inaguration of 'sapahat'

নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁকুড়া: এক জায়গা থেকে যাতে সব ধরনের সহায়তা দেওয়া যায়, তার জন্য চালু হল একক-কেন্দ্রিক সহায়তা কেন্দ্র। রাজ্যের মধ্যে প্রথম বাঁকুড়ার জঙ্গলমহলে খাতড়া মহকুমাশাসকের দফতরে চালু হল এই কেন্দ্র। শনিবার এই সহায়তা কেন্দ্রের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন রানিবাঁধের বিধায়ক জ্যোৎস্না মান্ডি।

প্রত্যন্ত দক্ষিণ বাঁকুড়ার আদিবাসী অধ্যুষিত এলাকা খাতড়া মহকুমা। এত দিন পর্যন্ত এখানকার মানুষদের সরকারি দফতরে গিয়ে সরকারি সাহায্য পেতে নানা সমস্যার মুখে পড়তে হত। সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পেতে এক টেবিল থেকে আর এক টেবিল ছুটে বেড়াতে হত এই সহজ সরল মানুষগুলোকে। তাই জঙ্গলমহলের মানুষের কথা মাথায় রেখেই বর্তমান সরকারের উদ্যোগে এবং বিধায়ক জ্যোৎস্না মান্ডির সক্রিয়তায় ‘একক-কেন্দ্রিক সহায়তা কেন্দ্র’ স্থাপিত হল। এ দিনের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাঁকুড়ার জেলাশাসক উমাশঙ্কর এস, খাতড়ার মহকুমাশাসক রাজু মিশ্র, খাতড়ার সমষ্টি উন্নয়ন আধিকারিক বিশ্বজিৎ মল্লিক ও এই কেন্দ্রের সৌন্দর্যায়নের রূপকার তথা খ্যাতিনামা শিল্পী চন্দন রায় প্রমুখ।

wall of sapahat decorated by adivasi painting
আদিবাসী চিত্রকলায় সজ্জিত ‘সপহৎ’-এর দেওয়াল।

এ দিন সাংবাদিক বৈঠকে বিধায়ক জ্যোৎস্না মান্ডি বলেন, এই প্রকল্পের নাম দেওয়া হয়েছে ‘সপহৎ’। এটি একটি সাঁওতালি শব্দ। এর অর্থ ‘সাহায্য করা’। এত দিন পর্যন্ত জঙ্গলমহলের সাধারণ মানুষকে তাদের বিভিন্ন কাজের জন্য বিভিন্ন জায়গায় ছোটাছুটি করতে হত। সে জন্যই তাদের কথা ভেবে এই কেন্দ্র চালু করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়। জেলাশাসক ড.উমাশঙ্কর এস বলেন, জঙ্গলমহলের মানুষ এখন থেকে যাতে এক ছাতার নীচে থেকে সব ধরনের সরকারি কাজে সহায়তা পেতে পারেন সেই জন্যই একক-কেন্দ্রিক সহায়তা কেন্দ্র চালু করা হল। জেলাশাসকের কথায়, শুধু বাঁকুড়া জেলা নয়, এ রাজ্যেই এ ধরনের পরিষেবা এই প্রথম চালু হল। পরবর্তী পর্যায়ে জেলার বাকি দুই মহকুমা ও ব্লক স্তরেও এই ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। একই সঙ্গে তিনি আরও বলেন, আদিবাসী সম্প্রদায়ের মানুষের জন্য এই পরিষেবা চালু হলেও বরিষ্ট নাগরিক ও প্রতিবন্ধীরাও এখান থেকে এই পরিষেবার সুযোগ পাবেন।

বিশিষ্ট শিল্পী চন্দন রায় বলেন, এই সহায়তা কেন্দ্র আদিবাসী সমাজের জন্য। তাই ‘সপহৎ’-এর দেওয়াল সাজানো হয়েছে আদিবাসী লোকসংস্কৃতি, আদিবাসী চিত্রকলা ও বিভিন্ন ধরনের ছবি দিয়ে। প্রথম দর্শনে যাতে বোঝা যায় এই কেন্দ্র মূলত আদিবাসী সমাজের জন্য তাই এই ভাবে সৌন্দর্যায়ন।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here