কলকাতা: এক দিকে সংগীত, অন্য দিকে সাংবাদিকতা। দুই জগতেই সমান ভাবে সাবলীল ছিলেন শর্মিষ্ঠা রায়। তাঁর পরিচিতির বিস্তৃতিও তাই অনেক বেশি। স্বভাবতই তাঁর প্রয়াণে সেই শূন্যস্থান পূরণ হওয়ার নয়।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ১২ জুলাই মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণের কারণে হাসপাতালে ভর্তি করা হয় শর্মিষ্ঠাকে। আইসিইউতে ভর্তি রেখে ১০ দিন ধরে চলে তাঁর চিকিৎসা। কিন্তু তাতেও হয়নি শেষরক্ষা। বৃহস্পতিবার (২১ জুলাই) আচমকাই থেমে যায় তাঁর হৃদযন্ত্র। চিকিৎসকেরা জানান, মাল্টি অর্গ্যান ফেলিওর এবং সেপসিসের আক্রমণের বিরুদ্ধে সব চেষ্টা ব্যর্থ করে শেষ নি:শ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।

বর্ণময় সংগীতজীবন

শৈশব থেকেই সংগীতচর্চা শুরু শর্মিষ্ঠার। উচ্চাঙ্গ সংগীতের তালিম নেন মালবিকা কানন এবং এটি কাননের কাছে। সংগীত রিসার্চ আকাদেমিতে থেকে সান্নিধ্যে আসেন জ্ঞানপ্রকাশ ঘোষের। এমনকী সুধীন দাশগুপ্তের কাছে তামিল নেন বাংলা গানের। কৈশোর থেকেই আকাশবাণীর বিভিন্ন গানের অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ। আকাশবাণী কলকাতার বিভিন্ন অনুষ্ঠান করেন। দিল্লি কেন্দ্রেও দীর্ঘদিন ভজন পরিবেশন করতেন। শারদীয় এবং শীতকালীন গানের অনুষ্ঠান করেছেন। কলকাতাতেও করেছেন একক অনুষ্ঠান। শ্রীকান্ত আচার্য এবং শ্রাবণী সেনের সঙ্গে দু’টি মিউজিক অ্যালবামেও কাজ করেন।

স্নেহচ্ছায়া পেয়েছিলেন পণ্ডিত রবিশংকর, আলি আকবর, সলিল চৌধুরী, হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের মতো কিংবদন্তি শিল্পীদের। এমনকী, শর্মিষ্ঠার গান শোনানোর আসরে সুচিত্রা মিত্র তাঁর গান শুনে আশীর্বাদও করেছিলেন।

সুদীর্ঘ সাংবাদিকজীবন

দিল্লিতে ছিলেন প্রায় ২৬ বছর। সে সময় গান ছাড়াও বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে সাংবাদিকতা করেন। ‘সত্যযুগ’ পত্রিকায় রিপোর্টিং, সংগীত সমালোচনা এবং সম্পাদকীয় বিভাগে কাজ করেন দীর্ঘকাল। পরে যুক্ত হন ‘কলকাতা’ পত্রিকায়। ওই পত্রিকার মহাকরণ প্রতিনিধি ছিলেন শর্মিষ্ঠা। সোমনাথ চট্টোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে যাদবপুর কেন্দ্রে সে বার প্রার্থী হয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। মমতার সাক্ষাৎকার নিয়েছিলেন শর্মিষ্ঠা। এই পত্রিকাতে কাজের সময়েই তিনি জ্যোতি বসু, বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের মতো রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের সান্নিধ্য পান।

এ ছাড়াও দিল্লিতে তিনি আকাশবাণীর বাংলা বিভাগে নিউজ রিডারের কাজেও যুক্ত ছিলেন। আবার সেখানে থাকাকালীন ‘জনকণ্ঠ’-সহ বাংলাদেশের বিভিন্ন পত্রিকার প্রতিনিধিত্বও করেন।

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন