তুষারপাতের পরে সান্দাকফুতে।

ওয়েবডেস্ক: ডিসেম্বরেই মরশুমের প্রথম তুষারপাত পেল পাহাড়। শুক্রবার বরফে সাদা হয়ে গেল সান্দাকফু অঞ্চল। তুষারবৃষ্টি হয়েছে দার্জিলিং শহরেও।

শুক্রবার বিকেল থেকে তুষারপাত শুরু হয় সান্দাকফু-ফালুটে। বাকি অঞ্চলে শুরু হয় তুষারবৃষ্টি। ঘণ্টাখানেক সেই বৃষ্টির পরে সাদা হয়ে যায় দার্জিলিং অঞ্চল। বরফের ছোঁয়া পেয়ে পর্যটকদের সঙ্গে আনন্দে আত্মহারা হয়ে যান স্থানীয় বাসিন্দারা।

দার্জিলিং শহরের বাসিন্দাদের একাংশ এটাকে শিলাবৃষ্টি বলে দাবি করলেও আবহাওয়া বিশেষজ্ঞ রবীন্দ্র গোয়েঙ্কার দাবি এটা তুষারবৃষ্টি। দার্জিলিং শহরে যেটা হয়েছে, আবহাওয়ার পরিভাষায় তাকে স্লিট বলে। বৃষ্টি এবং বরফের মিশেলেই এই স্লিট তৈরি হয়। এক কথায় বলা যেতে পারে তুষারবৃষ্টি।

তুষারবৃষ্টি বা স্লিটের পরে।

শুক্রবারই দার্জিলিং-এর তাপমাত্রা নেমে গিয়েছিল ৩ ডিগ্রিতে। এখানেই স্লিটের সম্ভাবনা প্রবল বলে জানাচ্ছেন তিনি। তাঁর কথায়, “কোনো অঞ্চলের তাপমাত্রা চার ডিগ্রি বা তার নীচে নেমে গেলেই এই স্লিট তৈরি হয়। যে হেতু দার্জিলিং-এর তাপমাত্রা তিন ডিগ্রিতে নেমেছে, তাই শুক্রবার তুষারবৃষ্টি হয়েছে দার্জিলিং-এ।” দার্জিলিং-এ তুষারবৃষ্টি হলেও,পাহাড়ের একটু কম উচ্চতার জায়গাগুলিতে শিলাবৃষ্টি হয়েছে।

কী কারণে এই তুষারবৃষ্টি হল পাহাড়ে? রবীন্দ্রবাবুর ব্যাখ্যায়, “ঝাড়খণ্ডে একটি বিপরীত ঘূর্ণাবর্ত আরব সাগর থেকে জলীয় বাষ্প টানছে পাহাড়ের দিকে। অন্য দিকে অসম-মেঘালয়ের ওপরে একটি ঘূর্ণাবর্ত রয়েছে। এর সঙ্গে যোগ হয়েছিল বিগত পশ্চিমী ঝঞ্ঝার ছেড়ে যাওয়া কিছু জলীয় বাষ্প। এর ফলেই এ রকম আবহাওয়া।”

অর্থাৎ শুক্রবার বিকেলে পাহাড়ে তিন ধরনের জিনিস হয়েছে। বেশি উচ্চতায় তুষারপাত, মাঝারি উচ্চতায় তুষারবৃষ্টি এবং কম উচ্চতায় শিলাবৃষ্টি।

এর ফলে উত্তরবঙ্গে ঠান্ডার দাপট আরও বেড়েছে। দার্জিলিং-এ শনিবার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ২.৪ ডিগ্রি। শনিবার কালিম্পং-এর তাপমাত্রাই নেমে গিয়েছে ৭ ডিগ্রিতে। শিলিগুড়ি (৯.৮) এবং কোচবিহারে (৯.৯) পারদ ছিল দশের নীচে। জলপাইগুড়ির সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১১.৬।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here