চার দিনের সরস্বতী পুজোয় পূজিত হলেন কার্তিক, গণেশ, লক্ষ্মীও

saraswati puja at rautora village
রাওতোড়া গ্রামের সরস্বতী পূজা। নিজস্ব চিত্র।
indrani sen
ইন্দ্রাণী সেন

বাঁকুড়া: প্রতি বছর চার দিনের এক ‘অভিনব’ সরস্বতী পুজোর সাক্ষী থাকে রানিবাঁধের রাওতোড়া গ্রাম।

বাঁকুড়ার জঙ্গলমহলের রাওতোড়া গ্রামে আট পুরুষ ধরে ধারাবাহিক ভাবে চলে আসছে এই পুজো। এখানে এক সঙ্গে পূজিত হন কার্তিক, গণেশ, লক্ষ্মী আর সরস্বতী। পঞ্চমী তিথি থেকে শুরু হয়েছে দেবী অর্চনা। বৃহস্পতিবার নবমী তিথিতে হবে প্রতিমা বিসর্জন।

চার দিনের এই সরস্বতী পুজোর প্রতিমাতেও রয়েছে বৈচিত্র্য। একচালা প্রতিমায় সরস্বতীর পাশাপাশি রয়েছেন দেবী লক্ষ্মী। উপরে দু’পাশে কার্তিক ও গণেশ। আর ঠিক মাঝে নারায়ণ।

এই পুজো শুরুর ইতিহাস সম্পর্কে সে রকম কোনো প্রামাণ্য তথ্য পাওয়া না গেলেও স্থানীয়রা জানিয়েছেন, কয়েকশো বছর আগে রাওতোড়া  গ্রামের বর্ধিষ্ণু মণ্ডল পরিবারের সদস্যরা প্রথম এই পুজো শুরু করেছিলেন।

আরও পড়ুন তিন মাসে এক হাজার ভূমিকম্প, আতঙ্কে ঘরছাড়া মহারাষ্ট্রের এই অঞ্চলের বাসিন্দারা

‘জমিদার’ সাগর মণ্ডলের উদ্যোগে এই পুজো শুরু হলেও বর্তমানে তা সর্বজনীন চেহারা নিয়েছে। গ্রামের সব মানুষ একসাথে এই পুজো করেন। পুজোর খরচ মূলত ওঠে দেবত্র সম্পত্তি হিসাবে ঘোষিত কয়েকটি পুকুর থেকে। পুকুরগুলি ‘লিজ’ দিয়েই মূলত পুজোর খরচ তোলা হয়। আলাদা করে কারওকে পুজোর চাঁদা দিতে হয় না।

বর্তমান পুজো কমিটির সদস্য অভিষেক মণ্ডল বলেন, তাঁদের আট পুরুষ আগে থেকেই এই পুজো হয়ে আসছে। তবে এই ধরণের ব্যতিক্রমী পুজো ও প্রতিমার কারণ সম্পর্কে তিনি বিশেষ কিছু জানাতে পারেননি।

অভিষেকবাবু জানান, এ বার পুজোর বাজেট প্রায় তিন লক্ষ টাকা। চার দিনের এই পুজোয় প্রতিদিন সন্ধ্যায় নানান সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। রাওতোড়া গ্রামের সব মানুষ তো ছিলেনই, পাশাপাশি জবলা, কাঁঠালিয়া, ঝিলিমিলি, বাঁশডিহা গ্রাম সহ এলাকার বেশ কয়েকটি গ্রামের মানুষও যোগ দেন।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*


This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.