cpim's procession

নিজস্ব প্রতিনিধি: আগামী ৬ ডিসেম্বর বাবরি মসজিদ ধ্বংস হওয়ার পঁচিশ বছর পালনে দেশ জুড়ে ছ’টি বামপন্থী দল কালাদিবস পালনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কলকাতাতে এই কর্মসূচির সমর্থনে তারা কয়েকটি প্রচারসভা করার কথাও ঘোষণা করেছে। কর্মসূচি যদিও ছ’টি বামপন্থী দলের কিন্তু প্রচারসভাগুলির আয়োজন করছে সিপিএম। সেই কারণেই দলের অভ্য‌ন্তরে প্রশ্ন উঠেছে সাম্প্রদায়িকতার সচেতনতা কি কেবল সংখ্য‌ালঘু সম্প্রদায়ের মধ্য‌েই করতে হবে? সংখ্য‌ালঘুরাই কি সাম্প্রদায়িক প্রচারে সব চেয়ে বেশি বিভ্রান্ত হয়? এই প্রশ্ন ওঠার কারণ একটিই — দলের রাজ্য‌ সম্পাদকমণ্ডলী সিদ্ধান্ত নিয়েছে মূল সভাগুলি হবে শহরের সংখ্য‌ালঘু অধ্যুষিত এলাকাতে এবং প্রত্য‌েকটি সভারই মূল বক্তা হবেন মহম্মদ সেলিম।

স্থির হয়েছে সোমবার অর্থাৎ ৪ ডিসেম্বর সভা হবে কাশীপুর বিবিবাজারে। এই অঞ্চলটি সম্পূর্ণ সংখ্য‌ালঘু অধ্য‌ুষিত। চিড়িয়ামোড় থেকে শুরু করে কাশীপুর রোড, কাশীনাথ দত্ত রোড, রিজেন্ট সিনেমা, চিৎপুর থানা প্রভৃতি এলাকায় অবাঙালি সংখ্য‌ালঘু সম্প্রদায়ের মানুষজনের দীর্ঘদিনের বসবাস। ৫ ডিসেম্বর মঙ্গলবার সভা হবে দু’টি। একটি তোপসিয়ায় বিকেল পাঁচটায়, অন্য‌টি রাজাবাজার অঞ্চলে, সন্ধ্য‌া সাতটায়। প্রশ্ন উঠেছে, সভার জন্য‌ এই স্থানগুলি নির্বাচন করার কারণ কী? শহরের সংখ্য‌াগুরু অধ্য‌ুষিত অঞ্চলেই তো বিজেপির রমরমা। এই সব এলাকাতেই তো সব চেয়ে বেশি সাম্প্রদায়িক প্রচার হয়। তা হলে কেন বড়বাজার, পোস্তা, বালিগঞ্জ,বাগবাজার বাদ দিয়ে রাজাবাজার,তোপসিয়ায় সভা হবে? বামপন্থী সংযুক্ত নেতৃত্ব কী ভাবে এই প্রস্তাব মেনে নিল তা নিয়েও উঠেছে প্রশ্ন।

সিপিএমের কলকাতা জেলা কমিটির এক বর্ষীয়ান সদস্য‌ সম্প্রতি এই নিয়ে জেলা নেতৃত্বকে একটি চিঠি দিয়েছেন। জেলা কমিটির সম্পাদক নিরঞ্জন চট্টোপাধ্য‌ায় চিঠিটি রাজ্য‌ কমিটির কাছে পাঠিয়ে দিয়েছেন। কিন্তু দলের রাজ্য‌ সম্পাদকমণ্ডলীতে এই নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি। দলের কলকাতা জেলা কমিটির ওই সদস্য‌ বলেছেন, তিনি এই একপেশে রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গির শেষ দেখে ছাড়বেন। যাঁরা এর জন্য‌ দায়ী তাঁদের জবাবদিহি করতে হবে। দলের ওই প্রবীণ নেতা প্রশ্ন তুলেছেন, “গত পুর নির্বাচন এবং বিধানসভা নির্বাচনের হিসাব নিলে দেখা যাবে বামপন্থীদের প্রভাব ক্ষয়ে গিয়ে সাম্প্রদায়িক শক্তির প্রভাব বেড়েছে উত্তর কলকাতার শ্য‌ামপুকুর, জোড়াসাঁকো বিধানসভা কেন্দ্রে। আর দক্ষিণে সাবেক বালিগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্রের অধীনস্থ ওয়ার্ডগুলিতে ও সাবেক আলিপুর বিধানসভা কেন্দ্রের অধীনস্থ অঞ্চলে। সাম্প্রদায়িকতা বিরোধী প্রচার যদি চালাতেই হয় তা হলে ওই অঞ্চলগুলিতে তা করা উচিত।”

ওই নেতা মনে করেন, সংখ্য‌ালঘু সাম্প্রদায়িকতাকে সংখ্য‌াগুরু সাম্প্রদায়িকতার ওপরে গুরুত্ব দেওয়ার কারণে এই বিভ্রান্তিমূলক অবস্থান নেওয়া হচ্ছে। এটা ঠিকই যে সংখ্য‌ালঘু সাম্প্রদায়িকতার বিপদ লঘু করে দেখার কোনো কারণ নেই, কিন্তু সংখ্য‌াগুরু সাম্প্রদায়িকতার ওপরে তাকে স্থান দেওয়ারও কোনো কারণ নেই।

দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সভার স্থান নির্বাচন নিয়ে রাজ্য‌ কমিটিতে কোনো আলোচনাই হয়নি। বিমান বসু নিজে থেকেই সভার স্থান নির্বাচন করেছেন। তিনি যে হেতু ৬টি বামপন্থীদলের মধ্য‌ে সমন্বয়ের দায়িত্বে আছেন ফলে সব ব্য‌াপারটি তিনি নিজে থেকেই সিদ্ধান্ত নিয়ে করেছেন। বিমানবাবুর বিচক্ষণতা নিয়ে কারও মনে তেমন প্রশ্ন না থাকলেও আগামী দিনের রাজনীতির দিকে তাকিয়ে ভাবনাচিন্তা করা প্রয়োজন বলে দলের প্রবীণ স্থানীয় নেতাদের একাংশ মনে করছে।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here