প্রতিবাদী শিক্ষিকারা। ছবি: গণশক্তির সৌজন্যে

কলকাতা: বদলির প্রতিবাদে বিক্ষোভে নেমে মঙ্গলবার বিকাশভবনের সামনে প্রকাশ্যে বিষ খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন পাঁচ শিক্ষিকা। তাঁদের বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য ধারায় স্বতঃপ্রণোদিত মামলা রুজু করল পুলিশ।

গতকাল বিকাশ ভবনের সামনে এসএসকে, এমএসকের পাঁচ শিক্ষিকা বদলির প্রতিবাদ জানাতে এসে প্রকাশ্যে বিষ খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। তাঁদের অভিযোগ, ১০ হাজার টাকা বেতন পান, সেই টাকায় তাঁরা ৭০০ কিলোমিটার দূরে চাকরি করতে পারবেন না। আন্দোলন করার ‘অপরাধে’ই তাঁদের এ ভাবে বদলি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তাঁরা।

পুলিশ সূত্রে খবর, তাঁদের বিরুদ্ধে একাধিক জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা রুজু হয়েছে বিধাননগর উত্তর থানায়। পুলিশের কাজে বাধা, আত্মহত্যার চেষ্টা, সরকারি নির্দেশ অমান্য-সহ একাধিক ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

অন্য দিকে, পাঁচ শিক্ষিকার আত্মহত্যার চেষ্টার ঘটনা নিয়ে মুখ খুলেছেন রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু। দীর্ঘ ফেসবুক পোস্টে এসএসকে এবং এমএসকের সহায়ক/সহায়িকা, সম্প্রসারক/সম্প্রসারিকাদের জন্য বর্তমান রাজ্য সরকারের একাধিক পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করেছেন তিনি।

শিক্ষামন্ত্রীর দাবি

*বাম সরকারের আমলে পঞ্চায়েত এবং গ্রামোন্নয়ন বিভাগের অধীনে এসএসকে এবং এমএসকের সহায়ক/সহায়িকা, সম্প্রসারক/সম্প্রসারিকারা নামমাত্র সাম্মানিকের বিনিময়ে কাজ করতেন। কাজের নিশ্চয়তা, আর্থিক নিরাপত্তা এবং অবসরকালীন সুযোগসুবিধা বলে কিছু ছিল না।

*কিন্তু মমতা বন্দোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে তৃণমূল সরকার ১ ডিসেম্বর, ২০২০ থেকে এসএসকে এবং এমএসকেগুলিকে বিদ্যালয় শিক্ষা বিভাগের অধীনে এনে একটি সুসংবদ্ধ রূপ দেয়।

*সহায়ক সহায়িকাদের সাম্মানিক বাড়িয়ে মাসিক ১০৩৪০ টাকা এবং সম্প্রসারক/সম্প্রসারিকাদের সাম্মানিক বাড়িয়ে ১৩৩৯০ টাকা করা হয়। এছাড়াও বাৎসরিক ৩ শতাংশ বৃদ্ধি বা ইনক্রিমেন্ট চালু করা হয়েছে।

*প্রত্যেককে স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পের অধীনে নিয়ে আসা হয়েছে।

*যাঁরা ৬০ বছর বয়েসে অবসর নেওয়ার সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন, তাঁদের অবসরের সময়ে প্রত্যেকের জন্য ৩ লাখ টাকা এককালীন অবসর-ভাতা চালু করা হয়েছে। বাকিদের জন্যও এই সুবিধা দানের বিষয়ে অর্থ দপ্তরের সঙ্গে ফাইল চলছে।

*৬০ বছর বয়েসে অবসর নেওয়ার সিদ্ধান্ত যাঁরা জানিয়েছেন, তাঁদের জন্য ১/২/২১ থেকে প্রভিডেন্ট ফান্ড চালু করা হয়েছে।

*মহিলাদের জন্য সরকারি নিয়মানুযায়ী মাতৃত্বকালীন ছুটির ব্যবস্থা করা হয়েছে।

*এ ছাড়াও প্রত্যেককের জন্য চিকিৎসা সংক্রান্ত সহ বাৎসরিক ১৮ দিন ক্যাজুয়াল লিভ বা ছুটির অধিকার দেওয়া হয়েছে।

পরিশেষে তিনি দাবি করেছেন, “এত কিছু করার পরেও যাঁরা আন্দোলন করছেন, তাঁরা শিক্ষক শিক্ষিকা নন, বিজেপি ক্যাডার”।

এ দিকে, হাসপাতালে ভরতি ওই পাঁচজনের শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়েছে। এঁদের মধ্যে তিনজনকে আইসিইউ-তে স্থানান্তরিত করা হয়েছে। 

ঘটনায় প্রকাশ, অসুস্থ পাঁচ শিক্ষিকাই ঐক্য মঞ্চের সদস্য। শিক্ষকদের এই সংগঠন বেশ কিছু দিন ধরেই শিক্ষকদের বদলি ইস্যুতে আন্দোলন করছে। এর আগে নবান্নের সামনে এমনকি শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসুর বাড়ির সামনেও বিক্ষোভ দেখিয়েছেন তাঁরা।

খবর অনলাইন-এর আজকের আরও কিছু উল্লেখযোগ্য খবর পড়তে পারেন এখানে:

নিরাপত্তা সুনিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত বাড়িতেই থাকুন মহিলারা, এটা তালিবানের স্রেফ ‘পরামর্শ’ না কি ‘ফতোয়া!’

তালিবানের কাজ দেখে তবেই স্বীকৃতি, একমত ভারত-রাশিয়া

সাইবার নিরাপত্তা সূচকে বাংলাদেশের উন্নতি ২৭ ধাপ, সার্কভুক্ত দেশে প্রথম স্থানে

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন