basanti boy milling and APDR

কলকাতা: গত ১৮ জানুয়ারি দু’পক্ষের সংঘর্ষের মাঝে পড়ে বেঘোরে প্রাণ যায় বাসন্তী থানার হেতালখালি গ্রামের ১০ বছরের বালক রিয়াজুল মোল্লার। ঘটনার পর প্রায় সপ্তাহ দুয়েক অতিক্রান্ত হলেও দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে তেমন কোনো পদক্ষেপই নিতে পারেনি পুলিশ। প্রশাসনিক ভাবে ঘটনার পর বাসন্তী থানার ওসিকে বদল করা হলেও তদন্তের গতিপ্রকৃতিতে তেমন কোনো বদল না ঘটার দাবি তুললেন স্থানীয় গ্রামবাসী। তাঁদের দাবি, তৃণমূলের দুই গোষ্ঠীর মধ্যে দ্বন্দ্বকে বড়ো করে দেখিয়ে ঘটনায় মূল অভিযুক্তকে আড়াল করার চেষ্টা চলছে। কে ওই মূল অভিযুক্ত?

এপিডিআরের দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা সম্পাদক আলতাফ আহমেদ গত শনিবার সদলে উপস্থিত হয়েছিলেন গ্রামবাসীদের সামনে। সেখানে গিয়ে তাঁরা মৃত বালকের বাড়ি ও থানায় যান। কিন্তু থানার নতুন ওসি সুবিন্দু সরকার তাঁদের আধঘণ্টা বসিয়ে রাখার পরেও কথা বলতে রাজি হননি। তবে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন গ্রামবাসীরা। তাঁরা জানিয়েছেন, ওই ঘটনার নেপথ্যে যিনি কলকাঠি নেড়েছেন, তিনি আর কেউ নন, এলাকার আদি তৃণমূল নেতা তপু মাহাতো। তাঁর মাতৃদত্ত পরিচয়, তিনি গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান সুচিত্রা মাহাতোর পুত্র। যে কারণে এলাকার পঞ্চায়েতের কাজে তাঁর দখলদারি চলে সমান তালে। অভিযোগ, পঞ্চায়েতের একাধিক অর্থ তহবিল তছরুপের অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। সেগুলি ঠিক কেমন?

জানা গিয়েছে, গ্রামবাসীদের একটি প্রধান জীবিকা মৎস্যচাষের জন্য বরাদ্দ অর্থের গরমিল ঘটিযেছেন তপুবাবু। ভেড়ি কিংবা পুকুর খননের জন্য বরাদ্দ প্রায় ৬৬ লক্ষ টাকার কোনো হিসাব মেলানো যায়নি। এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনায় বাড়ি তৈরি এবং রাস্তা নির্মাণের জন্য বরাদ্দ অর্থের গরমিলেও ভূমিকা রয়েছে তাঁর। গ্রামবাসীরা অভিযোগ করেছেন, বিশেষ কৌশল অবলম্বন করে যোগ্য ব্যক্তিদের বঞ্চিত করে ওই টাকা তুলে নেওয়া হয়েছে।

এমনিতে হেতালখালি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসাবে তপুবাবুর পরিচিতি থাকলেও তিনি না কি স্কুলেই যান না। গ্রামবাসীরা বলেন, নিজে স্কুলে না গিয়ে ওই জায়গায় অন্য এক ব্যক্তিকে তিনি মর্জি মতো নিয়োগ করেছেন। ওই ব্যক্তিই স্কুলের কাজকর্ম দেখাশোনা করেন।

Alamgir Mollah
হাসপাতাল থেকে মায়ের কাছে ফিরে এসেছে আলমগির। সে দিনের ঘটনায় গুলি লাগে তার পায়ে।

গ্রামবাসীরা এ কথাও জানান, বর্তমানে তপুবাবু এলাকায় নেই। কারণ এলাকা দখলের কোন্দলে তিনি স্থানীয় এক বিধায়কের মদত পেলেও ওই বিধায়কও এখন মুখে কুলুপ এঁটেছেন। অন্য দিকে সিরাজুল বা গফফরদের মতো অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়-পন্থী যুব তৃণমূল নেতারাও আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। এই অবস্থার অবসান কী ভাবে হবে, তার কোনো সদুত্তর দিতে পারেনি পুলিশ প্রশাসন। এলাকায় শান্তি ফিরিয়ে নিয়ে আসতে এবং রিয়াজুল খুনে দোষীদের গ্রেফতারের দাবিতে ওই দিন হেতালখালি যান সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তী এবং কান্তি গঙ্গোপাধ্যায়-সহ প্রমুখ নেতৃত্ব। তাঁরাও পুলিশি নিষ্ক্রিয়তার নেপথ্যে শাসক দলের অঙ্গুলিহেলনকেই দায়ী করেন।

উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন