bengal sikkim rail project

ওয়েবডেস্ক: সব কিছু ঠিকঠাক চললে হয়তো আর কয়েক বছরের মধ্যেই সিকিমগামী যাত্রীদের নিউ জলপাইগুড়ির ওপরে ভরসা করতে হবে না। ট্রেনে করে এক্কেবারে পৌঁছে যাওয়া যাবে সিকিমে। তিব্বত সীমান্তে সেনা জওয়ান এবং অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে যেতেও হতে পারে বড়ো সুবিধা।

পশ্চিমবঙ্গের সেবক থেকে সিকিমের রংপো পর্যন্ত ৪৫ কিলোমিটার রেললাইনের কাজের প্রস্তুতি দেখতে আগামী ২ মার্চ এই অঞ্চল পরিদর্শনে যাচ্ছেন রেল বোর্ডের চেয়ারম্যান অশ্বিনী লোহানি। এই কাজে উত্তরপূর্ব সীমান্ত রেল (এনএফআর) কতটা প্রস্তুত, কবে নাগাদ তারা কাজ শুরু করতে পারে, এই সংক্রান্ত আলোচনার জন্যই এই পরিদর্শন।

সাম্প্রতিক ভারত এবং চিনের মধ্যে ডোকলাম পর্বের পর এই রেল পরিষেবা শুরু করার কাজে বিশেষ দেরি করতে চাইছে না কেন্দ্র।

উল্লেখ্য, ২০০৯-এর ৩০ অক্টোবর, তৎকালীন রেলমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই রেল প্রকল্পের শিলান্যাস করেন। মোট ১,৩৩৯ কোটি টাকা বরাদ্দের এই প্রকল্পটির কাজ শেষ করার সময়সীমা ২০১৫ রাখা হলেও, প্রকল্পের কোনো কাজই শুরু করা যায়নি।

এর নেপথ্যে ছিল পরিবেশকর্মীদের বিক্ষোভ, প্রতিবাদ। পশুপ্রেমীদের দাবি ছিল মহানন্দা অভয়ারণ্যের মধ্যে দিয়ে প্রস্তাবিত প্রকল্পের লাইন গেলে ট্রেনের তলায় পিষ্ট হতে পারে হাতি, ডুয়ার্স অঞ্চলে যেটা হামেশাই ঘটে। তবে ২০১৫-এর জুনে এই প্রকল্পের ব্যাপারে সম্মতি দেয় ‘ন্যাশনাল ওয়াইল্ডলাইফ বোর্ড’। তবে তারা জানায় গতি কমিয়ে ট্রেন চালাতে হবে এখানে। এর পরের বছরই এই প্রকল্পের ব্যাপারে সম্মতি দেয় তৎকালীন প্রধান বিচারপতি টিএস ঠাকুরের নেতৃত্বাধীন সুপ্রিম কোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ।

সেবক থেকে রংপো পর্যন্ত ৪৫ কিলোমিটার রেলপথে চারটে স্টেশন হবে – রিয়োং, গেইলখোলা, তিস্তাবাজার এবং মেলিতে। গোটা পথে ১৪টা টানেল তৈরি হবে, যার মোট দূরত্ব ৩৮ কিলোমিটার। ২৮টা রেল ব্রিজও তৈরি করা হবে।

তবে টানেল তৈরি করার জন্য বিস্ফোরক ব্যবহার যাতে না করা হয়, সেই ব্যাপারে আবেদন করেছেন জিটিএ চেয়ারম্যান বিনয় তামাং। তামাং বলেছেন গোটা পাহাড়ই ভূমিকম্প এবং ধসপ্রবণ। এখানে বিস্ফোরক ব্যবহার করা হলে পাহাড়ে বিস্তর ক্ষতি হতে পারে। তিনি বলেন, “টানেল তৈরি করার জন্য ড্রিল মেশিন ব্যবহার করা যেতে পারে।”

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here