দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টি বিরামহীন, বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় সতর্ক নবান্ন

0
1388

কলকাতা: বৃষ্টি থামার নামই নেই দক্ষিণবঙ্গে। তার ওপর সক্রিয় মৌসুমী বায়ুর সঙ্গে যোগ হওয়া নতুন একটি ঘূর্ণাবর্তের প্রভাবে আরও ঘোরালো হয়ে উঠছে পরিস্থিতি। আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস, অচিরেই এই ঘূর্ণাবর্তটি নিম্নচাপে পরিণত হবে। তার প্রভাবে দক্ষিণবঙ্গে আরও বাড়বে বৃষ্টির পরিমাণ।

শনিবার সকালে কলকাতাকে ভাসানোর পর দুপুরের পর কিছুটা ধরেছিল বৃষ্টি। কিন্তু শনিবার শেষ রাত থেকে ফের দফায় দফায় বৃষ্টি হচ্ছে। তবে কলকাতায় আপাতত বৃষ্টির পরিমাণ কিছুটা কম হলেও, দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জায়গায় বৃষ্টি চলছে অঝরধারায়।

রবিবার সকাল সাড়ে আটটা পর্যন্ত দক্ষিণবঙ্গে সব থেকে বেশি বৃষ্টি হয়েছে বাঁকুড়ায়। সেখানে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ২৭৪ মিমি, যা এক কথায় রেকর্ডই বলা যায়। পূর্ব মেদিনীপুরের কাঁথি এবং দিঘায় বৃষ্টি হয়েছে যথাক্রমে ১৩৯ মিমি এবং ১০৪ মিমি। বৃষ্টিপাতের পরিমাণে এর পরেই রয়েছে পানাগড় (৯৫ মিমি) এবং বর্ধমান (৭৩ মিমি)। আলিপুরে বৃষ্টি হয়েছে ৬১ মিমি।

বৃষ্টির ফলে দক্ষিণবঙ্গের কিছু জেলায় বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। আপাতত সব থেকে জটিল পরিস্থিতি বাঁকুড়া জেলায়। ইতিমধ্যেই বিপদসীমার ওপর দিয়ে বইতে শুরু করেছে গন্ধেশ্বরী, শিলাই নদী। জলমগ্ন হয়ে পড়েছে সোনামুখী, পাত্রসায়র এবং ইন্দাস ব্লক। বীরভূমেও জলস্তর বাড়ছে কোপাই, বক্রেশ্বর এবং আরও বেশ কয়েকটি নদীতে। এর ফলে জলমগ্ন হয়ে পড়েছে জেলার লাভপুর এবং মিরাটি। পশ্চিম মেদিনীপুরে জলমগ্ন হয়েছে পড়েছে ঘাটাল, চন্দ্রকোনা, কেশপুরের মতো এলাকাগুলি। জলের তলায় চলে গিয়েছে ঘাটাল-চন্দ্রকোনা সড়ক। উপকূলবর্তী পূর্ব মেদিনীপুর এবং দক্ষিণ ২৪ পরগণা বিঘার পর বিঘা চাষের জমি জলের তলায় চলে গিয়েছে।

বন্যা পরিস্থিতি ঠেকানোর জন্য সতর্ক হয়েছে নবান্ন। খোলা হয়েছে বিশেষ কন্ট্রোল রুম। ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত বাতিল করা হয়েছে ছুটি। সেই সঙ্গে ব্যারেজ কর্তৃপক্ষের কাছে নবান্নর তরফে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে তারা যেন জল ছাড়ার আগে রাজ্যকে জানায়। সেই সঙ্গে মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে যেতে নিষেধ করা হচ্ছে।

আবহাওয়ার পরিস্থিতির এখনই উন্নতি হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। বর্তমানে যে ঘূর্ণাবর্তটি বঙ্গোপসাগরে রয়েছে সেটি নিম্নচাপে পরিণত হবে বলে জানিয়েছে আলিপুর আবহাওয়া দফতর। এর ফলে আগামী মঙ্গলবার পর্যন্ত কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সতর্কতা জারি করেছে হাওয়া অফিস।

বেসরকারি আবহাওয়া সংস্থা ওয়েদার আল্টিমার কর্ণধার আবহাওয়া বিশেষজ্ঞ রবীন্দ্র গোয়েঙ্কাও জানাচ্ছেন, আগামী তিন থেকে চার দিন এ রকম বৃষ্টি চলবে। এই বৃষ্টির ফলে বাঁকুড়া, দুই মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, দুই বর্ধমানের কিছু অংশ, বীরভূম, মুর্শিদাবাদ এবং হাওড়া ও হুগলি জেলার পশ্চিমাংশে বন্যা পরিস্থিতি ঘোরালো হতে পারে বলে জানিয়েছেন তিনি।

এক ক্লিকে মনের মানুষ,খবর অনলাইন পাত্রপাত্রীর খোঁজ

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here