ইন্দ্রাণী সেন, বাঁকুড়া: সিনিয়র চিকিৎসকদের ছুটি বাতিল করে আউটডোর পরিষেবা স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করল বাঁকুড়া সম্মিলনী মেডিক্যাল কলেজ কর্তৃপক্ষ। বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই আউটডোর পরিষেবা চালু হয়েছে। এই হাসপাতালে জুনিয়র চিকিৎসকের সংখ্যা প্রায় তিনশো ও সিনিয়র চিকিৎসকের সংখ্যা দু’শো কুড়ির মতো। এর মধ্যে ৩০-৪০ জন চিকিৎসক এমন রয়েছেন, যাঁদের হয় ছুটি বাতিল করা হয়েছে, নয়তো অন্যান্য বিভাগ থেকে নিয়ে আসা হয়েছে।

বাঁকুড়া সম্মিলনী মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ পার্থপ্রতিম প্রধান সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বলেন, “প্রায় দু’শো জুনিয়র চিকিৎসক কর্মবিরতির ডাক দিয়ে অবস্থানে বসেছেন, তাঁদের কোনো পরিষেবায় পাওয়া যাচ্ছে না। সিনিয়র চিকিৎসকদের ছুটি বাতিল করে তাঁদের দিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা চলছে। বুধবার আউটডোর পরিষেবা চালু করা না গেলেও বৃহস্পতিবার তা স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা হচ্ছে। কর্মবিরতিতে থাকা জুনিয়র চিকিৎসক ও পুলিশের সঙ্গে দফায় দফায় আলোচনা চলছে।” আন্দোলনরত জুনিয়র ডাক্তারদের দাবিকে মান্যতা দিয়েও তিনি বলেন, রোগীরাও হাসপাতালে এসে চিকিৎসা পরিষেবা পাওয়ার অধিকারী।”

আরও পড়ুন এসএসকেএমে মুখ্যমন্ত্রী, মুকুল রায় তুললেন নতুন দাবি

উল্লেখ্য, কলকাতার এনআরএস কাণ্ডের জেরে সারা রাজ্যের সঙ্গে বাঁকুড়া সম্মিলনী মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের জুনিয়র চিকিৎসকরা মঙ্গলবার দুপুর থেকে কর্মবিরতির ডাক দিয়ে অবস্থানে বসেন। তাঁদের অন্যতম মূল দাবি, হাসপাতালে চিকিৎসকদের নিরাপত্তা দিতে হবে। এই ঘটনার পর জেলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই হাসপাতালের স্বাভাবিক কাজকর্ম ব্যাহত হয়। এই নিয়ে রোগী ও তাদের আত্মীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। বুধবার দিনভর আউটডোর পরিষেবা বন্ধ থাকায় অনেক মানুষকে ফিরে যেতে হয়। এই অবস্থায় হাসপাতালের কাজকর্ম স্বাভাবিক রাখতে বুধবারই বাঁকুড়া সম্মিলনী মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের তরফে সমস্ত সিনিয়র ডাক্তারের ছুটি বাতিল করা হয়।

সিনিয়র ডাক্তারদের দিয়েই এই মুহূর্তে রোগী দেখার কাজ চলছে। হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগে চিকিৎসা করাতে আসা ভোলানাথ মহান্তি বলেন, “গতকাল চিকিৎসার সুযোগ না পেয়ে ফিরে গেছি। আজ আবার এসেছি।” চিকিৎসকদের মারধর যাঁরা করেছেন, তাঁদের কঠোর শাস্তিরও দাবি তোলেন তিনি।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here