selfie mania in bishnupur
indrani
ইন্দ্রাণী সেন

বাঁকুড়া: সারা বিশ্ব যখন ফুটবল বিশ্বকাপ জ্বরে আক্রান্ত সেখানে ব্যতিক্রমী চিত্র ধরা পড়ল বাঁকুড়ার বিষ্ণুপুর শহরে। বিষ্ণুপুরের মানুষ এখন সেলফি-জ্বরে আক্রান্ত। সকাল হতেই ফোন হাতে নিয়ে আট থেকে আশি সকলেই হাজির হচ্ছেন বিষ্ণুপুর প্রশাসনিক ভবনের সামনে। নানা অঙ্গভঙ্গিতে ছবি তুলছেন আর পোস্ট করছেন সোশ্যাল মিডিয়ায়। পোস্টের সাথে ট্যাগ লাইন দিতেও ভুলছেন না তাঁরা। তাঁরা যে জানেন, লাইক শেয়ার কমেন্ট হলেই মিলবে পুরস্কার। মডেলিং-এরও স্বপ্ন পূরণ হয়ে যেতে পারে।

হঠাৎ করে কেন এই সেলফি-জ্বর?

আসলে এর পেছনে রয়েছে বিষ্ণুপুর মহকুমা প্রশাসনের একটা উদ্যোগ।  পর্যটন, সংস্কৃতি, হস্তশিল্প ও ইতিহাসের প্রচার ও প্রসারের লক্ষ্যে বিষ্ণুপুর মহকুমা প্রশাসন জনপ্রিয় সোশ্যাল মিডিয়াকেই হাতিয়ার করছে। সম্প্রতি বিষ্ণুপুর মহকুমা প্রশাসনের তরফে বিশিষ্ট শিল্পীদের দিয়ে মহকুমা শাসকের দফতর, কোষাগার ভবন, উপসংশোধনাগরের পাঁচিলে চিত্র আঁকা হয়েছে। ফেসবুককে হাতিয়ার করে এই দেওয়াল চিত্র-সহ সেলফি প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে।

মহকুমা প্রশাসন সূত্রে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী প্রশাসনিক ভবনের দেওয়াল চিত্রের সামনে দাঁড়িয়ে সেলফি তুলে নিজের ফেসবুক ওয়ালে পোস্ট করতে হবে। ওই পোস্টে সর্বোচ্চ লাইক, কমেন্ট আর শেয়ারের ভিত্তিতে প্রথম দশ জনকে পুরস্কৃত করা হবে। প্রশাসন সূত্রে আরো জানানো হয়েছে যে লাইকের জন্য এক পয়েন্ট, কমেন্টে ও শেয়ারের জন্য দশ পয়েন্ট করে পাওয়া যাবে। প্রথম দশ প্রতিযোগী বিষ্ণুপুরের বিখ্যাত বালুচরী ও স্বর্ণচুরী শাড়ির বিজ্ঞাপনে মডেল হওয়ার জন্য নির্বাচিত হবেন।

মহিলা, পুরুষ সবাই এই প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পারবেন। ১৩ জুন থেকে শুরু হয়েছে এই প্রতিযোগিতা। ২৯ জুন রাত বারোটায় এই প্রতিযোগিতা শেষ। চুড়ান্ত ফলাফল ঠিক করবে বিষ্ণুপুর মহকুমা প্রশাসন। প্রতিযোগীদের ফেসবুক পোস্টের স্ক্রিনশট তুলে প্রশাসনের হোয়াটসআপ নম্বরে পাঠাতে হবে।

প্রতিযোগিতার বিজ্ঞপ্তি সংবাদমাধ্যম ও সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশ হতেই সেলফিপ্রেমী সব বয়সের মানুষ দেওয়ালচিত্রগুলির সামনে জড়ো হয়েছেন। সেলফি তুলে প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে বিষ্ণুপুর ছাড়িয়ে দূর দুরান্ত থেকেও অনেকে ভিড় করছেন।

মহকুমা শাসক মানস মণ্ডল বলেন, “সম্প্রতি বিষ্ণুপুর প্রশাসনিক ভবনের দেওয়ালে যামিনী রায়ের ও বিষ্ণুপুর ঘরানার বিভিন্ন চিত্র দিয়ে সাজানোর কাজ শেষ হয়েছে। এখন মানুষ হোয়াটসঅ্যাপ, ফেসবুক, টুইটার-সহ জনপ্রিয় সোশ্যাল মিডিয়ায় মেতে থাকেন তাই আমাদের কাজকে জনমানসে আরও ছড়িয়ে দিতেই এই উদ্যোগ।”

তিনি আরও বলেন, সরকারি ভাবে খুব শীঘ্রই একটি বিষ্ণুপুর বিষয়ক সম্পূর্ণ নিজস্ব একটি ওয়েবসাইটও খোলা হবে।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here