্জিত পটেল’।

এর আগে ভিক্টোরিয়া, তাজমহল বানিয়ে তাক লাগিয়ে দিয়েছিল এই বেকারি সংস্থা। তবে এই বার রিজার্ভ ব্যাঙ্ক তৈরি করার সিদ্ধান্ত যে বর্তমান পরিস্থিতি মাথায় রেখে, তা সাফ জানালেন বেকারির অন্যতম কর্ণধার রঞ্জনা সাহা। তাঁর কথায়, “মানুষের নোট ভোগান্তিকে একটু অন্য রকম মোড়কে পেশ করে তাদের ক্ষতে একটু ‘ক্রিম’ লাগানোর উদ্দেশ্যেই একটা বানানো হয়েছে”।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here