মুকুল-স্পর্শ ভুয়ো! সব্যসাচী বুঝতে পারেননি ‘দাদা’ বাড়ির বাইরে প্রেস দাঁড় করিয়ে এসেছেন

0
Mukul Roy and Sabyasachi Dutta
সব্যসাচী দত্ত এবং মুকুল রায়। ফাইল ছবি

ওয়েবডেস্ক: সব্যসাচী দত্তের বিরুদ্ধে ওঠা শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগের উপর ভিত্তি করে ফিরহাদ হাকিমের নেতৃত্বে বৈঠক শেষ হল। বৈঠক শেষে ফিরহাদ জানান, “যার নীতি বোধ রয়েছে , সে কোনো দিন বিজেপিতে যাবে না। সব্যসাচী নিজে বুঝতে পারেনি, তার পুরনো দাদার অভিসন্ধি রয়েছে। বাইরে প্রেসকে দাঁড় করিয়ে রেখে তিনি সব্যসাচীর বাড়িতে গিয়েছিলেন। সব্যসাচী সৌজন্যতা দেখাতে গিয়ে তাঁর অভিসন্ধি বুঝতে ভুল করে ফেলেছে”।

সব্যসাচী বলেন, “পরশু দিন সাড়ে সাতটা নাগাদ আমি বাড়িতে ফিরেছি। ঠাকুরনগর থেকে বাড়ি ফেরার সময় আমার কাছে ফোন আসে। ‘আমি দাদা বলছি’ বলে আমার বাড়িতে আসার কথা বলেন। তখন আমি সৌজন্যতার খাতিরে তাঁকে আসতে বলি। তিনি নিজেই লুচি-আলুরদম খাওয়ার আবদার করেন। সেটা তৈরি হতে সময় লাগে। সে সময় ভারতের ক্রিকেট ম্যাচ চলছিল। আমি আবারও বলছি, আমার সঙ্গে আলোচনা হয়েছে ক্রিকেট এবং পুরনো কিছু কথা নিয়ে। কেশপুর-চমকাইতলা নিয়েও কথা হয়। আমি কোনো মিডিয়াকে ডাকিনি”।

একই সঙ্গে তিনি বলেন, “আমার দলের নেতৃত্ব, সহকর্মী এবং সহযোদ্ধারা আমাকে চেনেন। দলে ছিলাম, দলে আছি, দলে থাকব”।

উল্লেখ্য, রবিবার  বিধাননগর পুরসভার কাউন্সিলারদের নিয়ে বৈঠকে বসেছিলেন কলকাতা পুরসভার মেয়র তথা রাজ্যের মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম। উপস্থিত ছিলেন বিধাননগর পুরসভার মেয়র তথা তৃণমূল বিধায়ক সব্যসাচী দত্ত। গত শুক্রবার তাঁর বাড়িতে যান বিজেপি নেতা মুকুল রায়। এর পরই সব্যসাচীবাবুর বিজেপিতে যোগ দেওয়ার জল্পনা ছড়ায়। গত শনিবার তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশ সেই ঘটনা এবং জল্পনা খতিয়ে দেখে উপযুক্ত পদক্ষেপ নির্ধারণেই এ দিনের বৈঠক বলে জানা গিয়েছিল।

তাঁর বাড়িতে মুকুলবাবুর যাওয়া প্রসঙ্গে সব্যসাচীবাবু আগেই জানিয়েছিলেন, পরিবারের ভালো-মন্দের খোঁজখবর নিতেই মুকুলবাবু গিয়েছিলেন। সেখানে তাঁদের মধ্যে দু’ঘণ্টা কথোপকথন হয়। লুচি-আলুরদমও খান মুকুলবাবু।

বৈঠকে যোগ দিতে যাওয়ার সময় সব্যসাচীবাবু বলেন, “দল ডেকেছে তাই এসেছি। বৈঠকে দলের তরফে কোনো প্রশ্নের উত্তর চাওয়া হলে, তার জবাব দেব”।

অন্য দিকে মন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক সাংবাদিকদের সামনে স্পষ্টতই জানান, “শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে তাঁকে (সব্যসাচীকে) ডাকা হয়েছে। পুরসভার সমস্ত কাউন্সিলাররা রয়েছেন। তাঁরা যদি চান, তা হলে ওঁকে সরিয়ে দেওয়া হবে”।

অন্য দিকে ফিরহাদ জানান, ভারত-পাকিস্তানের যুদ্ধে যদি দু’পক্ষের সৈন্য হাত মিলিয়ে নেয়, তা হলে কি গুলি-গোলা চলার সম্ভাবনা থাকে। ফলে বিরোধী পক্ষের কোনো নেতার সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলা অনৈতিক কাজ।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here