এখনই নয়, ষষ্ঠ রাজ্য বেতন কমিশনের সুপারিশ হতে পারে লোকসভা ভোটের আগে: বিশেষ রিপোর্ট

0
63288

বিশেষ সংবাদদাতা,কলকাতা:  মহার্ঘভাতায় ঘাটতি রয়েছে ৫৪%। তা নিয়ে অসন্তোষ ও হতাশা রয়েছে রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের। সকলেরই মনে প্রশ্ন, ষষ্ঠ বেতন কমিশনের কাজকর্মের হাল হকিকত নিয়ে। কবে সামনে আসতে পারে কমিশনের সুপারিশ? তা নিয়ে চর্চা শোনা যাবে রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের আলোচনায় কান পাতলেই। কিন্তু না, এখনই তেমন কোনো সম্ভাবনা নেই। যাকে বলে, দিল্লি বহুত দূর।

রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের আগে, ২০১৫ সালের ২৭ নভেম্বর গঠিত হয় ষষ্ঠ বেতন কমিশন। কমিশনের চেয়ারম্যান করা হয় অর্থনীতিবিদ অভিরূপ সরকারকে। কমিশন গঠিত হওয়ার পর থেকে বিভিন্ন ইউনিয়ন, সরকারি কর্মচারী সংগঠন ও বেশ কয়েকজন ব্যক্তি কমিশনে তাঁদের দাবিপত্র ও স্মারকলিপি পেশ করে। দাবিপত্র ও স্মারকলিপির মোট সংখ্যা প্রায় ১০০০-এর কাছাকাছি। সেই দাবিপত্রগুলির ওপর ভিত্তি করে কমিশনে শুনানি শুরু হয়েছে গত বছরের সেপ্টেম্বর থেকে। এখনও পর্যন্ত মাত্র ৩০০টি শুনানি সম্পূর্ণ হয়েছে। বাকি রয়েছে প্রায় ৭০০টি। সব শুনানি শেষ করলেই কাজ শেষ নয়। তার পর থাকছে রাজ্য সরকারের বিভিন্ন দফতরের পৃথক পৃথক প্রস্তাব। সেই প্রস্তাবগুলি নিয়ে সরকারের ৫১টি দফতরের সঙ্গে আলাদা আলাদা করে বৈঠক করবে কমিশন।

নবান্ন ও কমিশন সূত্রে জানা গেছে, কমিশন তাঁর সুপারিশ করতে পারে ২০১৮ সালের শেষ দিকে। অর্থাৎ ২০১৯-এর লোকসভা ভোটের আগে। রাজ্য সরকার অর্থাৎ শাসক তৃণমূল কংগ্রেসেরও মাথায় রয়েছে লোকসভা নির্বাচন। তাই এ ব্যাপারে কোনো তাড়াহুড়ো করতে চান না মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

ইতিমধ্যে সরকারের ১০-১২টি দফতর তাঁদের প্রস্তাব মুখ্যমন্ত্রীর দফতরে পাঠিয়ে দিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর দফতর থেকে সেগুলি কমিশনে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। গোটা প্রক্রিয়াটিই অত্যন্ত দীর্ঘ।

কমিশনের চেয়ারম্যান অভিরূপ সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি খবর অনলাইনকে জানান, কমিশনের কাজ কবে শেষ হবে তা এখনই নির্দিষ্ট করে বলা সম্ভব নয়। তবে যত দ্রুত সম্ভব কাজ শেষ করার চেষ্টা চলছে।

তবে নবান্ন ও কমিশন সূত্রে জানা গেছে, কমিশন তাঁর সুপারিশ করতে পারে ২০১৮ সালের শেষ দিকে। অর্থাৎ ২০১৯-এর লোকসভা ভোটের আগে। রাজ্য সরকার অর্থাৎ শাসক তৃণমূল কংগ্রেসেরও মাথায় রয়েছে লোকসভা নির্বাচন। তাই এ ব্যাপারে কোনো তাড়াহুড়ো করতে চান না মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কেন্দ্রের বেতন কমিশনের সুপারিশে লক্ষ রেখে, সব দিক খতিয়ে দেখেই ষষ্ঠ বেতন কমিশনের সুপারিশ কার্যকর করতে চায় রাজ্য। রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের সর্ব স্তরের কর্মীদের বেতনবৃদ্ধিতে যাতে সামঞ্জস্য থাকে, সে ব্যাপারে অত্যন্ত সতর্ক নবান্ন।

কমিশন তাঁর কাজ শেষ করে সুপারিশ পাঠাবে অর্থ দফতরে। অর্থ দফতর থেকে সেই সুপারিশ যাবে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে। তার পর সেই সুপারিশ নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বৈঠক করবেন অর্থমন্ত্রী, অর্থসচিব, কমিশনের চেয়ারম্যান প্রমুখ উচ্চপদস্থ কর্তাদের সঙ্গে। তার পরই কমিশনের সুপারিশ কার্যকর করা নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে।

এক ক্লিকে মনের মানুষ,খবর অনলাইন পাত্রপাত্রীর খোঁজ

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here