শ্বাসকষ্ট, জ্বরে ফের শিশুমৃত্যু উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজে

0

নিজস্ব প্রতিনিধি, শিলিগুড়ি: করোনা পরিস্থিতিতে নতুন করে চিন্তা বাড়াচ্ছে শিশুদের অজানা জ্বরে মৃত্যুর মতো ঘটনা।

গত ২৪ ঘণ্টায় ফের অ্যাকিউট রেসপেরেটারি ইনফেক্সন (এআরআই) বা জ্বর,সর্দি, কাশি, শ্বাসকষ্ট জনিত ভাইরাস ঘটিত রোগে আক্রান্ত হয়ে উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে মৃত্যু হল এক শিশুর। গত দশ দিনে এই নিয়ে এই অজানা ভাইরাস ঘটিত জ্বর, সর্দি, স্বাসকষ্ট জনিত রোগে মৃত্যু হয়েছে আট জন শিশুর। স্বভাবতই চিন্তার ভাঁজ পড়েছে স্বাস্থ দফতরের কপালে।

মেডিক্যাল কলেজ সূত্রে জানা গিয়েছে, বুধবার নতুন করে মৃত শিলিগুড়ি ভক্তিনগরের বাসিন্দা, বয়স এক মাস তিন দিনের এক শিশু। দু’দিন আগে জ্বর, সর্দি, শ্বাসকষ্ট বা এআরআই জনিত ভাইরাস ঘটিত রোগ নিয়ে মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে ভরতি করা হয় শিশুটিকে। এ দিন সকালে তার মৃত্যু হয়।

মেডিক্যাল কলেজ সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালের শিশু বিভাগে নতুন করে ৪৩টি শিশু ভরতি হয়েছে। তাদের মধ্যে জ্বর, সর্দি, শ্বাসকষ্ট উপসর্গ বা এআরআই নিয়ে ১৩টি শিশু ভরতি হয়েছে। সেই সঙ্গে গত ১০ দিনে এআরআই-আক্রান্ত হয়ে উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে মৃত্যু হয়েছে আটটি শিশুর।

এই মুহুর্তে জ্বর, সর্দি, কাশি, শ্বাসকষ্ট জনিত রোগের উপসর্গ নিয়ে ২৫০ জনের উপর শিশু ভরতি রয়েছে বলে মেডিক্যাল কলেজ সূত্রে জানা গিয়েছে।

এই বিষয়ে মেডিক্যাল কলেজের ডিন সন্দীপ সেনগুপ্ত বলেন, “ নানান উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে সাতটি শিশুর মৃত্যু হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় সিভিআর রেসপরেটারি নিউমেনিয়া বা মরশুমি জ্বর, সর্দি কাশি, শ্বাসকষ্ট জনিত রোগে আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে। বাকি শিশুমৃত্যুতে এই মরশুমের জ্বর, সর্দি, কাশি, শ্বাসকষ্টের কোনো সম্পর্ক নেই। মরশুমের শুরুর দিকে কিছু বাচ্চার ডেঙ্গু স্ক্রাপ টাইফাস হয়েছিল। রেসপেরেটারি সিনসিটিয়াল ভাইরাস সাসপেক্ট করা হচ্ছে। সেগুলির জন্য কিছু সাম্পেল টেস্টেও পাঠানো হয়েছে। কোভিডে কোনো শিশুর মৃত্যু হয়নি। কোভিড নিয়ে আট জন শিশু ভরতি হয়েছিল। ছ’জন ছাড়া পেয়েছে। দু’জন এখন স্বাভাবিক”।

তিনি আরও বলেন, “দুর্গাপুজোর আগে পরে একটা সিজিন্যাল ভাইরাল ইনফেকশন বা ডিজিজ হয়-ই। এই সময় সতর্ক থাকতে হবে। ইনফ্লুয়েঞ্জার টিকাকরণ চালাতে হবে। বাচ্চার বাবা-মাকে সতর্ক থাকতে হবে। আমরা চেষ্টা করছি পরিষেবা ভালো মতো দেওয়ার ব্যাপারে। আমরাও সতর্ক রেয়েছি। অনেক বাচ্চা আরও খারাপ অবস্থায় এসেছিল, তাদেরকে আমরা বাঁচাতে পেরেছি। কিন্তু কতগুলি ক্ষেত্রে আমরা বাচাতে পারিনি। কিন্তু চেষ্টার কোনো খামতি রাখিনি আমরা”।

এখানে ক্লিক করে ভিডিয়োয় দেখুন: শিশুদের ভাইরাস সংক্রমণ নিয়ে সজাগ থাকতে বললেন স্বাস্থ্য অধিকর্তা ডা. সুশান্ত রায়

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন