কলকাতা : প্রাথমিক ভাবে উদ্ভিদের ওপর প্রয়োগ সফল হয়েছে। এর পর প্রাণীর শরীরে প্রয়োগ করবেন তিনি। 

পরিবেশকে দূষণমুক্ত করতে গবেষণা করছেন যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক উত্তরীয় রায়। তিনি বলেন, বস্ত্রশিল্পে ব্যবহার করা রঙিন জল পরিবেশে ছড়িয়ে পড়ে নানা রকমের দূষণ সৃষ্টি করছে। ক্ষতি করছে প্রাণী আর উদ্ভিদ জগতের। কাপড় রঙ করতে ব্যবহৃত হয় এক প্রকারের অ্যসিডমিশ্রিত রঙ। এই রঙ জলে মিশে আরও ভয়ংকর হয়ে ওঠে। তা পরিবেশে ছড়িয়ে যায়। তাতে যেমন ক্ষতি হয় বাস্তুরীতির, তেমনই সেই জল ব্যবহার করলে হতে পারে ক্যানসারের জটিল রোগও। এই অ্যাসিডমিশ্রিত রঙিন জল পরিশ্রুত করার গবেষণায় রত তিনি।  

তিনি বলেন, এই রঙমিশ্রিত জল পুকুর বা নদীতে মিশে তার ওপরে অ্যসিডের একটা আস্তরণ তৈরি করে। যার ফলে সূর্যালোক নীচের স্তরে পৌঁছোতে পারে না। ফলে সালোকসংশ্লেষের অভাবে মারা যায় জলজ উদ্ভিদ আর তার ফলে মাছও বেঁচে থাকতে পারে না। তা ছাড়া এই জল মানুষের পক্ষেও চরম হানিকর। তা শরীরের নানা ক্ষতি করে। কিডনি, লিভার, জননাঙ্গেরও ক্ষতি করে। হতে পারে ক্যানসারও। গবেষণার সময় বস্ত্রশিল্পাঞ্চলের আশপাশের এলাকা থেকে জল, মাটি, উদ্ভিদের নমুনা সংগ্রহ করেন তিনি। তাতে বিশেষ ধরনের ব্যাকটেরিয়া — ইকোলাই, ব্যাসিলাস, ডাইজোইকের উপস্থিতি লক্ষ করেন। গবেষণায় ওই বিশেষ ধরনের ব্যাকটেরিয়াকে কাজে লাগিয়েই বিষাক্ত জল পরিশ্রুত করেছেন। তিনি জানান, এই ব্যাকটেরিয়ার শরীরের যে ধরনের কার্বন দরকার এই জলে সেই কার্বন রয়েছে। তারা এই কার্বন শোষণ করে জল পরিষ্কার করে দিচ্ছে। সেই জল আবার গাছে দেওয়ার কাজে ব্যবহার করেন তিনি। তাতে সাফল্য আসে। এ বার দ্বিতীয় ধাপে এই জল প্রাণীর শরীরে ব্যবহার করার পথে হাঁটবেন গবেষক।    

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here