CBI Kolkata Office

কলকাতা: সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে বাংলার ছয় বেআইনি আর্থিক সংস্থার বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করল সিবিআই।

আকস্মিক ভাবে সিবিআই অধিকর্তা অলোক বর্মাকে অপসারণ করে অন্তর্বর্তীকালীন মেয়াদে সেই পদে বসানো হয়েছে এম নাগেশ্বর রাওকে। তবে এই অপসারণের শিকড় অনেক গভীর পর্যন্ত বিস্তৃত। যেখানে ছিল কেন্দ্রের সর্বোচ্চ এই তদন্তকারী সংস্থার -গৃহযুদ্ধের বীজ। প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ আপাতত ওই গৃহযুদ্ধের ন্যক্করজনক পরিণতিকে টেনে নিয়ে গিয়েছে সুপ্রিম কোর্টে। যদিও রাজনৈতিক চাপান-উতোর মোটেই থামেনি।

বিরোধী দল কংগ্রেসের তরফে দাবি করা হচ্ছে, ফ্রান্সের সঙ্গে ভারতের রাফাল যুদ্ধবিমান কেনার নিয়মবিরুদ্ধ চুক্তির তদন্তকে নিজেদের মতো করেই চালনা করার স্বার্থে কেন্দ্রের শাসক দল বিজেপি সিবিআই অধিকর্তাকে সরিয়ে দিয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে এই কাণ্ডে জড়িয়ে পড়েছেন একাধিক সিবিআই আধিকারিক। যার জেরে সিবিআইয়ের তদন্তকাজ সাময়িক ভাবে শিকেয় ওঠার জোগাড়। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রে তদন্তে ছেদ ধরাতে চাইছে না সংস্থা। স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন উঠছে, এর মধ্যেও কি রয়েছে কোনো ভিন্ন রাজনীতি?

বুধবার সন্মার্গ, টাওয়ার, ভেলোসিটি, ত্রিভুবন এবং ভিজিলের মতো ছয়টি সংস্থার বিরুদ্ধে এফআরআই দায়ের করে তদন্তে নামে সিবিআই। এই বেআইনি আর্থিক লগ্নি সংস্থাগুলির বিরুদ্ধে অভিযোগ, তারা মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে টাকা তুলেছিল। সিবিআইয়ের তরফে জানানো হয়, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশেই এই সংস্থাগুলির বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়েছে। রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে বেআইনি আর্থিক সংস্থাগুলির কার্যালয়। হোটেল-লজ, আবাসন, গয়না অথবা সংবাদপত্রের ব্যবসা খুলে এগুলি ব্যবসা জাঁকিয়ে বসেছিল।

বেআইনি আর্থিক সংস্থার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ আজকের নয়। কয়েক লক্ষ আমানতকারী ওই সংস্থাগুলিতে টাকা রেখে প্রতারিত হয়েছেন। এ ধরনের একাধিক সংস্থার বিরুদ্ধে বছর চার-পাঁচেক ধরে তদন্ত চললেও কোনো তদন্তকারী সংস্থা আমানতকারীদের টাকা ফেরতের ব্যাপারে সঠিক দিশা দেখাতে পারেনি বলেই আমানতকারীদের দাবি। তাঁরা আরও অভিযোগ করে বলেছেন, গত ২০১৬ রাজ্য বিধানসভা ভোটের আগেও এ ভাবেই সক্রিয় হয়ে উঠেছিল সিবিআই। কিন্তু টাকা ফেরতের কোনো দরজা খোলেনি।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here