আপাতত বিক্ষিপ্তই, জুলাইয়ের শুরুতে জোর বৃষ্টির সম্ভাবনা রাজ্য জুড়ে

0
845

কলকাতা: রোদ, বৃষ্টির খেলা রোজই পাচ্ছে কলকাতা তথা সমগ্র দক্ষিণবঙ্গবাসী। কিন্তু গত সপ্তাহের সেই প্রবল বৃষ্টিটা উধাও হয়ে গিয়েছে। জুনের শেষের দিনগুলো এ রকম বৃষ্টি পেলেও জুলাইয়ের শুরুতে ফের ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির কবলে পড়তে পারে দক্ষিণবঙ্গ, এমনই জানাচ্ছেন আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা।

গত সপ্তাহে দু’বার ভারী বৃষ্টির কবলে পড়েছিল কলকাতা। এর ফলে জুনের প্রথম দু’সপ্তাহে ক্রমশ বাড়তে থাকা বৃষ্টির ঘাটতি অনেকটাই ধুয়ে গিয়েছে। তবে শুক্রবারের পরে সে ভাবে জোর বৃষ্টি হয়নি কলকাতায়। হাল্কা বৃষ্টিতেই মন ভিজেছে শহরের মানুষের। তবে বৃষ্টি হাল্কা হলেও, সর্বোচ্চ তাপমাত্রা বেশি বাড়তে না পারায় কোনো অস্বস্তিজনিত সমস্যা হয়নি।

কলকাতার ওপর বৃষ্টির জোর কমার কারণ, মৌসুমী অক্ষরেখা কিছুটা দূরে চলে যাওয়ার। গত শনিবার পর্যন্ত অক্ষরেখাটি দক্ষিণবঙ্গ পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল, কিন্তু রবিবার থেকে ঝাড়খণ্ড, ওড়িশা হয়ে বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তার করেছে সে। এর মূল কারণ বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া একটি নিম্নচাপ। ওই নিম্নচাপটি বেশি শক্তি না বাড়ালেও, ওড়িশা হয়ে স্থলভূমিতে ঢোকায়, দূরে সরেছে অক্ষরেখা। আবার ওই নিম্নচাপের পরোক্ষ প্রভাবেই মঙ্গলবার সকাল থেকে কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জায়গায় বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি হচ্ছে।

আগামী শনিবার পর্যন্ত পরিস্থিতি থাকবে বলে মনে করছেন আবহাওয়া বিশেষজ্ঞ রবীন্দ্র গোয়েঙ্কা। তাঁর কথায়, “বুধবার থেকে শনিবার পর্যন্ত বিক্ষিপ্ত ভাবে হাল্কা বৃষ্টিই হবে শহরে। তবে রবিবার থেকে বৃষ্টির পরিমাণ বাড়ার একটা সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।” রবীন্দ্রবাবুর সঙ্গে অনেকটাই একমত কলকাতার আবহাওয়া সংক্রান্ত একটি ফেসবুক পেজ। সেই পেজের অ্যাডমিনের মতে, ১ জুলাই থেকে ৬ জুলাই প্রবল বৃষ্টি হবে দক্ষিণবঙ্গ জুড়ে। এর ফলে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হওয়ার আগাম সতর্কবার্তা জানিয়েছেন তিনি।

জুনের শেষে বঙ্গোপসাগরে আরও একটি নিম্নচাপ তৈরি হওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের আবহাওয়া সংস্থাও।

উত্তরবঙ্গে বৃষ্টি নেই

গত কয়েক বছর ধরেই দেখা যাচ্ছিল, বৃষ্টির নিরিখে জুন মাসে, দক্ষিণবঙ্গকে অনেকটাই পেছনে ফেলে দিয়েছে উত্তরবঙ্গ। অন্য বছর এই সময়ে উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জায়গায় বিশেষত তরাই এবং ডুয়ার্সে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়ে যায়। কিন্তু এ বার ছবিটা সম্পূর্ণ উলটো। এক দিকে দক্ষিণবঙ্গে যখন বর্ষা মোটের ওপর স্বাভাবিক তখন উত্তরবঙ্গে ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ২১ শতাংশে। সব থেকে খারাপ অবস্থা কোচবিহার, মালদা, উত্তর এবং দক্ষিণ দিনাজপুর জেলায়। মৌসুমী অক্ষরেখার দক্ষিণমুখী হওয়া এবং উত্তরবঙ্গে সে ভাবে কোনো ঘূর্ণাবর্ত না থাকার ফলেই এই পরিস্থিতি বলে মনে করা হচ্ছে। তবে আশার কথা, শুক্রবার থেকে দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার এবং কোচবিহার জেলায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে আবহাওয়া দফতরের তরফ থেকে। তবে মালদা এবং দুই দিনাজপুরে কবে বৃষ্টি হবে সে ভাবে কিছু জানায়নি আবহাওয়া দফতর।

ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি পশ্চিম, দক্ষিণ এবং উত্তর ভারতে

আগামী পাঁচ দিন দেশের অধিকাংশ অঞ্চলেই ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সতর্কবার্তা জারি করেছে আবহাওয়া দফতর। এই মুহূর্তে বঙ্গোপসাগরের ওই নিম্নচাপটি ঘূর্ণাবর্তে দুর্বল হয়ে গেলেও, ঝাড়খণ্ড লাগোয়া ছত্তীসগঢ়ে রয়েছে। সেই সঙ্গে রয়েছে মৌসুমী অক্ষরেখা। পশ্চিম উপকূলে রয়েছে আরও একটি অক্ষরেখা, দক্ষিণ গুজরাতে রয়েছে একটি ঘূর্ণাবর্ত। সেই সঙ্গে উত্তর ভারতে রয়েছে একটি পশ্চিমী ঝঞ্ঝা। এই সবের প্রভাবেই এত বৃষ্টির সম্ভাবনা। বাকি অঞ্চলগুলির তুলনায়, উত্তরাখণ্ড, গুজরাত এবং পশ্চিম উপকূলে বৃষ্টির পরিমাণ অনেক বেশি হবে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া দফতর।

এক ক্লিকে মনের মানুষ,খবর অনলাইন পাত্রপাত্রীর খোঁজ

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here