police run
ইন্দ্রাণী সেন

বাঁকুড়া জেলা পুলিশের উদ্যোগে মাওবাদীদের হাতে নিহত সারেঙ্গা থানার আইসি রবিলোচন মিত্রের স্মরণে একটি  দৌড় প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হল। রবিবার  স্থানীয় কুসুমটিকরি মোড় থেকে সারেঙ্গা থানা পর্যন্ত এই দৌড় প্রতিযোগিতায় তিনটি বিভাগে প্রায় ছ’শো প্রতিযোগী অংশ নেন ।

২০১০ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি রাতের অন্ধকারে সারেঙ্গা বাজার সংলগ্ন গোবিন্দপুরে মাওবাদীদের সঙ্গে গুলির লড়াইয়ে প্রাণ হারান তৎকালীন সারেঙ্গা থানার  আইসি রবিলোচন মিত্র। পুলিশের কাছে ওই দিন রাতে খবর ছিল মাওবাদীদের নাশকতার পরিকল্পনা রয়েছে। তারা যে কোনো সময় সারেঙ্গা থানা আক্রমণ করতে পারে, এই  খবর পেয়ে আর দেরি করেননি অকুতোভয় এই পুলিশ অফিসার। অন্যান্য সহকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে বেরিয়ে পড়েন মাও দমনে। সেই সময়  ওই দিন রাতে গোবিন্দপুরেই  মাওবাদীদের সঙ্গে গুলির লড়াইয়ে প্রাণ হারান আইসি রবিলোচন মিত্র। আহত হন বেশ কয়েকজন পুলিশকর্মীও। পরে ২০১৭ সালে সারেঙ্গা থানায় বাঁকুড়া জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে প্রয়াত আইসি রবিলোচন মিত্রের আবক্ষ মূর্তি স্থাপন করা হয়।

এদিন  প্রয়াত আইসির স্মরণে পঞ্চম বর্ষের দৌড় প্রতিযোগিতায় সারা রাজ্যের প্রায় ছ’শো প্রতিযোগী অংশ নেন। পুরুষ, মহিলা ও শিশু তিনটি বিভাগে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানাধিকারী ছাড়াও মোট ৩০ জনকে পুরস্কৃত করা হয়। আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পুরুষ বিভাগে শালবনির  লক্ষীকান্ত মাহাতো প্রথম, বিনপুরের তারক মাণ্ডি দ্বিতীয় ও লালগড়ের কালীপদ মাহাতো তৃতীয় হন। মহিলা বিভাগে পিংকু সিংহমহাপাত্র প্রথম, জয়িতা রী দ্বিতীয়, মৌমিতা রী তৃতীয় ও শিশু বিভাগে সুরজ সেখ প্রথম, দিব্যেন্দু কর দ্বিতীয় ও চন্দন বিদ্ তৃতীয় স্থান অধিকার করে।

এ দিনের অনুষ্ঠানে বাঁকুড়া জেলা পুলিশ সুপার সুখেন্দু হীরা বলেন, ‘প্রয়াত আইসি রবিলোচন মিত্রের আত্মত্যাগের দিনটি আমরা জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে শহিদ দিবস হিসেবে পালন করি। এই উপলক্ষ্যে আমরা  ম্যারাথন দৌড় প্রতিযোগিতার আয়োজন করছি। এই ধরনের অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়েই পুলিশ-সাধারণ মানুষের মধ্যে নিবিড় সম্পর্ক স্থাপনে উদ্যোগী হই।’

এই দিনের  দৌড় প্রতিযোগিতার  উদ্বোধন করেন প্রয়াত আইসি রবীলোচন মিত্রের স্ত্রী সুদীপ্তা মিত্র। তিনি বলেন, ‘বাঁকুড়া জেলা পুলিশের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানাই।’

এ দিনের অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সারেঙ্গার বিধায়ক বীরেন্দ্রনাথ টুডু , পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি ধীরেন্দ্রনাথ ঘোষ প্রমুখ ।

উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন