দেখা মিলল ‘নিখোঁজ’ খাড়া সিং-এর, গন্ডার হত্যার ঘটনায় ধৃত ৫

0

নিজস্ব সংবাদদাতা, জলপাইগুড়ি: দেখা মিলল নিখোঁজ খাড়া সিং-এর। কিছুটা স্বস্তিতে বন দফতর।

গত বৃহস্পতিবার জলপাইগুড়ির গরুমারা জাতীয় উদ্যানের গড়াতি বিটে উদ্ধার হয়েছিল দু-দুটি গন্ডারের মৃতদেহ। তাদের খড়গ কাটা ছিল। স্বাভাবিক ভাবেই ওই ঘটনায় চোরাশিকারিদের হাত ছিল স্পষ্ট। এই ঘটনায় বন দফতরের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত গাফিলতির অভিযোগ ওঠে। তারই মধ্যে গরুমারার ‘মস্তান’ গন্ডার খাড়া সিং-ও নিখোঁজ বলে অভিযোগ ওঠে। এক ধাপ এগিয়ে স্থানীয় পশু ও পরিবেশপ্রেমী সংগঠনগুলি সন্দেহ প্রকাশ করেন যে খাঁড়া সিং-এরও হয়ত চোরাশিকারিদের হাতে প্রাণ গিয়েছে। উদ্বিগ্ন ছিল বন দফতরও। রবিবার জোড়া গন্ডার হত্যার তদন্তে এসে রাজ্যের বনমন্ত্রী বিনয়কৃষ্ণ বর্মণ জানিয়েছিলেন, খাঁড়া সিং-এর সন্ধানে জঙ্গলে চিরুনি তল্লাশি চালাচ্ছেন বনকর্মীরা। মঙ্গলবার সকালে ‘নিখোঁজ’ জঙ্গল-মস্তানকে দেখতে পান তাঁরা। গরুমারার যাত্রাপ্রসাদ নজর মিনারের নীচে বেশ খোশমেজাজেই ছিলেন তিনি।

সব চেয়ে বড় খড়গ থাকার জন্য বিশালাকায় এই গন্ডারটির নাম খাড়া সিং। পর্যটকদের অন্যতম আকর্ষণ। খড়গের জন্যই গত ফেব্রুয়ারি মাসেও চোরাশিকারিদের নিশানায় পড়ে আহত হয়েছিল সে। অনেক চেষ্টা করে তাকে সারিয়ে তুলেছিল বন দফতর। তাই এ বার ফের তাকে দেখতে না পাওয়ায় উদ্বেগ বাড়ছিল বন দফতরের।

মঙ্গলবার বনমন্ত্রী বিনয়কৃষ্ণ বর্মণ জানিয়েছেন,  খাড়া সিং-এর খোঁজ পাওয়া গিয়েছে, সে সুস্থ রয়েছে। যদিও পশু ও পরিবেশপ্রেমী সংগঠনগুলি এই বিষয়ে এখনও সন্দিহান। ‘সোসাইটি ফর প্রোটেক্টিং ওফিওফনা অ্যান্ড অ্যানিম্যালস রাইটস’র সম্পাদক শ্যামাপ্রসাদ পাণ্ডে দাবি জানিয়েছেন, সুস্থ খাঁড়া সিং-এর ছবি প্রকাশ্যে আনুক বন দফতর। তাঁর কথায়, জোড়া গন্ডার হত্যার ঘটনায় যখন বন দফতরের গাফিলতি স্পষ্ট, তখন শুধুমাত্র তাদের কথার ওপর ভরাসা করা সম্ভব নয়। যদিও বন্যপ্রাণ বিভাগের (উত্তর মণ্ডল) বনপাল সুমিতা ঘটক জানিয়েছেন, খাড়া সিং-এর গতিবিধির ওপর নজর রাখছেন বনকর্মীরা।

এ দিকে জোড়া গন্ডার হত্যার ঘটনায় ৫ জন গ্রেফতার হয়েছে বলে বনপাল সুমিতা ঘটক জানিয়েছেন। গরুমারা বনবিভাগ ও বেলাকোবা রেঞ্জের বনকর্মীরা যৌথ অভিযান চালিয়ে তাদের  গ্রেফতার করেছে। ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করছেন বনাধিকারিকরা। জেরায় আন্তর্জাতিক চক্রের যোগসাজসের প্রমাণ মিলতে পারে বলে অনুমান।

এই ঘটনায় বন দফতরের পাশাপাশি তদন্ত চালাচ্ছে সিআইডিও। তদন্তে এখনও পর্যন্ত পাওয়া তথ্যে জানা যাচ্ছে, অসম থেকে আসা চোরাশিকারিদের একটি দল কাছাকাছি একটি মডেল ভিলেজে আশ্রয় নিয়েছিল। তারপর সুযোগ বুঝে জলঢাকা নদী পেরিয়ে ঢুকে পড়েছিল অপেক্ষাকৃত অরক্ষিত গড়াতি বিটে। গন্ডার দু’টিকে হত্যার পর খড়গ কেটে নিয়ে সেই পথেই ফের পালিয়ে যায় দলটি। এই সূত্র ধরেই অসমে যাওয়ার তোড়জোড় শুরু করেছে বন দফতরের একটি দল। বনমন্ত্রী বিনয়কৃষ্ণ বর্মণ জানিয়েছেন, সব দিক মাথায় রেখেই তদন্ত চলছে। বন দফতর সূত্রে খবর, এই ঘটনার পর নজরদারির জন্য গন্ডারপিছু একজন বনকর্মী নিয়োগ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here