কলকাতা: অনেক হয়েছে বাড়ি বসে থেকে পড়াশোনা। এ বার বাড়ির বাইরে বেরিয়ে প্রকৃতির সান্নিধ্যে এসে পড়াশোনা করতে হবে। নইলে পড়ুয়াদের আরও অনেক ক্ষতি হয়ে যাবে। এমনই মনে করছেন পশ্চিমবঙ্গের অধিকাংশ শিক্ষক-শিক্ষিকা। তাই মঙ্গলবার স্কুল-কলেজ পুনরায় খুলে যাওয়ায় খুশির হাওয়া রাজ্যের শিক্ষামহলে।

বেশ কিছু সংবাদমাধ্যমে বলা হচ্ছে যে দেড় বছর পর রাজ্যে স্কুল খুলল। যদিও কথাটা ঠিক নয়। করোনার প্রথম ঢেউ কমে যাওয়ার পর গত ১২ ফেব্রুয়ারি নবম থেকে দ্বাদশ শ্রেণির পড়ুয়াদের জন্য স্কুল খুলে গিয়েছিল। টানা দু’ মাস স্কুল হয়েও ছিল ভালো ভাবেই। কিন্তু দ্বিতীয় ঢেউ ভয়াবহ ভাবে ছড়িয়ে পড়ায় ফের ১৯ এপ্রিল স্কুল বন্ধ হয়ে যায়।

ফলে, বলা যেতে পারে যে দীর্ঘ সাত মাস পর স্কুল পুনরায় খুলল রাজ্যে। তবে অতিমারি কালে এই প্রথম বার কলেজ খুলল। কারণ গত ফেব্রুয়ারিতে কলেজ খোলার অনুমতি দেয়নি রাজ্য।

সূত্রের খবর, সপ্তাহে ৩ দিন ক্লাস হবে লেডি ব্রেবোর্ন, বেথুন ও স্কটিশচার্চ কলেজে। অন্য দিকে, সপ্তাহে ২ দিন ক্লাস হবে আশুতোষ, বঙ্গবাসী, সুরেন্দ্রনাথ, বাসন্তীদেবীর মতো কলেজগুলোতে।বঙ্গবাসীতে জেনারেলের নয়, শুধু অনার্সের ক্লাস শুরু হচ্ছে।

কলেজ পড়ুয়ারা এখন টিকাপ্রাপ্তের আওতায় রয়েছেন। সে কারণে কলকাতার বেশ কিছু কলেজই ক্লাসে আসার জন্য পড়ুয়াদের টিকার দু’টো ডোজের শংসাপত্র থাকা বাধ্যতামূলক করে দিয়েছে। ক্লাস করতে আশুতোষে টিকার দু’টো ডোজের শংসাপত্র বাধ্যতামূলক। ন্যূনতম একটি ডোজের ভ্যাকসিন সার্টিফিকেট লাগবে স্কটিশ চার্চ ও বঙ্গবাসীর মতো কলেজগুলোতে ক্লাস করতে।

রাজ্যের সরকারি স্কুলগুলি সকাল দশটায় খুলবে। তবে বেসরকারি স্কুল এ দিন সকাল থেকেই খুলে গিয়েছে। ক্লাসরুম ফের সরগরম হয়ে উঠেছে। বেশ কিছু স্কুলে পড়ুয়াদের অভ্যর্থনা জানানোরও ব্যবস্থা করা হয়েছে। সব মিলিয়ে রাজ্যের পঠনপাঠন আবার স্বাভাবিক হওয়ার দিকে এগোচ্ছে।

যদিও এর মধ্যেও এক শ্রেণির মানুষ আতংক তৈরি করার চেষ্টায় আছেন। করোনা সংক্রমণ বেড়ে যাচ্ছে, এ হেন কথা বলে অন্যদের ভয় দেখাচ্ছেন। কিন্তু আসল কথা হল দৈনিক পাঁচ হাজার সংক্রমণ রেকর্ড করা কেরলে যদি স্কুল-কলেজ খোলা থাকে, তা হলে পশ্চিমবঙ্গেও খুলতেই হবে। কারণ অফলাইনে পড়াশোনা বেশি দিন চলতে পারে না।

আরও পরতে পারেন

বদলেছে উপসর্গ, কোভিড এখন আগের থেকে অনেক মৃদু, বলছেন কলকাতার চিকিৎসকরা

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন