মরসুমের প্রথম জোর বৃষ্টি কলকাতায়, উত্তরবঙ্গে বন্যা ঘোরালো

0

অবশেষে কলকাতার ওপরে সদয় হল বর্ষা। বৃষ্টির ঘাটতি বাড়তে বাড়তে এক সময়ে ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছিল। সোমবার ভোর সাড়ে ৫টা থেকে মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৮টা, মাত্র ২৭ ঘণ্টার প্রবল বৃষ্টিতে অনেকটাই উন্নতি হয়েছে সেই অবস্থার। অন্য দিকে উত্তরবঙ্গে আরও ঘোরালো হয়েছে বন্যা পরিস্থিতি।

শুধু কলকাতাই নয়, সমগ্র দক্ষিণবঙ্গেই গত ২৪ ঘণ্টায় ভালো বৃষ্টি হয়েছে। এর পেছনে রয়েছে নিম্নচাপ অক্ষরেখা ও একটি ঘূর্ণাবর্ত। গত রবিবার থেকেই নিম্নচাপ অক্ষরেখাটি  দক্ষিণবঙ্গের ওপর দিয়ে বিস্তৃত রয়েছে। এর ফলেই এই অঞ্চলে সক্রিয় হয়েছে বর্ষা। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে দক্ষিণবঙ্গ ও ঝাড়খণ্ড সংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করা একটি ঘূর্ণাবর্ত। এই দ্বিফলা আক্রমণে সোমবার সকাল সাড়ে ৮টা থেকে মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৮টা পর্যন্ত কলকাতার আলিপুরে ৭৫ মিমি বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। এই মরসুমে কলকাতায় এটাই সর্বাধিক বৃষ্টি। এর সাথে সোমবার ভোর সাড়ে ৫টা থেকে সকাল সাড়ে ৮টা পর্যন্ত হওয়া ৩৫ মিমি বৃষ্টি যোগ করলে শহরের বৃষ্টির হিসেব দাঁড়ায় ২৭ ঘণ্টায় ১১০ মিমি। দক্ষিণবঙ্গের বাকি জায়গাগুলির মধ্যে ৫০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টি হয়েছে কাঁথি, দিঘা, ক্যানিং, উলুবেড়িয়া, হলদিয়া আর লালগড়ে। ৪০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টি হয়েছে পানাগড় আর ডায়মন্ড হারবারে। গত দু’দিনের এই বৃষ্টিপাতের ফলে দক্ষিণবঙ্গের বৃষ্টির ঘাটতি নেমে এসেছে ৯ শতাংশে। রবিবারও ঘাটতি ছিল ১৩ শতাংশ। মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৫টার হিসেবে দেখা যাচ্ছে দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জায়গায় এখনও বৃষ্টি চলছে। সুতরাং বুধবার, বৃষ্টির ঘাটতি আরও কিছুটা নেমে আসবে।flood-nb

অন্য দিকে বৃষ্টি পিছু ছাড়ছেই না উত্তরবঙ্গের চার জেলা দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার আর কোচবিহারের। গত তিন চার দিন ধরে প্রবল বৃষ্টির ফলে ফুলেফেঁপে উঠেছে উত্তরবঙ্গের নদীগুলি। বিপদসীমার ওপর দিয়ে বইছে তিস্তা, মহানন্দা, জলঢাকা ও আরও অনেকে। সোমবার রাত থেকে আরও এক দফা অতি ভারী বৃষ্টির ফলে আরও অবনতি হয়েছে পরিস্থিতির। শনিবার রাত থেকে রবিবার সকাল পর্যন্ত গত কুড়ি বছরের সর্বাধিক বৃষ্টি (৩৩৭ মিমি) হয়েছিল শিলিগুড়িতে। এর ফলে জলমগ্ন হয়ে পড়ে শিলিগুড়ি শহরের বিভিন্ন ওয়ার্ড। কাটা ঘায়ে নুনের ছিটের মতো সোমবার রাত থেকে মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত আরও ১১০ মিমি বৃষ্টি হয়েছে শহরে। শিলিগুড়ির পাশাপাশি তুমুল বৃষ্টি হয়েছে বাগরাকোট, হাসিমারা, ফালাকাটা, আলিপুরদুয়ার, কোচবিহার, দার্জিলিং আর কালিম্পং-এ। অতিরিক্ত বৃষ্টির জন্য জায়গায় জায়গায় ধসের ফলে ব্যাহত হচ্ছে শিলিগুড়ি থেকে দার্জিলিং-এর সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা। উত্তরবঙ্গে এখন বৃষ্টির পরিমাণ স্বাভাবিকের থেকে ২২ শতাংশ বেশি।

উত্তরবঙ্গের জন্য কিছুটা আশার বাণী অবশ্য শুনিয়েছে আবহাওয়া দফতর। তাদের মতে উত্তরবঙ্গে যে ঘূর্ণাবর্তটির ফলে তুমুল বৃষ্টি হচ্ছিল, সেটা ক্রমে দুর্বল হয়ে যাচ্ছে। এর ফলে কাল, বুধবার থেকে বৃষ্টি কমবে উত্তরবঙ্গে। তবে তার সাথে তারা এটাও জানাতে ভোলেননি, যে শুক্রবার থেকে আবার ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির কবলে পড়বে উত্তরবঙ্গ। আবহাওয়া দফতরের মতে, দক্ষিণবঙ্গে অবস্থিত ঘূর্ণাবর্তটিও দুর্বল হওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে। এর ফলে বুধবার থেকে দক্ষিণবঙ্গেও বৃষ্টি কমবে। তবে বিক্ষিপ্ত ভাবে বৃষ্টি চলবে সর্বত্র।

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন