লকাতা: উত্তরবঙ্গে চরকি পাক খাচ্ছেন রাজনৈতিক দলবদলের স্বনামধন্য কারবারি মুকুল রায়। আপাত দৃষ্টিতে ধারণা করা হচ্ছে, পঞ্চায়েত নির্বাচনের আগে যত বেশি সংখ্যক বিক্ষুব্ধ তৃণমূলিকে গেরুয়া শিবিরে টেনে নিয়ে আসাই হতে পারে তাঁর লক্ষ্য। গত বৃহস্পতিবার শিলিগুড়ির মহামিছিল থেকেই বিজেপি শিবিরে টেনে নিয়েছেন স্থানীয় বেশ কয়েক জন বিক্ষুব্ধ তৃণমূল নেতা-নেত্রীকে। আজ তৃমমূল ভবনে খোদ বিজেপির অন্দর মহল থেকে তাদের এক বিশিষ্ট নেতাকে নিজেদের দলে নাম লেখালেন তৃণমূল রাজ্য সাধারণ সম্পাদক পার্থ চট্টোপাধ্যায়। প্রশ্ন উঠছে, তবে কি মুকুলের কৌশলই ব্যুমেরাং হিসাবে ফিরিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা ধরে তৃণমূলও, সেই বার্তাই পৌঁছে দিলেন পার্থবাবু।

গত পরশু দিন শিলিগুড়িতে মুকুলবাবুর হাত ধরে বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন রাজগঞ্জের প্রবীণ তৃণমূল নেত্রী শিখা চট্টোপাধ্যায় এবং ময়নাগুড়ির নেতা শিবশঙ্কর দত্ত। সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, গত কালও জলপাইগুড়ি ও আলিপুরদুয়ারের একাধিক তৃণমূল নেতৃত্বের সঙ্গে গোপন বৈঠক করেছেন তিনি।তাঁদের মধ্যে রয়েছেন বেশ কয়েকজন পঞ্চায়েত, পঞ্চায়েত সমিতি, পুরসভা থেকে শুরু করে জেলা পরিষদ সদস্যও। তবে শিখাদেবী বা শিবশঙ্করবাবুর দলত্যাগের কথা স্বীকার করে নিলেও অন্য কোনও তৃণমূল নেতার ওই গোপন কার্যকলাপের কথা মানতে চাননি তৃণমূলের জলপাইগুড়ি জেলা সভাপতি সৌরভ চক্রবর্তী।

তা যাই হোক, আজ দ্বিপ্রহরে তৃণমূল ভবনে অবসর প্রাপ্ত কর্নেল দীপ্তাংশু চৌধুরীর তৃণমূলে যোগদান, বেশ কয়েকটি কারণে ইঙ্গিতবাহী। কারণ, দীপাংশুবাবু গত ২০১৬ সালে আসানসোল দক্ষিণ কেন্দ্রে বিজেপির প্রার্থী হিসাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। ওই কেন্দ্রে তৃণমূল প্রার্থী তাপস বন্দ্যোপাধ্যায় জয়লাভ করেন। তবে এই নির্বাচনী কাণ্ড নয়, দীপ্তাংশুর তৃণমূলে প্রত্যাবর্তনের মহিমা অন্য জায়গায়।

কার্গিল যুদ্ধের নায়ক দীপ্তাংশুবাবু মুকুল রায়ের ঘনিষ্ঠ হিসাবে একদা পরিচিত ছিলেন। এমনকী মুকুলবাবু যখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে দূরত্ব বজায় রেখে নতুন দল গড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন, তখন তাঁর পাশে ছিলেন দীপ্তাংশুবাবু। তিনি মুকুলবাবুকে বুঝিয়ে ছিলেন, এমন একটা দল গঠন করা হোক, যা বিজেপির সঙ্গে এক যোগে লড়াই করতে পারে।

আর আজ সেই নতুন দলের ইস্তেহার রচনাকারী অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল নিজেই বিজেপি ত্যাগ করলেন, যখন তাঁর প্রাক্তন ‘জেনারেল’ বিজেপির সংসার উপচে দেওয়ার জন্য তৃণমূলের ঘরেই সিঁধ কাটছেন।

dailyhunt

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন