‘নিজলয়’-এ হল গুনগুনের মুখে ভাত, নতুন করে বেঁচে উঠছে রুকসানা

0

অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে একদিন সুযোগ বুঝে সেখান থেকে পালায় সে। বাংলাদেশে ফিরে যাওয়ার চেষ্টা করতে করতে চলে আসে জলপাইগুড়ির ময়নাগুড়িতে। সেখানে এক মহিলা তার অবস্থা বুঝতে পেরে নিয়ে যান ময়নাগুড়ি থানায়। তার পর আদালত হয়ে ‘নিজলয়’ হোমে ঠাঁই। হোমে আসার পর জানা যায়, সে পাঁচ মাসের গর্ভবতী। তাকে কিনে নেওয়া পাঞ্জাবের সেই মালিকের অত্যাচারের ফসল। আরও ভেঙে পড়ে সে। গর্ভস্থ ভ্রূণকে পৃথিবীর আলো দেখাতেও অরাজি ছিল এক সময়। শুরু হয় তার কাউন্সেলিং। হোমের কাউন্সিলর অমৃতা চক্রবর্তী জানিয়েছেন, দীর্ঘ চেষ্টার পর সে ‘মা’ হওয়ার অর্থ বুঝতে পারে। যে ভাবেই আসুক না কেন, তার গর্ভের সন্তানকে পৃথিবীর আলো দেখানোর দায়িত্ব যে তারই,এই উপলব্ধিই তাকে নতুন করে বাঁচতে প্রেরণা দেয়। গত ১ মার্চ জলপাইগুড়ি জেলা হাসপাতালে এক ফুটফুটে কন্যাসন্তানের জন্ম দেয় রুকসানা। হোমের দিদিরা রূপ আলো করা মেয়েটির নামে রাখে রূপসা। ডাক নাম গুনগুন। এর পর হোমের আবাসিক মেয়েরা তাকে নিয়েই মেতে ওঠে। তার স্নান, খাওয়া, ঘুম সব দায়িত্ব নিজেদের কাঁধে তুলে নেয় অন্য আবাসিক মেয়েরা। দিন কয়েক আগে হোমের সুপার উমা ভট্টাচার্য এবং প্রকল্প আধিকারিক শিখা মিত্রর মনে হয় ছ’ মাস তো হতে চলল, এ বার তো নিয়ম অনুযায়ী গুনগুনের মুখে ভাত তুলে দেওয়ার সময়। যেমন ভাবা তেমন কাজ। জেলা প্রশাসনের অনুমতি নিয়ে এই হোমে প্রথম বার আয়োজন করা হল অন্নপ্রাশন অনুষ্ঠানের। বৃহস্পতিবার হোমে গিয়ে দেখা গেল, কোনো খামতি রাখা হয়নি। পুরোহিত থেকে শুরু করে ভুরিভোজ সবটাই হাজির। আমন্ত্রিত ছিলেন অনেক সরকারি আধিকারিক। অনেকে এসেও ছিলেন এই আনন্দে অংশ নিতে। গুনগুনের মুখে ভাত তুলে দেন চাইল্ড প্রোটেকশন দফতরের কর্মী জয়দীপ ব্যানার্জি। ফ্রায়েড রাইস, ছোলার ডাল, চিপস, কাতলা কালিয়া। শেষ পাতে চাটনি, দই, মিষ্টি। গুনগুনকে আশীর্বাদ করে, উপহার দিয়ে, সানন্দে ভুরিভোজ করেন আমন্ত্রিত অতিথিরা। আর পুরো সময়টুকু অতিথিদের আপ্যায়নে সবচেয়ে বেশি ব্যস্ত ছিল রুকসানা। মেয়ের মঙ্গল কামনায় অতিথিদের আশীর্বাদ নিতেও ভোলেনি সে। সে জানে, এই আশীর্বাদটুকুই তার আর তার ছোট্টো মেয়ের এগিয়ে চলার সম্বল। এ দিকে হোমের আবাসিক অন্য মেয়েদের তো নাওয়া-খাওয়ার দিকে মনই নেই। কপালে চন্দনের ফোঁটা, সাজুগুজু করা গুনগুনকে নিয়েই  হই-হুল্লোড়ে ব্যস্ত তারা। শেষ পর্যন্ত মেয়েকে কোলে নিয়ে রুকসানাই তাদের এক রকম ধরে বেঁধে খাওয়ার টেবিলে বসায়। একে গরমের দিন। তাতে সকাল থেকে সাজুগুজু, অনুষ্ঠানের ঝক্কি, দিদিদের কোলে কোলে গিয়ে আদর খেতে খেতে বোধহয় ক্লান্ত হয়ে পড়েছিল ছ’মাসের ছোট্টো গুনগুন। এতক্ষণে মায়ের কোল ফিরে পেয়ে যেন পরম শান্তি পেল সে। কিছুক্ষণের মধ্যেই ঘুমিয়ে কাদা। তখনও কিন্তু হইচই চলছে ‘নিজলয়ে’। আর হইচই রুকসানার মনের মধ্যেও। এক দিকে মা হওয়ার পরিপূর্ণতা আর এক দিকে শিশুকন্যার ভবিষ্যতের চিন্তা। এখন গুনগুনই যে তার সব কিছু। মেয়ের দিকে তাকিয়েই নতুন করে বেঁচে ওঠা মায়ের।    ]]>

dailyhunt

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন