ছেলেকে ফিরে পেয়ে আনন্দে মা! নিজস্ব চিত্র

কলকাতা: বছর দেড়েক আগে হারিয়ে যাওয়া ছেলেকে নিজের মায়ের কাছে পৌঁছে দিলেন সোনারপুরের কালিকাপুরের বাসিন্দারা। বৃহস্পতিবার ভোরে বাড়ির লোকের সঙ্গে নিজের বাড়ি হরিদ্বারের উদ্দেশে রওনা দিল সে।

হরিদ্বারের বাসিন্দা, বছর ১৮-এর মোহন কুমারকে, গত ১৩ অক্টোবর সোনারপুর থানার নাটাগাছি এলাকায় রাস্তার ধারে অসুস্থ অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়৷ নিজেদের নজর আসার পরে এলাকার বাসিন্দারা খবর দেন পঞ্চায়েতে৷ কালিকাপুর-১ পঞ্চায়েতের প্রধান মাধব মণ্ডল লোকজন নিয়ে তাকে উদ্ধার করে৷ চিকিৎসার জন্য তাকে ভর্তি করা হয় কালিকাপুর প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে৷ শারীরিক সমস্যার পাশাপাশি মানসিক ভারসাম্যও হারিয়েছিল মোহন৷ চিকিৎসক ও নার্সদের পরিশ্রমের ফলে ধীরে ধীরে সুস্থ হয়৷

তবে অন্য একটি সমস্যা হচ্ছিল। নিজের নাম বলতে পারলেও বাড়ি কোথায় তা বলতে পারছিল না সে৷ যদিও আশ্চর্যজনক ভাবে একাধিক ফোন নম্বর বলতে পারছিল৷ সেই সব ফোন নম্বরের সূত্র ধরে ফোন করতে শুরু করেন চিকিৎসকরা৷ এরই মধ্যে একটি নম্বর গিয়ে লাগে উত্তরাখণ্ডের হরিদ্বারের একটি স্কুলে৷ ওই স্কুলেই মোহনের বোন পড়াশোনা করে৷ এই সূত্র ধরেই তার বাড়িতে খবর যায়৷ ওয়াটসঅ্যাপেও পাঠানো হয় ছবি৷ বাড়ির লোকজনও পালটা যোগাযোগ করেন৷ তার পরেই বাড়ি থেকে কলকাতার উদ্দেশে রওনা দেন মোহনের বাবা, মা, জামাইবাবু ও দাদা৷

আরও পড়ুন কোনা এক্সপ্রেসওয়েতে ট্যাঙ্কার-ট্রেলারে ভয়াবহ সংঘর্ষ, আগুনে ঝলসে মৃত্যু দুই চালকের

পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে বছর দেড়েক আগে থেকে নিখোঁজ ছিল মোহন৷ বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ করলেও পাওয়া যায়নি৷ থানায় মিসিং ডায়েরির পাশাপাশি কাগজেও বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়। মোহনকে নিয়ে বৃহস্পতিবার সকালে বাড়ির উদ্দেশে রওনা দিলেন তাঁরা৷ ছেলেকে পেয়ে খুশি পরিবারের লোকজন৷ তবে মন খারাপ কালিকাপুরের বাসিন্দাদের৷ এই ক’ দিনে মোহন যেন তাদেরই একজন হয়ে গিয়েছিল৷ তবে মোহনকে সুস্থ করে বাড়ি পাঠাতে পেরে খুশি হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স এবং অন্যান্য কর্মীও৷

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here