এ কোন শান্তিনিকেতন! দোলে বেলেল্লাপনায় অশান্ত হয়ে উঠল রবীন্দ্রভূম, সোশ্যাল মিডিয়া জুড়ে ক্ষোভ

1

ওয়েবডেস্ক: বসন্ত উৎসব মানেই বাঙালির কাছে শান্তিনিকেতন। দোলের দিন সকালে ‘ওরে গৃহবাসী…’ গেয়ে যে উৎসবের সূচনা। তার পর একে অপরকে আবির মাখিয়ে দেওয়া। এই নিয়েই শান্তিনিকেতন। কিন্তু বৃহস্পতিবার বসন্ত উৎসবের নামে চূড়ান্ত বেলেল্লাপনায় অশান্ত হয়ে উঠল শান্তিনিকেতন। এর প্রতিবাদেই ফেসবুক জুড়ে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন নেটিজেনরা।

যারা বহু বছর ধরে শান্তিনিকেতন দেখছেন, তাঁদের অনেকেরই অভিযোগ, বৃহস্পতিবারের মতো পরিস্থিতি আগে কখনও দেখা যায়নি। যেখানে হুজুগে মানুষের ভিড়ে মিশে গিয়েছে মদ্যপ যুবক। তরুণী-যুবতীদের উদ্দেশে ভেসে আসছে কটূক্তিও। রবীন্দ্রসংগীতের বদলে জায়গা করে নিয়েছে হিন্দি গান। সেই সঙ্গে উঠছে ‘জয় শ্রী রাম’ ধ্বনিও।

জনৈক শৈবাল ঘোষ ফেসবুকের একটি গ্রুপে তাঁর এক বন্ধুর অভিজ্ঞতার কথা লিখেছেন। তিনি বলেন, “গত কাল আমার বন্ধু নিজের স্ত্রী, পুত্র, পুত্রবধূকে নিয়ে শান্তিনিকেতনে বহু ঝামেলা করে বহু টাকা দিয়ে, একটা ঘর জোগাড় করে বহু দিনের স্বাদ শান্তিনিকেতনে কবিগুরুর স্মৃতি বিজড়িত দোল উৎসব দেখতে গিয়েছিল গাড়ি নিয়ে। আজ সকালে ফোনে জানাল, চরম সমস্যায় পড়েছে পরিবার নিয়ে। দোল খেলার নামে চূড়ান্ত নোংরামি চলছে। সকাল এগারোটা নাগাদ সফর বাতিল করে কলকাতার রাস্তা ধরেছে ওরা।”

কলকাতার বাসিন্দা শাম্মি হুদা বিশ্বভারতীর প্রাক্তনী। নিজের পুরোনো শান্তিনিকেতনকে কিছুতেই চিনতে পারছেন না তিনি। হিন্দি গান গাইতে গাইতে কী ভাবে কেউ শান্তিনিকেতনের বসন্ত উৎসবে আসতে পারে, সেই প্রশ্ন করেছেন তিনি। সেই সঙ্গে তিনি আরও বলেন, “উপাচার্যের পায়ে আবির না পড়লে আমাদের আবির মাখানো শুরু হত না। এ দিকে সেই ভোরেই দেখছি রং মেখে ভূত হয়ে আশ্রম মাঠে চলে এসেছে। একজন তো হাতিপুকুরের কোণ বরাবর মাঠে বসে গাঁজায় দম দিচ্ছে, আর একজন বোতলের সংখ্যা গুনছে।” নিজের চেনা শান্তিনিকেতন থেকে কোনো ভাবে পালিয়ে আসতে হয়েছে বলে জানান শাম্মি।

আরও পড়ুন এসএসসি চাকরিপ্রার্থীদের অনশন তোলার আর্জি শিক্ষামন্ত্রীর

শুভদীপ চৌধুরী নামক জনৈক ব্যক্তি লেখেন, “লিখতে বাধ্য হচ্ছি আজকের ভয়াবহ অবস্থার জন্য। এ কোন শান্তিনিকেতন, এ কী সংস্কৃতি, শুধু বাইক বাহিনীর তাণ্ডব, জিন্স পরিহিত, মদ্যপ রবীন্দ্রানুরাগীর ভিড়। শান্তিনিকেতনে গিয়ে দোল খেলা বর্তমানে একটি স্ট্যাটাসে পরিণত হয়েছে।” এ রকম ভাবে চলতে থাকলে শান্তিনিকেতনের ঐতিহ্য অচিরেই নষ্ট হবে বলে দুঃখপ্রকাশ করেছেন তিনি।

মানুষের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশটা শুধুমাত্র এই তিনজনের বক্তব্য দিয়ে বোঝানো যায় না। আসলে শান্তিনিতনের সঙ্গে জড়িত সবাই ক্ষুব্ধ। প্রত্যেকেরই একটা আবেদন, বিশ্বভারতীকে যেন কোনো পর্যটনস্থল হিসেবে না দেখা হয়।

ঐতিহ্যের শান্তিনিকেতনে ‘ফেঁসে গেল কালী রামের ঢোল’ বা ‘রঙ বরসে ভিগে চুনারিয়া’ কিছুতেই মেনে নিতে পারছেন না স্থানীয় মানুষ এবং বিশ্বভারতীর প্রাক্তনীরা। এর প্রতিবাদে একটি মৌন মিছিলের দাবি করেছেন তনুশ্যাম চট্টোপাধ্যায়।

বসন্ত উৎসবের অন্য শান্তিনিকেতন দেখে সবাই ক্ষুব্ধ, বিরক্ত। ভবিষ্যতে এই ধরনের দিন যাতে ফিরে না আসে, সে জন্য বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ এবং প্রশাসনের কাছে আবেদন করেছেন তাঁরা। সবার বক্তব্য খুব পরিষ্কার, সাধের শান্তিনিকেতনকে এ ভাবে অশান্ত হয়ে উঠতে দেওয়া যাবে না।

------------------------------------------------
সুস্থ, নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার স্বার্থে খবর অনলাইনের পাশে থাকুন।সাবস্ক্রাইব করুন।
সুস্থ, নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার স্বার্থে খবর অনলাইনের পাশে থাকুন।সাবস্ক্রাইব করুন।
সুস্থ, নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার স্বার্থে খবর অনলাইনের পাশে থাকুন।সাবস্ক্রাইব করুন।
সুস্থ, নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার স্বার্থে খবর অনলাইনের পাশে থাকুন।সাবস্ক্রাইব করুন।

1 COMMENT

  1. আমার অভিজ্ঞতা একরকম। প্রশাসন বলে কিছু ছিল না। রাস্তায় অবরূদ্ধ হয়ে ছিলাম কয়েক ঘণ্টা।
    আরো খারাপ লেগেছে যখন আবির মাখিয়ে বলে উঠছে, Happy Holi. কেন দোল নয় প্রশ্ন করায় বিদ্রুপ শুনতে হয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.