SFI, west bengal

কলকাতা: গত সোমবারই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ফোন করে উপাচার্যের সঙ্গে আলোচনা করেন। কিন্তু তাতেও দমে যাননি যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের বিক্ষোভরত পড়ুয়ারা। যথারীতি এক দিকে যখন বাংলা বিশ্ব বাণিজ্য সম্মেলন নিয়ে মেতে রয়েছে রাজ্য, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে যেন বেলা বাড়ার সঙ্গে ততই বাড়ছে বিক্ষোভের আঁচ। বাম ছাত্র সংগঠন এসএইআইয়ের তরফে জানানো হয়েছে, আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি তারা এই একই দাবিতে রাজভবন চলোর ডাক দিয়েছে।

গত সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা বিভাগ ও ইঞ্জিনিয়ারিং এবং তথ্য প্রযুক্তি বিভাগের ছাত্র-ছাত্রীরা দাবি জানিয়েছেন, জোর করে চাপিয়ে দেওয়া ছাত্র কাউন্সিলের প্রস্তাব প্রত্যাহার করতে হবে। পরিবর্তে ফিরিয়ে নিয়ে আসতে হবে ছাত্র সংসদক নির্বাচনকেই। গত বছর রাজ্য সরকার এ বিষয়ে একটি বিল পাশ করে নেওয়ার পর থেকেই বিরোধী ছাত্র সংগঠনগুলি প্রতিবাদ জানিয়ে আসছে। সম্প্রতি একটি নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে, আগামী ৩১ জানুয়ারির পর থেকে নির্বাচিত ছাত্র সংসদের আর কোনো অস্তিত্ব থাকবে না। তার জায়গা দখল করবে ছাত্র কাউন্সিল নামের ওই সরকার নির্ধারিত কমিটি। প্রতিবাদী পড়ুয়াদের দাবি, তাঁরা বেশ ভালো ভাবেই জানেন, সরকার নিজের হাতে গড়ে দেওয়া কাউন্সিলের মাধ্যমে ছাত্রদের দাবি-দাওয়াগুলোর টুটি চেপে ধরবে।

কলা বিভাগের ছাত্র সংসদের সাধারণ সম্পাদক দেবরাজ দেবনাথ বক্তব্য, কাউন্সিল তৈরির প্রয়োজনীয়তা বোঝাতে সরকার বলেছে, এই ধরনের কমিটি হবে পুরোপুরি অ-রাজনৈতিক। কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ে সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে যে ধরনের হিংসাত্মক ঘটনা ঘটে থাকে তা এড়াতেই এই অ-রাজনৈতিক কাউন্সিল গঠন। কিন্তু যাদবপুরের নির্বাচনে এ ধরনের  ঘটনা আগে কখনও ঘটেনি।

পড়ুয়াদের দাবি, তাঁদের অন্ধকারে রেখেই গেজেট নোটিফিকেশন করেছে উচ্চ শিক্ষা দফতর। এই গা-জোয়ারি ব্যবস্থাকে কোনো ভাবেই মেনে নেবে না বাম ছাত্র সংগঠন এসএফআই। নতুন সরকারি আইনকে তারা দেখছে কলেজ ক্যাম্পাসের ভিতর পড়ুয়াদের কণ্ঠরোধ করার যন্ত্র হিসাবে। সংগঠনের রাজ্য সম্পাদক মণ্ডলীর সদস্য সৃজন ভট্টাচার্য বলেন, কাউন্সিল চাই না, ছাত্র সংসদ ফেরানোর দাবিতে এসএফআই আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি রাজভবন যাচ্ছে। শিয়ালদহ স্টেশন থেকে দুপুর একটায় শুরু হবে ওই মিছিল।

উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন